
শেষ আপডেট: 24 October 2023 10:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই প্রবীণ মার্কিন নাগরিককে সোমবার রাতে মুক্তি দিয়েছে হামাস। ৭ অক্টোবর দুই মহিলা মার্কিন নাগরিক ৮৫ বছরের ইওচেভেজ লিফসিজ এবং ৭৯ বছর বয়সি নুরুত কুপারকে তাঁদের গাজা সীমান্তবর্তী নির ওজ এলাকা থেকে অপহরণ করেছিল হামাস কমান্ডোরা। তাঁদের স্বামীদের অবশ্য মুক্তি দেওয়া হয়নি। সোমবার রাতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রতিনিধিদের হাতে দুই নারীকে তুলে দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, হামাসের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনার প্রেক্ষিতে মুক্তির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইজরায়েলকে গাজায় সেনা অভিযান স্থগিত রাখতে মার্কিন প্রশাসন নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
যদিও ইজরায়েলের বিমান হানা অব্যাহত। গাজার কিছু এলাকা ইজরায়েলের পদাতিক সৈন্য প্রবেশ করলেও হামাসের প্রতিরোধ নিয়ে তারা চিন্তায় আছে। শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে বুঝে আকাশ পথে হামলাই অব্যাহত রেখেছে তারা। একের পর এক বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে বোমা হামলায়।
এদিকে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে দু-পক্ষকেই সতর্ক করেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মতো ইজরায়েলের পক্ষ না নিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ওবামা যুদ্ধ থামানোর কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, ইজরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার যেমন আছে, তেমনই ফিলিস্তিনিদের দুর্দশাকেও উপেক্ষা করা যায় না। যুদ্ধ চলতে দেওয়া মানে ফিলিস্তিনিদের চলমান দুর্দশাকে উপেক্ষা করা। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন, আমেরিকা যদি হামাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের পক্ষ নেয় তাহলেও ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
ওবামা ইজরায়েল-ফিলিস্তিনি সমস্যার গভীরতাও তুলে ধরেছেন বিবৃতিতে। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘ বঞ্চনার শিকার। ১৯৪৮-এ ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সময় থেকে তারা বাস্তুচ্যুত। ফলে জোর করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে নানা সময়ে। এখন যুদ্ধ চলতে দেওয়ার অর্থ ফিলিস্তিনিদের নতুন করে উদ্বাস্তু জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া। প্রসঙ্গত, কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি ইজরায়েলি হামলার ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে শহরের দক্ষিণ প্রান্তে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আশপাশের কোনও দেশই তাদের উদ্বাস্তু হিসাবে নিজেদের দেশে আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিবৃতির পর বাইডেন প্রশাসন ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে অবস্থানের পরিবর্তন করে কি না সেটাই এখন দেখার। এদিকে, মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, গাজায় হামলা বন্ধে আমেরিকা ইজরায়েলের উপর চাপ তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে গাজার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়িঘর বোমা হামলায় ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, বোমা হামলার মধ্যে ত্রাণ বণ্টনে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া প্রয়োজনের মাত্র চার শতাংশ ত্রাণ সামগ্রী সেখানে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ।