দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের জৈবিক পরিবর্তন ঘটছে। স্মার্টফোন থেকে নির্গত ‘Blue Light’ বা নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা জৈবিক ঘড়িকে পুরোপুরি ওলটপালট করে দিচ্ছে। এর ফলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ ব্যাহত হয়।

ফোনের নেশায় বয়স বাড়ছে মস্তিষ্কের।
শেষ আপডেট: 13 April 2026 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে একটা স্মার্টফোন (Smartphone) আর তাতে অফুরন্ত ডেটা—বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটাই হয়তো বিনোদনের শেষ কথা। এইভাবেই হেসে-খেলে দিন কাটাচ্ছেন আজকের প্রজন্ম। এমন কী বয়স্করাও। কিন্তু এই স্মার্টফোনই কি অজান্তে আপনার যৌবন কেড়ে নিচ্ছে? সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, অত্যধিক স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে শুধু চোখের ক্ষতি বা অনিদ্রাই নয়, বরং আমাদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘প্রি-ম্যাচুর ব্রেন এজিং’(Premature brain aging)।
কেন এই অকাল বার্ধক্য?
এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের জৈবিক পরিবর্তন ঘটছে। স্মার্টফোন থেকে নির্গত ‘Blue Light’ বা নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা জৈবিক ঘড়িকে পুরোপুরি ওলটপালট করে দিচ্ছে। এর ফলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ ব্যাহত হয়, যা শুধু গভীর ঘুমের অন্তরায় নয়, বরং শরীরের কোষগুলোর পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়াকেও ধীর করে দেয়। ফলে শরীর ও মস্তিষ্ক—উভয়ই সময়ের আগেই বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যায়।
স্মার্টফোন কীভাবে মস্তিষ্কের গঠন বদলে দিচ্ছে?
গবেষকদের দাবি, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আমাদের মস্তিষ্কের 'প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স'( prefrontal cortex) (যা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে) এবং 'হিপোক্যাম্পাস' (যা স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে)-এর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ক্রমাগত নোটিফিকেশন চেক করা এবং রিলস বা শর্টস স্ক্রল করার ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলাফল? অল্প বয়সেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, মনোযোগের অভাব এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। যা সাধারণত বার্ধক্যে দেখা যায়, তা এখন ২০-৩০ বছর বয়সীদের মধ্যেও প্রকট হচ্ছে।
ত্বক ও শরীরের ওপর প্রভাব (Digital ageing):
গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনের নীল আলো ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করতে শুরু করে। এর ফলে ত্বকে অকালেই বলিরেখা দেখা দিচ্ছে এবং চোখের নিচে কালি পড়ছে। চিকিৎসকরা একে ‘ডিজিটাল এজিং’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাড় নিচু করে ফোন দেখার ফলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের স্নায়ুতেও বার্ধক্যের ছাপ পড়ছে।
বাঁচার উপায় কী? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন—
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা কিছু বিশেষ 'এভিডেন্স-বেসড' দাওয়াই দিয়েছেন:
১. বেডরুমে ফোন নৈব নৈব চ: রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন দূরে সরিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে ফোন অন্য ঘরে রেখে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
২. সকালে রোদের ছোঁয়া: ঘুম থেকে উঠে ফোনের স্ক্রিনে চোখ না রেখে অন্তত ১৫ মিনিট প্রাকৃতিক আলো বা রোদে সময় কাটান। এটি আপনার শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।
৩. ডিজিটাল ডিটক্স: সপ্তাহে অন্তত একদিন বা দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ফোন থেকে পুরোপুরি দূরে থাকুন। এই সময়টা প্রকৃতির সাথে বা পরিবারের সাথে কাটান।
৪. খাদ্যাভ্যাসে বদল: Fermented foods এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
স্মার্টফোন আজকের দিনে প্রয়োজনীয় যন্ত্র হতে পারে, কিন্তু তার দাসত্ব আমাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না জানলে আমাদের অজান্তেই মস্তিষ্ক তার ধার হারিয়ে ফেলবে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, আপনার হাতের উজ্জ্বল স্ক্রিনটি যেন আপনার জীবনের স্বাভাবিক জেল্লা আর তারুণ্য কেড়ে না নেয়।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.