
শেষ আপডেট: 29 September 2021 14:00
পোর্সেলিনের পাত্র, চায়ের কাপে তুফান তুলেই বাঙালির কত না আড্ডা, সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক। ঘন দুধ দিয়ে সাদা চায়ের প্রতি মোহ কোন বাঙালির নেই! তবে স্বাস্থ্য সচেতনরা একটু সমঝে চলেন। সেক্ষেত্রে গ্রিন টি (Green Tea), নানা রকম হার্বাল টি-এর চাহিদা বাড়ছে।
কালের নিয়মে যেমন রুচিতে বদল এসেছে, তেমনি খাদ্য ও পানীয়ের গুণাগুন বিচার করে তবেই তার ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়েছে মানুষ। চা-ও সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। আম বাঙালির বৈঠকি আড্ডায় চা আর এখন শুধু বিনোদনের সঙ্গী নয়, স্বাস্থ্য সচেতন ডায়েটেও জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে শরীরের জন্য দারুণ কার্যকরী গ্রিন টি। ওজন কমানো থেকে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ, হজমে সাহায্য এবং কোলেস্টেরল কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে গ্রিন টি।
গ্রিন টি-এর গুণ অনেক। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান অসুখবিসুখ সারায়। অম্বল-বুকজ্বালা সারাতে পারে।
ওজন কমায়
মেটাবলিজমের মাত্রা বাড়িয়ে দ্রুত ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি পলিফেনল ও ফ্লাভেনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে পরিপূর্ণ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।
কোলেস্টেরল রাখে বশে
আমাদের শরীরে দু’রকমের লাইপোপ্রোটিন থাকে যা কোলেস্টেরল সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। একটা হল লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (এলডিএল) যাকে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। অন্যটা, হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (এইচডিএল) যাকে ভাল কোলেস্টেরল বলে। যদি শরীরে এলডিএলের পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে নানা রোগ ধরতে শুরু করে। হার্ট ফেলিওরের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গ্রিন টি রক্ত চলাচলকেও স্বাভাবিক রাখতে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এর ফলে দেহের হৃদরোগের আশঙ্কা কমতে থাকে।
গলার সংক্রমণ কমায়
গ্রিন টির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে মুখের ভিতরের দুর্গন্ধ দূর হয়। আশঙ্কা কমে গলার সংক্রমণেরও।
অবসাদ দূরে রাখে
অবসাদ দূর করতে গ্রিন টি অত্যন্ত কার্যকরী। এর মধ্যে থাকা ‘থায়ানিন’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডটি অবসাদ, স্ট্রেস দূর করতে সাহায্য করে।