Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
শয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্য

Smita Ghosh: ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কে এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী?

মার্কিন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী স্মিতা ঘোষ। কে তিনি?

Smita Ghosh: ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কে এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী?

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 2 April 2026 16:15

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) পাওয়া নিয়ে আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী, স্মিতা ঘোষ (Smita Ghosh)। ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় তিনি হয়ে উঠেছেন অন্যতম মুখ।

মার্কিন কনস্টিটিউশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি সেন্টারের সিনিয়র অ্যাপেলেট কাউন্সেল এই স্মিতা ঘোষ। তিনি ট্রাম্পের এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪১৬০-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছেন। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি সই করা হয় এই অর্ডার। এই নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর আমেরিকায় জন্ম নেওয়া এমন যে শিশুদের মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে দেশে অবস্থান করছেন এবং বাবা মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।

এই সিদ্ধান্ত সরাসরি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর বিরোধী বলে দাবি করে সম্মুখ সমরে নেমেছেন স্মিতা ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, এই সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং সেই দেশের আইনের অধীন থাকা সকল ব্যক্তিই নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধের পর এই সংশোধনী কার্যকর হয়, যা দাসপ্রথা থেকে মুক্ত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছিল।

স্মিতা ঘোষ এই আইনি লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন ১৮৪৪ সালের একটি মামলা— ‘লিঞ্চ বনাম ক্লার্ক’। এই মামলায় নিউ ইয়র্কের আদালত রায় দিয়েছিল, অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আইরিশ দম্পতির সন্তানও জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। আদালত তখন স্পষ্ট জানায়, বাবা-মায়ের স্থায়ী বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা যাবে না।

এই মামলার নজির তুলে ধরে ঘোষ যুক্তি দিয়েছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ধারণা মার্কিন আইনে বহু পুরনো এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। ট্রাম্পের নির্দেশ সেই ঐতিহ্যকে ভেঙে দিতে চাইছে।

এই মামলাটি এখন ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ নামে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আমেরিকার ২৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মৌখিক শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যা এই মামলার গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

তথ্য বলছে, আমেরিকায় প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার শিশু জন্ম নেয় এমন পরিবারে, যাদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট নয়। এই মামলার রায় সরাসরি তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

নাগরিকত্ব মামলার ট্রাম্পবিরোধী মুখ স্মিতা ঘোষের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে আইন ডিগ্রি এবং আমেরিকান লিগ্যাল হিস্ট্রিতে পিএইচডি অর্জন করেছেন। এছাড়া জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে তিনি ইমিগ্রেশন আইন পড়িয়েছেন এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও কাজ করেছেন।

তবে এত বড় মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেশ নীরব ও আড়ালেই থাকতে পছন্দ করেন।

এখন প্রশ্ন একটাই। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট কি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ঐতিহ্য বজায় রাখবে, নাকি নতুন করে সংজ্ঞা লিখবে নাগরিকত্বের?


```