
শেষ আপডেট: 6 April 2024 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হৃদযন্ত্র, পাকস্থলী হয়ে এই ধমনী পেটের দিকে নামে। শরীরর গুরুত্বপূর্ণ ধমনীটির একটি স্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফলে শরীরের ভেতরে ছিন্নভিন্ন মহাধমনী থেকে যেমন রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, তেমনই অক্সিজেন পৌঁছতে পারছিল না বাকি অঙ্গগলিতে। সেই মহাধমনীকে জোড়া লাগানো চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। তার উপর এমন রোগের ইতিহাস আগেও ছিল মহিলার। তাই ঝুঁকি নিয়েই অপারেশন করেন নারায়ণা হাসপাতাল-আর এন টেগোরের অভিজ্ঞ কার্ডিওসার্জনরা। আর তাতে সাফল্যও আসে। মৃতপ্রায় রোগী নতুন জীবন ফিরে পান।
৪৫ বছরের মালবিকা মণ্ডলের (নাম পরিবর্তিত) ‘অ্যাওর্টিক ডিসেকশন’ সার্জারি করেছেন কলকাতার নারায়ণা হাসপাতাল-আর এন টেগোরের সিনিয়র কার্ডিয়াক সার্জন ডা. অতনু সাহা এবং তাঁর টিম। ডাক্তারবাবু জানিয়েছেন, ওই মহিলার অ্যাওর্টিক ডিসেকশনের পারিবারিক ইতিহাস আছে। এটি এমন গুরুতর শারীরিক অবস্থা যেখানে মহাধমনীর একটি অংশ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। খুব দক্ষ হাতে এর অপারেশন না হলে, রোগীর জীবন সংকটের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তবে ডা. অতনু সাহা ও তাঁর টিমের তৎপরতায় বিরল ও জটিল সার্জারি সফল হয়েছে।
ডা. অতনু জানাচ্ছেনস ১২ বছর আগেও মহাধমনীর অপারেশন হয়েছিল ওই মহিলার। সেই সময় টাইপ-এ অর্টিক ডিসেকশনের অপারশন হয়। হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা ও সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাম করে রোগ ধরা পড়ে। মহাধমনীর একটি অতি বিরল রোগ এটি। মহাধমনী বা অ্যাওর্টা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। তাই এই অসুখের দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তাই হয়েছিল রোগীর। মহাধমনীর ভেতরের অংশ ফেটে গিয়েছিল। ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত একটি অন্য চ্যানেলে প্রবাহিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত শরীরের রক্ত সরবরাহ বাধা পেতে থাকে। সেই অপারেশন তখন সফল হয়েছিল। তারপর ফের একই অবস্থা তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয়বারও অপারেশন করতে হয়।
নারায়ণা হেলথের আরএন টেগোর হাসপাতালে এবার টাইপ বি অ্যাওর্টিক ডিসেকশনের অপারেশন হয়েছে রোগীর। ডাক্তারবাবু বলছেন, মহাধমনী হল শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রক্তবাহী নালী যা হার্ট থেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে রোগীদের মহাধমনী ফেটে গিয়ে মারাত্মক অসুখের ঝুঁকি অনেক বাড়ে। মহাধমনী হল সব থেকে বড় রক্তবাহী ধমনী। হৃৎপিণ্ডের বাঁদিকের ভেন্ট্রিকল থেকে বেরিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেনযুক্ত পরিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ করাই এর কাজ। এর স্থিতিস্থাপকতা অন্য ধমনীর থেকে বেশি। এই ধমনীর কোনও অংশ দূর্বল হয়ে গেলে রক্তের চাপে তা ফেটে যেতে পারে। এই মহাধমনী যদি ফেটে যায় তাহলে রক্ত আর সুর্নিদিষ্ট পথে শরীরের অঙ্গগলিতে পৌঁছতে পারবে না। ফলে শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হতে শুরু করবে।
মহাধমনীর মোট ৩টি স্তর আছে। বাইরের দিকের স্তর ফেটে গেলেই বিপদ বাড়ে। আর তিনটি স্তর একসঙ্গে ফেটে গেলে রোগীর প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মহিলার অবস্থা অ্যাকিউট হয়ে গিয়েছিল, তাই 'স্ট্যানফোর্ড টাইপ বি' অ্যাকিউট অ্যাওর্টিক ডিসেকশনের অপারেশন করতে হয়। ১২ ঘণ্টা ধরে চলে সেই সার্জারি। মহিলার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলেই জানা গেছে।
নারায়ণা হাসপাতাল আরএন টেগোরের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অতনু সাহা বলেছেন, "রিডো সার্জারি এবং মারফান সিন্ড্রোম ছিল মহিলার। এত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অপারেশন সফল হয়েছে৷ যে কোনও জটিল কার্ডিয়াক সার্জারি করেন আমাদের অভিজ্ঞ সার্জনরা। উন্নতমানের অপারেশন ও রোগীকে সঠিক যত্ন দেওয়া হয়।" রোগী পুরোপুরি সুস্থ বলে জানিয়েছেন ডাক্তারবাবু।
নারায়ণা হেলথের গ্রুপ সিওও আর ভেঙ্কটেশ বলেন, "নারায়ণা হেলথে রোগীর সুস্থতাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। মালবিকা মণ্ডলের ক্ষেত্রে উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছেন আমাদের অভিজ্ঞ ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত নার্সেরা।"
নারায়ণা ও আরএন টেগোর হাসপাতালের ফেসিলিটি ডিরেক্টর অভিজিৎ সিপি বলেছেন, পুরো মহাধমনী প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। প্রতি পদে পদে ঝুঁকি ছিল। কিন্তু উচ্চমানের চিকিৎসা, যত্ন ও সেবায় রোগীকে নতুন জীবন দেওয়া হয়েছে।