
শেষ আপডেট: 29 September 2021 07:04
এমনকি তথ্য বলছে, ভারতবর্ষে এই হৃদরোগের যা পরিসংখ্যান, তা রীতিমতো ভীতিপ্রদ। সারা বিশ্বের হৃদরোগের রাজধানী হয়ে উঠেছে আমাদের দেশ। এ দেশে রোগের সংখ্যা যেমন বেশি, বেশি মৃত্যুও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মূল কারণ সচেতনতার অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল।
নতুন এই পদ্ধতির নাম বায়োরিসর্বেবল স্ক্যাফোল্ড, সংক্ষেপে বিআরএস। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে চিকিৎসা করা যাবে হার্ট ব্লকেজের। হার্টে ব্লক হলে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসানোর পদ্ধতি সুপ্রচলিত। তবে এই স্টেন্ট বসানোর কিছু সমস্যার দিকও থাকে। সে সব সমস্যা পার করে এসেছে বিআরএস। এই পদ্ধতিতে হার্টের ধমনীর ব্লক খোলা যাবে স্টেন্ট বসানোর মতো করেই, তবে স্টেন্টের মতো কোনও কিছুই ধমনীতে থেকে যাবে না চিরকারলের মতো। বরং সেই বস্তুটি সময়ের সঙ্গে শরীরেই মিলিয়ে যাবে! অর্থাৎ কোনও চিহ্ন মাত্র রইবে না অস্ত্রোপচারের, আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে হার্ট!
আরও পড়ুন: বয়ঃসন্ধির দিকে এগোচ্ছে মেয়ে, বদল আসছে শরীর-মনে, ওকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?
ডক্টর দিলীপ কুমার বলছিলেন, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি একটি জীবনদায়ী থেরাপি। কোটি কোটি মানুষ এইভাবেই বেঁচে আছেন। কিন্তু এই স্টেন্টের কিছু সমস্যাও থাকে। থ্রম্বোসিস তার অন্যতম। আর কারও বুকে যদি একবার ব্লকেজের পরে ফের ব্লকেজ ধরা পড়ে, তার জেরে একাধিক স্টেন্ট বসানো হয়, তবে সে রোগী অনেক সমস্যায় পড়েন। এই জায়গা থেকেই এসেছে আধুনিকতর বিআরএস পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বুকে বসানো স্টেন্টটি মিলিয়ে যাবে। এটি কোনও ধাতব বস্তু নয়। বিশেষভাবে তৈরি স্টেন্টটি কোনও রকম সমস্যা করবে না হার্টে। অনেক সময়ে হার্টের সাধারণ মুভমেন্টে সমস্যা হয় স্টেন্টের উপস্থিতি। এই বিআরএস-এ সেই সম্ভাবনাই নেই। কয়েক বছর পরে রোগী আদৌ বুঝতেই পারেন না, তাঁর হার্টে কোনও রকম অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে।
দেখুন, কী বলছেন ডাক্তারবাবুরা।
https://www.youtube.com/watch?v=KzhcE602FSI
চিকিৎসকরা বলছেন, এই নতুন যুগান্তকারী পদ্ধতিতে চিকিৎসা বিজ্ঞান কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল। যাঁদের একবারের বেশি বার ব্লকেজ ধরা পড়ে হার্টে, যাঁদের বয়স বেশি নয়, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত উপযোগী। সবচেয়ে বড় কথা, এই আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতীয় চিকিৎসা-সংস্থার নাম। এখন সারা বিশ্বে এটি সমাদৃত।
এই শহরেও এই পদ্ধতি এসে গেছে ডক্টর কুমার, ডক্টর হাজরাদের হাত ধরে। মেডিকা, আমরি এবং আরও কিছু হাসপাতালে এই নতুন বিআরএস পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার হয়েছে বেশ কিছু। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রোগী ভাল আছেন, সুস্থ আছেন। কোনও রকম অসুবিধা দেখা যায়নি অস্ত্রোপচারের পরে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'