দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি এলজিবিটিকিউ+ মানুষ ডিপ্রেশনের সমস্যায় ভোগেন। প্রায় ৪৫ শতাংশ উদ্বেগে ভোগেন। ট্রান্সজেন্ডারদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চেষ্টার হারও অনেক বেশি।

শেষ আপডেট: 1 April 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রান্সজেন্ডাররা (Transgender) সমাজে অন্যতম অবহেলিত গোষ্ঠী, যার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সমাজে তাদের একীভূত করার জন্য শুধুমাত্র আইনি রূপান্তরই যথেষ্ট নয়।
কুইয়ার ও ট্রান্সজেন্ডার মানুষের অধিকার নিয়ে এখন অনেক আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু তার মাঝেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হল—তাদের মানসিক স্বাস্থ্য। কলকাতায় সম্প্রতি হওয়া একটি কর্মশালায় এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হল।
২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত চার দিন ধরে চলেছে ‘কুইয়ার–ট্রান্স অ্যাফার্মেটিভ মেন্টাল হেলথকেয়ার’ শীর্ষক এই কর্মশালা। এটি যৌথভাবে আয়োজন করে মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্ক এবং কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি–সেন্টার অব এক্সেলেন্স (আইওপি-সিওই), আইপিজিএমইঅ্যান্ডআর–এসএসকেএমএইচ-এর সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্ক বিভাগ যেখানে ডাক্তার, সাইকোলজিস্ট ও সমাজকর্মীরা অংশ নেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল—কীভাবে কুইয়ার ও ট্রান্স মানুষদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজ, নিরাপদ ও সংবেদনশীল করা যায়।
এই কর্মশালায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তা বেশ উদ্বেগজনক। দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি এলজিবিটিকিউ+ মানুষ ডিপ্রেশনের সমস্যায় ভোগেন। প্রায় ৪৫ শতাংশ উদ্বেগে ভোগেন। ট্রান্সজেন্ডারদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চেষ্টার হারও অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে বড় কারণ সমাজের আচরণ। অনেকেই পরিবার থেকে সমর্থন পান না। কেউ কেউ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হন। অনেক সময় চিকিৎসার জায়গাতেও অপমানের মুখে পড়তে হয়। কাজের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হন। ফলে একাকিত্ব ও মানসিক চাপ বাড়তেই থাকে।

এছাড়া এখনও কিছু জায়গায় “কনভার্সন থেরাপি” নামে ভুল ও অ-বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু আছে। এর মাধ্যমে কারও যৌন পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এটি ক্ষতিকর এবং মানসিকভাবে একজনকে আরও ভেঙে দেয়।
অনেক কুইয়ার ও ট্রান্স মানুষের অভিজ্ঞতা খুবই কষ্টের। কেউ নিরাপদ পরিবার পান না, কেউ সমাজে জায়গা পান না। তখন বন্ধুবান্ধব বা নিজের মতো মানুষদের নিয়ে তৈরি “চোজেন ফ্যামিলি”-ই তাদের ভরসা হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে কী করা দরকার? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাক্তার ও কাউন্সেলরদের এই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সংবেদনশীল করতে হবে। বৈষম্য কমাতে হবে। পাশাপাশি, হেল্পলাইন ও কমিউনিটি সাপোর্ট আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
সবশেষে একটা কথাই উঠে এসেছে—এই লড়াই শুধু মর্যাদার জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্য। কুইয়ার ও ট্রান্স মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আজকের দিন অত্যন্ত জরুরি।