
ইঁদুর থেকে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ
শেষ আপডেট: 25 July 2024 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোগের কোনও শেষ নাই...
করোনাকালকে সকলে মনে করে এখনও নাভিশ্বাস ফেলে। কী দুর্দিনই না গেছে। এমনিতে রোগভোগের কোনও শেষ নেই তা সূর্য পূর্বদিকে ওঠার মতো সঠিক। কিন্তু বর্তমানে এমন কিছু রোগের কথা শোনা যাচ্ছে যা সচারচর হয় না। ঠিক যেমন ঘটেছে মার্কিন মুলুকে। ইঁদুর থেকে সংক্রামিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে একাধিক মানুষের।
আমেরিকার আরিজোনাতে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করে দেওয়া হয়েছে কারণ সেখানে ইঁদুর থেকে সংক্রামিত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসের নাম 'হান্তাভাইরাস' যা মূলত ইঁদুর এবং তাদের প্রজাতির প্রাণীর মূত্র, স্যালাইভা থেকে ছড়ায়। আর এই ভাইরাস থেকে যে রোগ হয় তাকে বলা হয়, 'হান্তাভাইরাস পালমোনারি সিন্ড্রোম'। আরিজোনার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গত জানুয়ারি মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৭ জনের মধ্যে এই রোগের উপসর্গের দেখা মিলেছে।
শুধু আরিজোনা নয়, কয়েক সপ্তাহ আগে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দুই ব্যক্তি। যদিও গবেষকরা দাবি করেছে, মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়ায় না। তাই এখনও ভীষণরকম আতঙ্কিত হওয়ার সময় আসেনি। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, এই ভাইরাস আরও একাধিক রোগ ছড়াতে পারে। 'হ্যামোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিন্ড্রোম'ও রয়েছে।
এই রোগের উপসর্গ কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'হান্তাভাইরাস'-এর সর্বপ্রথম উপসর্গ হল গা ব্যাথা এবং জ্বর। তার সঙ্গে মাথা ব্যাথা, বমিভাব, পেশির যন্ত্রণা, কাঁপুনি, তলপেটে ব্যাথার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। সংক্রামিত ব্যক্তির অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে প্রচণ্ড কাশি এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
'হ্যামোরেজিক ফিভার' হলে সব রকমের উপসর্গের পাশাপাশি লো ব্লাড প্রেশার, শক, কিডনি নষ্টের সম্ভাবনা থাকে। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১ থেকে ৮ সপ্তাহ পরে উপসর্গ দেখা যায়। এই রোগের কোনও রকম চিকিৎসা আপাতত নেই। ওষুধ হোক বা ভ্যাকসিন, কিছুই আবিষ্কার হয়নি।