দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামের বাড়িতে পড়ে আছে শুধুু বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা, আর গবাদি পশুরা। জোয়ানমদ্দ নারী, পুরুষ, শিশুরা দলে দলে পঞ্জশির উপত্যকা (panjshir valley) ছাড়ছে। খাঁ খাঁ করছে জনপদ। ওদের গন্তব্য রাজধানী কাবুল (kabul) সহ দেশের অন্য শহরগুলি। পঞ্জশির দখলকে কেন্দ্র করে তালিবান (taliban), তাদের বিরোধী প্রতিরোধ বাহিনী (resistance force) সংঘর্ষে তাঁরা আতঙ্কিত। তালিবানের দাবি, পঞ্জশির তারা দখল করেছে। পাল্টা প্রতিরোধ বাহিনীর দাবি, তালিবান ভুল বলছে। পঞ্জশির পুরোপুরি তাদের হাতে আসেনি। লড়াই এখনও জারি রয়েছে। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে এমনই পরিস্থিতি সেখানে। নর্দার্ন রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দাবি, তাদের দুই শীর্ষ নেতা আহমেদ মাসুদ ও আমরুল্লা সালেহ এখনও পঞ্জশিরেই আছেন। মাসুদ ওয়াশিংটনে একজন মধ্যস্থতাকারীর হাত দিয়ে আমেরিকার সাহায্য চেয়ে প্রস্তাবও পাঠাচ্ছেন, যাতে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া যায়।
আরও পড়ুন--
বিজেপি বিধায়ক চন্দনাকে ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ মামলায় গ্রেফতার করা যাবে না, নির্দেশ হাইকোর্টের
সংবাদ সংস্থার খবর, দোকানপাট বন্ধ মহল্লায় মহল্লায়। গা ছমছম করা পরিবেশ (ghost town)। লোকজন নেই। পঞ্জশিরের অধিকাংশ এলাকাই তালিবানের দখলে। তালিবান উপত্যকা থেকে লোকজন চলে যাক চায় না, কারণ তারা সাধারণ নাগরিকদের মানবঢাল হিসাবে প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু তালিবানের পুরো নিয়ন্ত্রণে না আসা পঞ্জশির থেকে লোকজনের পালানোর কারণ বিশ্লেষণ করে সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, তালিবান গ্রামে গ্রামে ঢুকেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করছে না। তালিবানের কারণে উপত্যকায় যাবতীয় মানবিক সহায়তা আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে বাড়িঘর ফেলে পালানোর বিকল্প নেই বাসিন্দাদের সামনে।
কাবুুলে পঞ্জশিরের গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আসা লোকজনর সঙ্গে কথা বলে সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ পেরনার পরও কে উপত্যকায় শেষ পর্যন্ত জিতল, পরিষ্কার নয়। এক প্রাক্তন সরকারি কর্মী সাংবাদিকদের জানান, গ্রামগুলিকে পরস্পরের থেকে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে যে, এক গ্রামের লোকজন জানতে পারছে না, পাশের গ্রামে কী হচ্ছে।
এদিকে প্রতিরোধ বাহিনী তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলে দাবি তালিবানের। তাদের কমান্ডার সানাউল্লাহ সানগিন বলেছেন, ওদের লড়াই খুব দুর্বল হয়ে গিয়েছে। আমাদের ঠেকাতে পারেনি ওরা। ঈশ্বরের আশীর্বাদে ওরা হেরেছে। ওদের যাবতীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ওরা বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ধরা দিয়েছে। ওদের একজনকেও খুন করা হয়নি। ওদের ক্ষমা করে চিঠিও প্রকাশ করা হয়েছে। ওদের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে ওরা।