দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার রক্তপরীক্ষা করেই জানা যেতে পারে কোনও রোগীর অ্যালঝাইমার অসুখটি হয়েছে কিনা! এমনটাই দাবি করছেন সুইডেন এবং ব্রিটেনের একদল বিজ্ঞানী। সোমবার তাঁরা জানিয়েছেন, এই গবেষণা যদি সফল হয়, তাহলে তা চিকিতসার ইতিহাসকেই বদলে দেবে। এই অসুখের সঙ্গে লড়াই আরও অনেক সহজ হয়ে যাবে।
তথ্য বলছে, পৃথিবীতে গড়ে ৫ কোটি মানুষ এই অসুখের শিকার। বিশ্বের ডিমেনশিয়া আক্রান্ত মানুষের তুলনায় এই সংখ্যাটা দ্বিগুণেরও বেশি। এত মানুষের মস্তিষ্ক রোজ ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
এই অসুখের সম্পূর্ণ কার্য-কারণ এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে উন্মুক্ত নয়। ব্রেনের প্রোটিনের ঘাটতি একটি কারণ বলে নির্ণীত হলেও, এটাই যে নিউরোনের মৃত্যু ঘটার কারণ, তা এখনও ১০০ শতাংশ নিশ্চিত ভাবে সামনে আসেনি।
কিন্তু গবেষকরা বলছেন, যে সমস্ত প্রোটিনের অভাবে এই অসুখ ঘনায় বলে মনে করা হচ্ছে, সেসব প্রোটিনের মধ্যে কয়েকটির খোঁজ মিলেছে রোগীর রক্তে। রক্তে সেই সব প্রোটিন কোনটি কতটা করে আছে, তা নির্ধারণ করে অসুখটি চিহ্নিত করা যেতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন গবেষকরা। আর এটা যদি সত্যিই করা যায়, তাহলে অ্যালঝাইমার রোগের সমস্ত লক্ষ্মণ প্রকট হওয়ার অনেক আগে থেকেই একে ধরতে পারা যাবে। প্রয়োজনীয় চিকিতসা শুরু করা যাবে।
‘নেচার এজিং’ নামের জার্নালে গবেষকরা বিস্তারিত লিখেছেন, কীভাবে তাঁরা ৫৫০ জন সামান্য উপসর্গের রোগীর মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে, দুটি কী-প্রোটিনের ঘাটতি চিহ্নিত করতে পেরেছেন অ্যালঝাইমারের কারণ হিসেবে এবং রক্তে সেই প্রোটিনের খোঁজ পেয়েছেন। গত চার বছর ধরে একটানা নিরীক্ষা চালিয়ে তাঁদের এই গবেষার সাফল্য ৮৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এই গবেষণা সফল হলে আরও বহু মানুষ কম খরচে অ্যালঝাইমার অসুখ চিহ্নিত করতে পারবেন।
অ্যাসঝাইমার্স সোসাইটির প্রধান গবেষক রিচার্ড ওকলে জানিয়েছেন, এই অসুখের আসল চ্যালেঞ্জই হল, কত আগে রোগটি ধরা পড়ছে। যত আগে ধরা পড়বে, চিকিতসার সুযোগ তত বেশি। দেরি হয়ে যাওয়া মানেই ক্ষতি। তাঁর কথায়, “যদি রক্তে প্রোটিনের উপস্থিতি দিয়ে এই অসুখকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়, তাহলে এর চিকিতসায় একটা বিপ্লব আসবে। অনেক সহজে রোগীদের ট্রিট করতে পারব আমরা।”
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোলজির অধ্যাপক মুসাইড হোসেন এ বিষয়ে সোমবার বলেন, “এই গবেষণাটি ইতিহাস বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই প্রথম রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়তে চলেছে অ্যালঝাইমার। আরও অনেক আগে থেকে এবং আরও অনেক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রোগীরা ট্রিটমেন্ট পাবেন। উপসর্গ প্রকট হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না আমাদের।”