Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেইWeather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি'ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না', আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকেরভোটের মুখে ইডির বড় পদক্ষেপ! কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলমহাকাশে হবে ক্যানসারের চিকিৎসা! ল্যাবের সরঞ্জাম নিয়ে পাড়ি দিল নাসার ‘সিগনাস এক্সএল’সঞ্জু-রোহিতদের পেছনে ফেলে শীর্ষে অভিষেক! রেকর্ড গড়েও কেন মন খারাপ হায়দ্রাবাদ শিবিরের?আইপিএল ২০২৬-এর সূচিতে হঠাৎ বদল! নির্বাচনের কারণে এই ম্যাচের ভেন্যু বদলে দিল বিসিসিআইWest Bengal Election 2026 | হার-জিত ভাবিনা, তামান্না তো ফিরবেনা!

বারবার মিসক্যারেজ? অটোইমিউন রোগই কি দায়ী—জানুন ঝুঁকি ও সতর্কতা

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ইদানীংকালে গর্ভপাত বা মিসক্যারেজের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই ‘সাইলেন্ট’ সংকটের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune Disorders)। এক সময় যা বিরল রোগ বলে পরিচিত ছিল, আজ সেই অসুখই এদেশ তথা রাজ্যের প্রজনন মানচিত্রে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 

বারবার মিসক্যারেজ? অটোইমিউন রোগই কি দায়ী—জানুন ঝুঁকি ও সতর্কতা

মিসক্যারেজের জন্য দায়ী অটোইমিউন ডিজিজ

জিনিয়া সরকার

শেষ আপডেট: 30 March 2026 14:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরে কোনও সমস্যা নেই, হঠাৎ করেই জ্বর, কিংবা গাঁটে ব্যথা কিংবা কারও বারবার মিসক্যারেজ (Miscarriage)। সব কিছুর পিছনেই এখন থাকতে পারে অটো ইমিউন ডিজিজ। শুনে এটা মনে হতেই পারে অটোইমিউন ডিজিজ বিরল অসুখ। কিন্তু না!

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ইদানীংকালে গর্ভপাত বা মিসক্যারেজের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই ‘সাইলেন্ট’ সংকটের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune Disorders)। এক সময় যা বিরল রোগ বলে পরিচিত ছিল, আজ সেই অসুখই এদেশ তথা রাজ্যের প্রজনন মানচিত্রে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত গর্ভপাতের কারণ খুঁজতে গেলে চিকিৎসকরা প্রথমে ক্রোমোজোমাল সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা জীবনযাত্রার দিকগুলি খতিয়ে দেখেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই প্রচলিত কারণের বাইরে অটোইমিউন সমস্যাই হয়ে উঠছে এক বড় কারণ। 

যে অটোইমিউন রোগগুলি গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়

গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অটোইমিউন রোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় অদৃশ্য কারণ হিসেবে কাজ করে। এই রোগগুলিতে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) নিজস্ব কোষকেই আক্রমণ করে, যার প্রভাব পড়ে ভ্রূণের ওপরও। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের কয়েকটি অটোইমিউন রোগ গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

লুপাস (Lupus) ও গর্ভাবস্থা

লুপাস ইরিথেমাটোসাস একটি জটিল অটোইমিউন রোগ, যা ত্বক, জয়েন্ট থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে প্রভাবিত করে। গর্ভাবস্থায় এই রোগ থাকলে গর্ভপাত, প্রি-টার্ম ডেলিভারি এবং প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোম (APS)

গর্ভপাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অটোইমিউন রোগ। এই অবস্থায় শরীরে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়। ফলে প্লাসেন্টায় রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ভ্রূণের কাছে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে সমস্যা হয়—যার ফলে গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis)

এটি মূলত জয়েন্টের প্রদাহজনিত অটোইমিউন রোগ। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং গর্ভাবস্থায় জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বাড়ে।

টাইপ ১ ডায়াবেটিস (Type 1 Diabetes Mellitus)

