
মধ্যপ্রদেশের চারবারের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহন।
শেষ আপডেট: 9 June 2024 22:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় সন্ধেয় নয়াদিল্লির রাইসিনা পাহাড়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের উঠোনে যাঁরা উপস্থিত থাকলেন, তাঁরা হয়তো আরও বেশি উপভোগ করলেন। যাঁরা টিভির পর্দায় দেখলেন, তাঁদের কানকেও হয়তো ফাঁকি দেয়নি এই হাততালি, চিৎকার ও উল্লাস।
নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন মধ্যপ্রদেশের চারবারের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহন। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, নিতিন গডকড়ীর পর শপথ নেওয়ার তালিকায় তাঁর নাম ছিল পঞ্চম স্থানে। এদিন তাঁর নাম ঘোষণা হতেই যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। শিবরাজও মনে মনে নিশ্চয়ই খুশি হলেন।
শিবরাজ বরাবরই ছিলেন সাদামাটা। মধ্যপ্রদেশে উমা ভারতী, বাবুলাল গৌড়রা ফেল করার পর অটল বিহারী ২০০৫ সালে শিবরাজ সিং চৌহানকে পাঠিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশ মুখ্যমন্ত্রী করে। তার পর থেকে পর পর চারটি মেয়াদ মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শিবরাজ। ২০২৩ সালে মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা ভোটে সবাই যখন আন্দাজ করছিল যে বিজেপি হেরে যাবে, তখনও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভোট টেনে স্যুইপ করেছেন তিনি। কিন্তু তার পর শিবরাজকে আর মুখ্যমন্ত্রী করেননি মোদী-শাহ। তাতেই অনেকের মনে হয়েছিল অবিচার হচ্ছে শিবরাজের সঙ্গে। মধ্যপ্রদেশ জুড়ে অসন্তোষ চাড়িয়ে গেছিল।
তবু শিবরাজ বিদ্রোহে হাওয়া দেননি। সবুর করেছিলেন। অনেকের মতে, লোকসভা ভোটে মধ্যপ্রদেশের সব আসনে বিজেপি জেতার পর তাঁকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। শিবরাজ নিজে জিতেছেন ৮ লক্ষেরও বেশি ব্যবধানে। তা ছাড়া এও বোঝা যাচ্ছে যে শিবরাজকে যাতে গুরুত্ব দেওয়া হয় তার জন্য সঙ্ঘ পরিবারেরও চাপ ছিল।
মধ্যপ্রদেশে শিবরাজ ‘মামা’ ও ‘ভাইয়া’ বলে পরিচিত। সঙ্ঘ পরিবার তথা আরএসএসে হাতেখড়ি খুব কম বয়সে। তার সাতের দশক থেকে ছাত্র রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ইমার্জেন্সির সময় গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে প্রথমবার মধ্যপ্রদেশের বুদনি বিধানসভায় জেতেন শিবরাজ। পরে ৯১ সালে মধ্যপ্রদেশের লোকসভা আসনে জেতেন। সেই থেকে একটানা চোদ্দ বছর সাংসদ ছিলেন শিবরাজ। এখন দেখার তাঁকে কোন মন্ত্রকের দায়িত্ব দেন মোদী। পর্যবেক্ষকরা অনেকে মনে করছেন, গ্রামোন্নয়ন বা সামাজিক ন্যায়ের মতো মন্ত্রক দেওয়া হতে পারে তাঁকে।