Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দ

পরিকল্পনা ছিল না, মোদীর সফরের পরই 'সবুজ সংকেত'! সুযোগ পেয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে ইজরায়েলি-হামলা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি হামলার মোকাবিলায় তারা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আগেই গড়ে তুলেছিল। পাশাপাশি, Abraham Accords–এর কারণে আরব দেশের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও মার্কিন CENTCOM–এর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়।

পরিকল্পনা ছিল না, মোদীর সফরের পরই 'সবুজ সংকেত'! সুযোগ পেয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে ইজরায়েলি-হামলা

মোদী-নেতানিয়াহু

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 4 March 2026 09:33

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ অভিযান (Iran-Israel-US Strikes) পঞ্চম  দিনে পড়ল আজ (বুধবার)। গত শনিবার ভোররাতে খামেনেইর দেশে হামলা চালায় যৌথ বাহিনী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই সপ্তাহেই ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi Israel Visit)। তিনি ফিরে যাওয়ার পরই ইজরায়েলের অভিযান নানান প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। এনিয়ে এবার মুখ খুলল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর () প্রশাসন।

ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের সময়েও হামলার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। তিনি ফিরে যাওয়ার দু'দিন পর অভিযানের সুযোগ মেলে (operational opportunity), সেইমতোই প্রস্তুতি নিয়ে এগোয় ইজরায়েল। দেশের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Furry)।

জাতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিউভেন (Israeli envoy Reuven Azar) জানিয়েছেন, 'মোদীজি যখন ছিলেন, তখন আমরা নিজেরাই জানতাম না যে এমন অপারেশন হবে। তিনি যাওয়ার পরই অপারেশনাল সুযোগ তৈরি হয়।”

ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতের (Israeli Ambassador) কথায়, বহু বছর ধরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা কাঠামো এবং তাঁর অবস্থান বুঝতে গোয়েন্দা বিভাগে শক্তি বাড়িয়েছে ইজরায়েল। এরজন্য বিলিয়ন ডলার খরচ করে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করতে হয়েছে।

আজার বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি হামলার মোকাবিলায় তারা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আগেই গড়ে তুলেছিল। পাশাপাশি, Abraham Accords–এর কারণে আরব দেশের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও মার্কিন CENTCOM–এর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বহু শহরে, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে বিধ্বংসী হামলা চালায়।  তাতেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, একই সঙ্গে তাঁর মেয়ে, জামাই ও নাতনিও মারা যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মারা যান তাঁর স্ত্রী মনসুরেহ বাগেরজাদেহও। ইরানে হামলায় এখনও পর্যন্ত ৮০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

যৌথ হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যা দুবাই, আবুধাবি, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হানে।  ইরান জানায়, সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে তারা পিছু হটবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও হুঁশিয়ারি, "ইরান এখন কথা বলতে চাইলেও দেরি হয়ে গেছে। যুদ্ধ থেকে তারা আর পালাতে পারবে না।"

খামেনেইর মৃত্যুর পর তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছিল। আলিরাজা আরাফিকে অন্তর্বর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে এবার ইরানের সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, খামেনেইর ছেলে মোজতবা হোসেনি খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

তাঁর নির্বাচন ঘিরেও একপ্রকার উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, কারণ ইরান (Iran) বরাবরই বংশানুক্রমে ক্ষমতা পাওয়ার বিরোধিতা করে নিজেদের প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোকে তুলে ধরেছে। এখন বাবার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলের হাতে ক্ষমতা যাওয়ায় সেই নীতি নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

এমনকি খামেনেই নিজেও চাইতেন বংশ পরম্পরায় নয়, ধর্মীয় নেতাদের হাতে ইরানের ক্ষমতা তুলে দেওয়া হোক। তিনি তিন উত্তরসূরীর তালিকাও তৈরি করে গেছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই তালিকায় নাম ছিল না মোজতবা খামেনেই।

মোজতবা খামেনেই একজন মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় আলেম এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের (Iran-Iraq War) সময় সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। বিশ্লেষকদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়ালে উল্লেখযোগ্য প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তিনি সুপ্রিম লিডারের (Supreme Leader) অফিস দীর্ঘদিন পরিচালনা করেছেন বলেও মনে করা হয়। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে রেভল্যুশনারি গার্ড-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা রাষ্ট্রের সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন। রাষ্ট্রীয় নীতি, সেনাবাহিনী, এমনকি শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড- সব কিছুর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত তাঁর হাতেই থাকে।


```