
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 April 2025 07:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা-চিন শুল্ক যুদ্ধ অব্যাহত (USA-China Tariff War)। গত ২ এপ্রিল বহু দেশের সঙ্গে চিনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। জবাবে চিনও পাল্টা অতিরিক্ত শুল্ক চাপায় মার্কিন পণ্যের ওপর। স্পষ্ট বার্তা ছিল, তাঁরাও থেমে থাকবে না। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, এই শুল্ক চিন প্রত্যাহার না করলে বড় পদক্ষেপ নেবেন তিনি। শেষমেশ সেটাই করলেন। সে দেশের পণ্যের ওপর আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করল হোয়াইট হাউস।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বুধবার থেকেই চিনা পণ্যের ওপর শুল্কের হার হয়ে গেল ১০৪ শতাংশ। যদিও এরপরও দমে যায়নি চিন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা করে বেজিং বলছে, এটা এক ধরনের ব্ল্যাকমেলিং। এসব করে চিনকে দাবিয়ে দেওয়া যাবে না। তাঁরা এই লড়াইয়ের শেষ দেখে ছাড়বে। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করে ট্রাম্প এও জানিয়েছিলেন, বেজিংয়ের সঙ্গে যে কোনও রকম আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অন্য দেশগুলো যারা তাঁদের ওপর পাল্টা শুল্ক চাপায়নি, তাদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকবে।
চিন ছাড়া গত ২ তারিখ থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ, জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ওপর ৩৬ শতাংশ এবং সুইজারল্যান্ডের ওপর ৩১ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর শুল্কনীতি নিয়ে বেশ কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট বলেছিলেন, ভারত সহ বেশ কিছু দেশ আমেরিকার কাছ থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করে থাকে। তার বদলা হিসেবে আমেরিকাও সেইসব দেশের কাছ থেকে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আদায় করবে। যদিও নয়া শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প বলেছেন, 'আমি আদতে এদের করুণা করছি। এইসব দেশ আমাদের ওপর যে পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছে, তার অর্ধেক চাপাচ্ছি আমরা।' তাই নিজের শুল্ক ঘোষণাকে 'ডিসকাউন্টেড' বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।