পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (PPD)-এ এদেশে প্রতি পাঁচজন নতুন মায়ের মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যার মুখোমুখি হন। বিশ্বজুড়ে যেখানে এই হার ১০-১৫ শতাংশ, সেখানে এদেশে তা প্রায় ২২ শতাংশ—যা চিন্তার কারণ।

নতুন মায়ের মন বুঝুন
শেষ আপডেট: 10 April 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন সন্তান ঘরে আসার পর আনন্দ আর উত্তেজনার পাশাপাশি অল্প-বিস্তর চিন্তা (Stress) হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার মনে কি সারাক্ষণ এমন কোনও নেতিবাচক (Negetive Thoughts) বা ভয়ানক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে যা আপনাকে অস্থির করে তুলছে? নবজাতকের কোনও ক্ষতি হয়ে যাবে না তো, অসুস্থ হয়ে পড়বে না তো—এই ভয়ে কি আপনি কুঁকড়ে থাকছেন? যদি তাই হয়, তবে সাবধান! এটি সাধারণ দুশ্চিন্তা নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'পোস্টপার্টাম ওসিডি' (Postpartum OCD)।
সম্প্রতি এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যাডেল ভিগুয়েরা। তাঁর মতে, মা হওয়ার পর হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে অনেক মহিলাই এই সমস্যার সম্মুখীন হন।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (PPD)-এ এদেশে প্রতি পাঁচজন নতুন মায়ের মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যার মুখোমুখি হন। বিশ্বজুড়ে যেখানে এই হার ১০-১৫ শতাংশ, সেখানে ভারতে তা প্রায় ২২ শতাংশ—যা চিন্তার কারণ।
কী এই পোস্টপার্টাম ওসিডি?
সাধারণ অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD) যখন সন্তান জন্মের পর প্রকট হয়, তখনই তাকে 'পোস্টপার্টাম ওসিডি' বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আগের কোনও মানসিক সমস্যা না থাকলেও সন্তান হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় এটি শুরু হলে চিকিৎসকরা তাকে বলেন 'পেরিনেটাল ওসিডি'। খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে ওসিডি থেকে হয় পোস্টপার্টাম সাইকোসিস। হাজারে ১-২ জন মায়ের ক্ষেত্রে পোস্টপার্টাম সাইকোসিস দেখা যায়। এতে হ্যালুসিনেশন, বিভ্রম বা আচরণগত অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এটি একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা।
ওসিডি-র লক্ষণগুলো ঠিক কী কী?
সাধারণ দুশ্চিন্তার সঙ্গে এর পার্থক্য হল এর তীব্রতা। ডা. ভিগুয়েরার মতে, যখন আপনার দুশ্চিন্তা দৈনন্দিন কাজে বাধা দেয়, তখনই তা ডিসঅর্ডারের পর্যায়ে পড়ে। প্রধান লক্ষণগুলি হল:
ভয়ঙ্কর চিন্তা মানেই কি আপনি মা-এর দায়িত্ব সামলাতে পারছেন না?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—একদমই নয়। ডা. ভিগুয়েরার মতে, মাথায় খারাপ চিন্তা আসা আর সেই কাজ করা এক নয়। বরং যারা এই চিন্তায় আতঙ্কিত বোধ করেন, তাঁদের হাতে শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ, এই চিন্তাগুলো তাঁদের আদর্শ বা মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত। অন্যদিকে, 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস'-এর ক্ষেত্রে রোগীরা মনে করেন এই ভুল চিন্তাগুলোই সঠিক—যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এছাড়া লজ্জা ও সামাজিক চাপে সমস্যার কথা মন খুলে কাউকে বলতেও পারেন না। সমাজ নতুন মায়ের কাছে সবসময় ‘খুশি’ থাকার প্রত্যাশা করে। ফলে অনেকেই নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে পারেন না। ফলে সমস্যা বাড়তে থাকে।
কেন সচেতনতা জরুরি?
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন যদি চিকিৎসা না করিয়ে ফেলে রাখা হয় তবে তা শুধু মায়ের নয়, শিশুর ওপরও প্রভাব ফেলে। এতে শিশুর মানসিক ও বুদ্ধিবিকাশে সমস্যা হতে পারে।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
চিকিৎসা ও প্রতিকার
এটি কোনও স্থায়ী সমস্যা নয়, সঠিক চিকিৎসায় মুক্তি সম্ভব। সাধারণত কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) এবং প্রয়োজনে নিরাপদ কিছু ওষুধের (যেমন SSRIs) মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চললে স্তন্যপান করানোর সময়ও এই ওষুধ খাওয়া সম্ভব।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি দেখেন আপনার এই চিন্তাভাবনাগুলোর কারণে আপনি খাওয়া-দাওয়া, স্নান করা বা শিশুর যত্ন নিতে পারছেন না, তবে দেরি না করে মনোবিদের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, আপনি একা নন—সঠিক সাহায্য পেলে আপনি আবারও আপনার মাতৃত্বকে উপভোগ করতে পারবেন।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.