এটি একটি অটোইমিউন অবস্থা, যেখানে শরীরের ইনসুলিন তৈরির কোষ নষ্ট হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণহীন রক্তে শর্করা গর্ভপাত, ভ্রূণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ইমিউন থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা (ITP)

এই রোগে শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায়, ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভাবস্থায় এই অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। সঠিক চিকিৎসার জন্য হেমাটোলজিস্ট ও গাইনোকোলজিস্টের যৌথ তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।

সিলিয়াক ডিজিজ (Celiac Disease)

গ্লুটেন গ্রহণের ফলে হওয়া এই অটোইমিউন রোগ অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। এর ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়, যা গর্ভধারণে সমস্যা ও বারবার গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শহুরে জীবনে দেরিতে সন্তানধারণের প্রবণতা এবং পরিবেশগত নানা প্রভাব, যা শরীরে লুকিয়ে থাকা অটোইমিউন প্রবণতাকে সক্রিয় করে তুলতে পারে। তাই শুরুতেই সতর্ক হওয়া উচিত।

এদেশে সমস্যা আরও জটিল। অনেক সময় প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভপাতকে ‘দুর্ভাগ্য’বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফল বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে প্রয়োজনীয় ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে না। যখন রোগী চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি অনেকটাই হয়ে গিয়েছে।

কী করণীয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার আগেই (preconception care) সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অটোইমিউন স্ক্রিনিং করানো উচিত। এতে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং সুস্থ মাতৃত্বের সম্ভাবনা বাড়ে।

ডায়াগনোসিসের চ্যালেঞ্জ

এই রোগ শনাক্ত করাও সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের পরীক্ষা প্রয়োজন, যা অধিকাংশ শহরে সহজলভ্য নয়। যেমন—ANA (Antinuclear Antibody) টেস্ট বা থ্রম্বোফিলিয়া প্যানেল। এগুলো সাধারণ প্রেগন্যান্সি চেকআপে থাকেও না।

চিকিৎসায় আশার আলো

ঠিক সময়ে অটোইমিউন ডিজিজ রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সফল গর্ভধারণ সম্ভব। APS রোগীদের ক্ষেত্রে লো-মলিকিউলার-ওয়েট হেপারিন (LMWH) এবং লো-ডোজ অ্যাসপিরিন ব্যবহার করে ভাল ফল মিলছে। অন্যদিকে, লুপাস বা অতিরিক্ত সক্রিয় ন্যাচারাল কিলার (NK) সেলের ক্ষেত্রে কর্টিকোস্টেরয়েড ও IVIG থেরাপি ব্যবহার করা হয়। রোগ অনুযায়ী তার নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রটোকল রয়েছে। সেগুলো মেনে চললে তারপর স্বাভাবিক সন্তানধারণ সম্ভব।

তবে এই ধরনের অসুখগুলোর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বহুমুখী বিশেষজ্ঞের টিম—অবস্টেট্রিশিয়ান, রিউম্যাটোলজিস্ট এবং হেমাটোলজিস্টদের যৌথ উদ্যোগেই সম্ভব মা ও ভ্রূণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরও সচেতনতার প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার গর্ভপাতকে শুধুমাত্র সামাজিক লজ্জা বা ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে না দেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা জরুরি। একাধিক ঝুঁকির ক্ষেত্রে প্রথম গর্ভপাতের পরেই বিস্তারিত পরীক্ষা করা উচিত। প্রি-কনসেপশন কাউন্সেলিংয়েও অটোইমিউন টেস্ট অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

লক্ষ্য একটাই—অটোইমিউন রোগ মানেই যেন ‘মা হওয়ার আশা শেষ’ না হয়ে যায়। বরং সঠিক সময়ে শনাক্ত ও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ মাতৃত্বের পথ তৈরি করা সম্ভব। এই ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক সচেতনতা ও চিকিৎসা থাকলে এই ‘অদৃশ্য শত্রু’কেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।

Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.
 


```