
ধেয়ে আসছে মিসাইল, পাল্টা লড়াইতে 'আয়রন ডোম'। ছবি সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 14 April 2024 22:31
কথা ভট্টাচার্য
তেল আভিভ
১৪ এপ্রিল: গত বছরের আগস্ট থেকে ইজরায়েলে আছি। থাকি তেল আভিভের খুব কাছে, দশ কিলোমিটারের মধ্যে, পেটা টিকভা শহরে। এটাও বেশ বড় শহর। গাজা সীমান্ত এখান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে। যেতে ঘন্টাখানেক লাগে। গত ১৯১ দিন ধরেই এখানে যুদ্ধের আঁচ টের পেয়েছি। রোজই রকেট পড়ে, হামলা হয়। তবে ভয় করেনি। এখানে এসবে সবাই অভ্যস্ত।
গত দিনদুয়েক ধরেই হাই অ্যালার্ট চলছিল। গত শুক্রবার বাজারে গিয়ে কার্যত প্যান্ডেমোনিয়াম চোখে পড়ল। বিশেষ করে শুকনো খাবার, মাংসের দোকানে ভিড়, ঠেলাঠেলি। জলের বোতল বিকোচ্ছে দ্বিগুণ দামে। টেনশন ছিলই। শুক্রবার রাতেও বারবার ঘুম ভেঙেছে। আমরা যেন আক্ষরিক অর্থেই হাত পা গুটিয়ে বসে অপেক্ষা করছিলাম সাইরেনটা শোনার... কখন অ্যাটাক হবে, কখন সেফ-রুমে যেতে হবে....!
শনিবার সন্ধ্যে নাগাদ ইজরায়েলের সেনাবাহিনী আইডিএফ (ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স) নিশ্চিত করল, যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। সেইসঙ্গে ইজরায়েলের দিকে পাঠানো হয়েছে কয়েকশো ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল। ব্যাস, শুরু হয়ে গেল কাউন্টডাউন। আর কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা! কিন্তু সত্যি বলতে, প্যানিকড হইনি মোটেই। জলের বোতল, পাসপোর্ট সব গুছিয়ে জেগে বসে আছি তখন। সারা দেশ জাগছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এ' এমন দেশ, সেই পরিস্থিতিতেও তখন চলছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে হাসি-মজা। কেউ ঘুম নষ্টের জন্য ইরানের মুন্ডুপাত করছেন, কেউ আবার অনলাইনে খাবার অর্ডার করছেন বোর হয়ে! মিসাইল অ্যাটাকের কয়েক মিনিট আগেও এমন মারাত্মক শান্ত থাকতে আর অন্য কোন দেশ পারে আমার অন্তত জানা নেই। অদ্ভুত একটা ঐক্য আছে দেশটার, জানেন তো! একা ফিল করতেই দেয় না।
...ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক রাত ১:৪২। মোবাইল ফোনে পাগলের মতন সাইরেন বাজতে শুরু করল। পরপর কয়েকশো অ্যাটাক। ইন্টারনেট বেশ স্লো চলছে তখন। খবরও দেখা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু বোঝা গেল এই সবে শুরু। আকাশে আলোর খেলা। আগুনের মত ধেয়ে যাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্ট। সেই পরিস্থিতি চলল আরও মিনিট কুড়ি। তারপর বন্ধ হল ক্ষেপণাস্ত্র-হানা। তারপর আর কী! বাকি রাতটাও কাটল জেগেই৷ বাকি দেশের খবর নিয়ে। না, হতাহত কেউ নেই। ক্ষতিও হয়নি তেমন কিছুই। শুধু এই আক্রমনে আকাশে ছাই হয়ে গেছে ইজরায়েলের কয়েক লক্ষ ডলার।
আবার কী হবে জানি না। তবে হলে যে সেটা মারাত্মক হবে, সেটা বলাই বাহুল্য। আজকাল আর ভগবান নয়, 'আয়রন ডোম'-এর (ইজরায়েলের বিখ্যাত 'অ্যান্টিমিসাইল' বা 'এয়ার ডিফেন্স' ব্যবস্থা) নাম করে ঘুমোতে যাই। বাঁচালে ওটাই হয়ত বাঁচাবে। নাহলে ভগবানেরও অসাধ্য।
(সাক্ষাৎকারঃ সৌরদীপ চট্টোপাধ্যায়)