
শেষ আপডেট: 10 December 2023 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুপিং কাশি। নামটা অনেকেরই চেনা। উপসর্গ সাধারণ সর্দি কাশির মতোই, কিন্তু হুপিং কাশি একবার শুরু হলে প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাওয়ার যোগাড় হয়। ব্যাকটেরিয়া জনিত এই অসুখ একটা সময় ভারত তো বটেই, বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়েছিল। ফলে অনেকের কাছেই তা আতঙ্কের অন্য এক নাম। যদিও পাঁচের দশকে টিকা আবিষ্কার হওয়ার পর এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অসুখই নাকি আবার নতুন করে ফিরছে ব্রিটেনে। আক্রান্ত হলে টানা ১০০ দিন কিংবা তারও বেশি দিন পর্যন্ত কাশি বন্ধ হচ্ছে না। এই ' ১০০ দিনের কাশি' ই এখন নতুন মাথাব্যথা ব্রিটেনের স্বাস্থ্যকর্মীদের।
ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভয়ংকর ছোঁয়াচে এই অসুখ নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছেন। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র জুলাই থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যেই হুপিং কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার ৭১৬টি রিপোর্ট প্রকাশে এসেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় এই সংখ্যাটা প্রায় তিনগুণ বেশি।
এমনিতে এর উপসর্গ সাধারণ ঠান্ডা লাগা কিংবা কাশির মতো হলেও সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সেরে যায় না এই অসুখ। বরং তিন-সাড়ে তিন মাস ধরে এর রেশ বজায় থাকে যাতে রীতিমতো ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস এবং শ্বাসযন্ত্র। সেরে ওঠার পরেও তার প্রভাব রয়ে যায়। গত কয়েক মাসের মধ্যেই ব্রিটেনে এই সংক্রমণের হার ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিশু এবং বৃদ্ধদেরই মূলত এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সেই হিসেবে এখন উল্টে গেছে। প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ মানুষও একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন হুপিং কাশিতে। বর্ডেটেলা পারটোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে ছড়ানো এই রোগে ফুসফুস এবং শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তো বটেই, তার পাশাপাশি পাঁজর ফুলে যাওয়া, কানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, হার্নিয়া এবং প্রস্রাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটে। যাদের অনাক্রম্যতা কম, যেমন শিশু এবং বৃদ্ধরা, তাদের ক্ষেত্রে হুপিং কাশি প্রাণঘাতীও হতে পারে। এই রোগের নতুন করে ফিরে আসা নিয়েই এখন ত্রস্ত ব্রিটেন।