এই রোগ সাধারণত মধ্যবয়সে দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়তে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এই দেরির ফলে রোগীর আয়ু প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে এবং নানা জটিলতা তৈরি হয়।

বিরল অসুখ নির্ণয়ে এআই
শেষ আপডেট: 25 March 2026 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আঁদ্রে রেনে রুসিমফ — নামটা অনেকের অচেনা হলেও ‘আন্দ্রে দ্য জায়ান্ট' (Andre the Giant) বললেই চিনে ফেলবেন অধিকাংশ। বিশ্বের অন্যতম কুস্তিগীর ও অভিনেতা ইনি। যাঁর ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা, অস্বাভাবিক বড় শরীর — তাঁকে বলা হত “বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য”। কিন্তু এই বিশালতার পিছনে ছিল এক বিরল রোগ— অ্যাক্রোমেগালি(Acromegaly)। পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমারের কারণে শরীরে অতিরিক্ত গ্রোথ হরমোন তৈরি হলে এই রোগ হয়, যার ফলে হাত, পা, মুখমণ্ডল অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়। যেমনটা ছিল আন্দ্রের। শুধু আন্দ্রে নন, ভারতের প্রখ্যাত কুস্তিগীর দালিপ সিং রানা ওরফে The Great Khali-ও এই একই রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
নতুন গবেষণা কী বলছে?
বর্তমানে সামনে এসেছে এক যুগান্তকারী গবেষণা— যেখানে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র হাতের একটি সাধারণ ছবি দেখেই ধরা পড়তে পারে এই বিরল রোগ। জাপানের কোবে ইউনিভার্সিটি (Kobe University)-র গবেষকরা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেল তৈরি করেছেন, যা মানুষের হাতের পিছনের অংশের ছবি বিশ্লেষণ করে অ্যাক্রোমেগালি শনাক্ত করতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে The Journal of Clinical Endocrinology & Metabolism-এ। গবেষকদের মতে, এই রোগ সাধারণত মধ্যবয়সে দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়তে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এই দেরির ফলে রোগীর আয়ু প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে এবং নানা জটিলতা তৈরি হয়।
গবেষণার অন্যতম গবেষক ফুকুওকা হিদেনোরি জানিয়েছেন, রোগটি ধীরে ধীরে বাড়ার কারণে এবং বিরল হওয়ায় অনেক সময় চিকিৎসকরাও প্রথমে বুঝতে পারেন না। তাই দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন ছিল। সেই লক্ষ্যেই AI প্রযুক্তির সাহায্যে এই গবেষণা চালানো হয়।
এই গবেষণায় জাপানের ১৫টি মেডিক্যাল সেন্টার থেকে মোট ৭২৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই অ্যাক্রোমেগালিতে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁদের হাতের পিছনের অংশের এবং মুঠো করা হাতের মোট ১১ হাজারেরও বেশি ছবি সংগ্রহ করা হয়। এই ছবিগুলিই ব্যবহার করে AI মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ফলাফল ছিল চমকে দেওয়ার মতো। AI সিস্টেমটি ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে রোগ শনাক্ত করতে পেরেছে (positive predictive value 0.88) এবং ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পেরেছে কারও এই রোগ নেই (negative predictive value 0.93)। গবেষকদের দাবি, একই ছবি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের থেকেও ভাল ফল করেছে এই AI মডেল।
গবেষণার প্রধান লেখক ইউকা ওহমাচি জানান, শুধু হাতের ছবি ব্যবহার করেই এতটা নির্ভুল ফল পাওয়া যাবে, তা তাঁদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল। মুখের ছবির তুলনায় হাতের ছবি ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সমস্যাও কম হয়— এটিও এই পদ্ধতির একটি বড় সুবিধা।
রোগের লক্ষণ চিনুন
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অ্যাক্রোমেগালি সারা বিশ্বে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ২৪ জনের মধ্যে দেখা যায়। এই রোগের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হাত-পা ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা এবং ধীরে ধীরে মুখের গঠনে পরিবর্তন।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই AI প্রযুক্তি চিকিৎসকদের বিকল্প নয়। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এখনও ভরসা রাখতে হবে চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, রোগীর শারীরিক লক্ষণ, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, মেডিক্যাল ইতিহাস এবং হরমোন পরীক্ষার উপরই।
তবুও এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, দ্রুত শনাক্তকরণ সম্ভব হলে রোগের জটিলতা অনেকটাই কমানো যায়। শুধু অ্যাক্রোমেগালি নয়, ভবিষ্যতে হাতের ছবির মাধ্যমে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ( Rheumatoid Arthritis), অ্যানিমিয়া (Anemia) বা ফিঙ্গার ক্লাবিং-এর মতো অন্যান্য রোগও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
সব মিলিয়ে,এই গবেষমা প্রমান করলো একটি সাধারণ হাতের ছবি দেখে কিছুটা হলেও বোঝায় সম্ভব তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা গুরুতর রোগকে। এআই (AI) প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে - বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.