ডিপ্রেশনের (depression and its cure) সঙ্গে একটা সমাজের ট্যাগ করে দেওয়া একটা অদৃশ্য ছ্যুঁৎমার্গ জড়িয়ে থাকে। সেটা কেটে বেরনোটাই আসল কথা - বলছেন স্নায়ু-মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সৌমেন কর্মকার।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ''মনখারাপ আমার সকালে থাকতেই পারে, কখনও সন্ধেবেলাও থাকতে পারে। কিন্তু দিনের পর দিন কোনও এনার্জি নেই শরীরে, কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছি না। মনে হচ্ছে বেঁচে থাকার কোনও কারণ নেই জীবনে, দরজাগুলো সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানে আমার জীবনের প্রত্যেকটি স্তরেই এটা প্রভাব ফেলছে। শুধু পড়াশোনা নয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে। কাজের দক্ষতাতেও প্রভাব ফেলে'' (how depression affects life), মনখারাপ নাকি ডিপ্রেশন (what is depression) - ব্যাপারটা গুছিয়ে বোঝালেন কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের (INK) স্নায়ু-মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সৌমেন কর্মকার (Neuropsychiatrist explanation about depression)।
মন বলে আলাদা কোনও অঙ্গ নেই
স্নায়ু-মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সৌমেন কর্মকারের কথায়, ''মন বলে আলাদা কোনও অঙ্গ নেই। আসলে ব্রেন-ই পুরোটা নির্ধারণ করে। ব্রেনের কোষের (brain cells) মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন তরঙ্গ চলাফেরা করে। কেমিক্যাল বাড়ে-কমে। মনখারাপ যখন একটা সময় পর ডিপ্রেশনে পৌঁছয়, তখন সেরোটোনিন-ডোপামিন (serotonin dopamine) নামক ব্রেন কেমিক্যালের ভারসাম্য (brain chemicals imbalance in depression) নষ্ট হয়ে যায়। এক কথায়, মনখারাপ বা মানসিক অবসাদ আসলে ব্রেনেরই এক ধরনের রোগ।''
ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে রেড ফ্ল্যাগ কোনটা? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে?
''বেঁচে না থাকার ইচ্ছে - এটা ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় 'রেড ফ্ল্যাগ' (red flgs in depression)। কারণ ডিপ্রেশনের সঙ্গে এই উপসর্গ একবারে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত (when should we go to doctor in depression)।'' ডাঃ কর্মকার আরও বললেন, ''বেঁচে না থাকার ইচ্ছের পাশাপাশি থাকে প্রায় রোজ মাথাযন্ত্রণার (headache) লক্ষণ। কোনওরকম এনার্জিই যেন পাচ্ছি না, আর এটা যেন সারাদিনই চলছে। দু'সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মনখারাপ থাকছে। দৈনন্দিন সবকিছুতেই প্রভাব ফেলছে। স্বাভাবিক মনখারাপের সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের (clinical depression) গোড়ার পার্থক্যই এটা। আর এখানেই চিকিৎসা দরকার।''
চিকিৎসার দিকে প্রথম পদক্ষেপটা কিন্তু আপনাকেই করতে হবে
ডিপ্রেশনের সঙ্গে একটা সমাজের ট্যাগ করে দেওয়া একটা অদৃশ্য ছ্যুঁৎমার্গ (depression social taboo) জড়িয়ে থাকে। সেটা কেটে বেরনোটাই আসল কথা। সেই বিষয়ে স্নায়ু-মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মত, ''আপনি নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারেন। আপনার মধ্যে হয়তো কিছু ধারণা গেঁথে রয়েছে, যে কারণে আপনি চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসছেন না। চিকিৎসার জন্য আসা সম্পূর্ণ আপনার পছন্দ। এখানেই বলার, আপনি আসুন, এসে কথা বলুন (depression talk)।''
ডাঃ কর্মকার জোর দিয়ে বলেন, ''কী হয়েছে আপনার, ডাক্তারের কাছ থেকে সেই ডায়গনিসিস শুনুন। ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (depression treatment) শুনুন। সেটা আপনি মেনে চলবেন কিনা, সেটা তো আপনার ওপরেই। যা কিছু জানার, সেটা ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন। কেউ আপনাকে জোর করছে না। আপনার যদি ভাল মনে হয়, সেটা ফলো করুন। কিন্তু ঘরে বসে আপনি এই সমস্যা থেকে কোনওভাবেই বেরতে পারবেন না (how to get out of depression)।''
কাউন্সেলিং নাকি ওষুধ (counselling or medication in depression)?
স্নায়ু-মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মত, ''যদি উপসর্গ খুব অল্পের মধ্যেই থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে কাউন্সেলিং-এই পুরোপুরি সেরে যেতে পারে। মাঝারি গোছের উপসর্গের ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং বা ওষুধ - যে কোনও একটা অপশন বেছে নেওয়া যেতে পারে। সেটা রোগীর পছন্দের ওপরেও নির্ভর করে। কিন্তু যদি উপসর্গ খুব বেশি হয়, তাহলে ওষুধ খাওয়াটা আবশ্যক। যেখানে বেঁচে থাকার ইচ্ছে নেই, সেখানে আর রোগীর পছন্দমশন নয় - দুটোই একসঙ্গে হওয়া উচিত।''