
টিউলিপ সিদ্দিক
শেষ আপডেট: 14 January 2025 22:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রিটেনের লেবার পার্টির মন্ত্রিসভায় সদস্য টিউলিপ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার কন্যা। তিনি ছিলেন ব্রিটেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার (ইকোনমিক সেক্রেটারি) ছিলেন। দেশটির আর্থিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ওঠে। যদিও অভিযোগগুলির সঙ্গে ব্রিটেনের মন্ত্রী পদের কোনও যোগ নেই। তিনি নৈতিক কারণে পদত্যাগ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার্ককে লেখা ইস্তফা পত্রে লিখেছেন।
টিউলিপের পদত্যাগ শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আওয়ামী লিগের জন্যও ধাক্কা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে হাসিনা ও আওয়ামী লিগের নাম জড়িয়ে আছে।
রেহানা কন্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ করে তিনি রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির প্রকল্প রাশিয়াকে বরাত দিয়ে মোটা অঙ্ক কমিশন নিয়েছেন। একই অভিযোগ আছে হাসিনা ও তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের।
টিউলিপের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ তিনি ও তাঁর বোন হাসিনার পরিচয় কাজে লাগিয়ে ব্রিটেনে আওয়ামী লিগের এক নেতার কাছ থেকে বিনামূল্যে মহার্ঘ ফ্ল্যাট নিয়েছেন।
জন্মসূত্রে ব্রিটেনের নাগরিক টিউলিপ সে দেশের নামজাদা রাজনীতিক। চারবার লেবার পার্টির এমপি হওয়ার আগে ছিলেন লন্ডনের কাউন্সিলর। প্রধানমন্ত্রী কিয়েরের বিশেষ আস্থাভাজন টিউলিপ এবারই প্রথম মন্ত্রী হন।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাবে টিউলিপ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ইনডিপেনডেন্ট অ্যাডভাইজার অন মিনিস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস) লাউরি ম্যাগনাসের কাছে আবেদন (রেফারেল) করেছিলেন তাঁর বিষয়ে খতিয়ে দেখতে। ব্রিটেনে মন্ত্রীদের আচার-আচরণ, নীতিনৈতিকতা বিষয়ে ম্যাগনাস প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন। পদত্যাগপত্রে টিউলিপ দাবি করেছেন, ম্যাগনাস তাঁকে ক্লিন চিট দিয়েছেন। অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। তা সত্বেও নৈতিক কারণে পদত্যাগ করছেন। ওই তদন্ত চলার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক।