সাইলিয়াম আসলে আমাদের পরিচিত ইসবগুলের ভুসি—এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার। এটি অন্ত্রে গিয়ে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে, যা বাইল অ্যাসিড ও কোলেস্টেরলকে বেঁধে মলের সঙ্গে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে লিভার নতুন করে বাইল তৈরির জন্য রক্ত থেকে আরও এলডিএল কোলেস্টেরল টেনে নেয়, আর তাতেই কমতে শুরু করে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা।

কোলেস্টেরল কমাতে কী খাবেন?
শেষ আপডেট: 24 March 2026 16:32
দ্য ওয়াল আরোগ্য: উচ্চ কোলেস্টেরল, বিশেষ করে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল, নীরবে শরীরে জমে থেকে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। সমস্যা হল, এই পরিবর্তনগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে ঘটে—প্রথম দিকে তেমন কোনও উপসর্গ চোখে পড়ে না। তাই অনেক সময় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। যদিও ওষুধ এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তবুও শুধু ওষুধই ভরসা নয়— খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করেও কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সম্প্রতি মার্কিন চিকিৎসক ডা. কুণাল সুদ, যিনি অ্যানেস্থেসিওলজি ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, তাঁর একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে এমনই কয়েকটি প্রাকৃতিক উপায় তুলে ধরেছেন, যা এলডিএল কমাতে এবং সামগ্রিক হার্টের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কয়েকদিন আগে শেয়ার করা ভিডিওতে তিনি পাঁচটি নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদানের কথা বলেছেন, যেগুলির কার্যকারিতা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।
সাইলিয়াম হাস্ক (ইসবগুলের ভুসি)
ডা. সুদের মতে, সাইলিয়াম আসলে আমাদের পরিচিত ইসবগুলের ভুসি—এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার। এটি অন্ত্রে গিয়ে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে, যা বাইল অ্যাসিড ও কোলেস্টেরলকে বেঁধে মলের সঙ্গে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে লিভার নতুন করে বাইল তৈরির জন্য রক্ত থেকে আরও এলডিএল কোলেস্টেরল টেনে নেয়, আর তাতেই কমতে শুরু করে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা।
তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম ইসবগুলের ভুসি খেলে (২ থেকে ৩ চা চামচ) এলডিএল কোলেস্টেরল ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং লিপিড প্রোফাইলও উন্নত হয়।
প্ল্যান্ট স্টেরলস (উদ্ভিজ্জ স্টেরল)
প্ল্যান্ট স্টেরলস এমন এক ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান, যা দেখতে অনেকটা কোলেস্টেরলের মতো। ফলে এগুলো অন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এবং শরীরে কোলেস্টেরল শোষণ কমিয়ে দেয়। এর ফলে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।
এই উপাদান সরাসরি আলাদা করে না পাওয়া গেলেও বাদাম, বীজ, ডাল, শাকসবজি এবং কিছু ‘হার্ট-ফ্রেন্ডলি’ তেল বা খাবারে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। ডা. সুদের কথায়, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্ল্যান্ট স্টেরলস গ্রহণ করলে এলডিএল কোলেস্টেরল ৬ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Omega-3 Fatty Acids)
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে EPA ও DHA, শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এটি লিভারে VLDL (Very Low-Density Lipoprotein) উৎপাদন কমায় এবং রক্ত থেকে ট্রাইগ্লিসারাইড অপসারণের প্রক্রিয়া দ্রুত করে।
ডা. সুদের মতে, নিয়মিত ওমেগা-৩ গ্রহণ করলে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক লিপিড মেটাবলিজমকে উন্নত করে।
রসুনের নির্যাস (Garlic Extract)
রসুনে থাকা অ্যালিসিন (Allicin) নামক বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান লিভারে কোলেস্টেরল তৈরির প্রক্রিয়াকে কিছুটা দমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের কোলেস্টেরল আগে থেকেই বেশি, তাদের ক্ষেত্রে রসুনের নির্যাস নিয়মিত গ্রহণে মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল—দুটোই কিছুটা কমতে দেখা যায়।
ডা. সুদ জানান, রসুনের উপাদানগুলি HMG-CoA reductase এনজাইমের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে, যার ফলে কোলেস্টেরল উৎপাদন কমে।
গ্রিন টি (Green Tea)
গ্রিন টিতে থাকে ক্যাটেচিন, বিশেষ করে EGCG, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারে কোলেস্টেরল তৈরির প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে এলডিএল ও মোট কোলেস্টেরল—দুটোরই সামান্য কিন্তু স্থায়ী হ্রাস ঘটে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.