FDA অনুমোদিত মিটাপিভাট হল বিশ্বে প্রথম খাওয়ার ওষুধ যা থ্যালাসেমিয়ার হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে। ভারতের রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 6 January 2026 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের শুরুতেই চিকিৎসা জগতে নতুন একটি আশার আলো। এতদিন থ্যালাসেমিয়ার (Thalassemia) প্রধান চিকিৎসা ছিল শরীর থেকে রক্ত নেওয়া। কিন্তু এবার সেই কষ্ট থেকে মুক্তির পথ দেখাচ্ছে একটি ছোট্ট ট্যাবলেট। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সম্প্রতি ‘মিটাপিভাট’ (Mitapivat) নামের একটি নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে। এটি বিশ্বে থল্যাসেমিয়ার রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া কমানোর প্রথম খাওয়ার ওষুধ।
ওষুধটি কীভাবে কাজ করে?
থ্যালাসেমিয়া হল একটি বংশগত রোগ, যেখানে শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায়। মিটাপিভাট একটি এনজাইম অ্যাক্টিভেটর, যা রক্তকণিকাকে শক্তিশালী করে এবং রক্তে বেশি সময় ধরে বাঁচতে সাহায্য করে। এর ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে এবং রোগীর ক্লান্তি কমে।
মিটাপিভাটের সুবিধা কী কী?
মিটাপিভাট উভয় ধরনের থ্যালাসেমিয়ায় আলফা এবং বিটা কার্যকর। এটি এমন রোগীদের জন্যও ব্যবহারযোগ্য, যাদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয় এবং যাদের নিতে হয় না।
পরীক্ষার ফল দেখাচ্ছে, মিটাপিভাট খাওয়ার পর অনেক রোগীর রক্তের প্রয়োজনীয়তা কমেছে বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া, বারবার রক্ত নেওয়ার ফলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত আয়রন, যা অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্ষতি করতে পারে, তার প্রভাবও কমানো সম্ভব।
ভারতে থ্যালাসেমিয়ার সংখ্যা বিশাল। বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট ডক্টর রাহুল ভার্গভ বলেন, ভারতের মতো দেশে এই ওষুধ আশীর্বাদ স্বরূপ। এটি রোগীর জীবনযাত্রার মান বহুগুণ উন্নত করবে, রক্ত নেওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং শারীরিক জটিলতা কমাবে।
কিছু সতর্কতাও রয়েছে
ওষুধটি লিভারের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তাই প্রথম ছ’মাস নিয়মিত লিভার পরীক্ষা করা আবশ্যক। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় মিটাপিভাট পাওয়া যাচ্ছে। ভারতে এটি বাজারে আনার জন্য DCGI-এর অনুমোদন প্রয়োজন। সরকার উদ্যোগী হলে লক্ষ লক্ষ রোগী এই নতুন জীবনের আলো দেখতে পাবেন।