প্রায় ১৪,৫০০ ফিটবিট ব্যবহারকারীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রেখেছিলেন গবেষকরা। প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর তাঁদের হার্ট রেট এবং শারীরিক সক্রিয়তা মাপা হয়েছে। দেখা গেছে, যাঁরা সকাল ৭টা নাগাদ ওয়ার্কআউট করেন, তাঁদের শরীরে কার্ডিওমেটাবলিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাকিদের তুলনায় অনেক কম।
.jpg.webp)
রোজ সকাল ৭টায় এক্সারসাইজ করুন
শেষ আপডেট: 25 March 2026 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় আছে, ‘আলি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ’। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় সেই নিয়ম শিকেয় উঠেছে। রাত জেগে কাজ আর বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা এখন দস্তুর। তবে শরীরের ‘কার্ডিওমেটাবলিক’ স্বাস্থ্য বা হৃদযন্ত্র ও বিপাকক্রিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে গেলে এই অভ্যেস বদলানো জরুরি। সম্প্রতি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁদের দাবি, শরীরচর্চা আপনি কতটা করছেন তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ‘কখন’ করছেন। বিশেষ করে সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঘাম ঝরালে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায় ম্যাজিকের মতো।
গবেষণা কী বলছে?
আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি-র বার্ষিক সায়েন্টিফিক সেশনে উপস্থাপিত হতে চলেছে এই গবেষণা। যার মূল কাণ্ডারি হলেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ডিস্ট্রিকশন অফ কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিন-এর ফিজিশিয়ান-সায়েন্টিস্ট ডা. প্রশান্ত রাও। প্রায় ১৪,৫০০ ফিটবিট ব্যবহারকারীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রেখেছিলেন গবেষকরা। প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর তাঁদের হার্ট রেট এবং শারীরিক সক্রিয়তা মাপা হয়েছে। দেখা গেছে, যাঁরা সকাল ৭টা নাগাদ ওয়ার্কআউট করেন, তাঁদের শরীরে কার্ডিওমেটাবলিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাকিদের তুলনায় অনেক কম।
ভোরের ব্যায়ামে কতটা লাভ?
গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান। যাঁরা বিকেলে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করেন, তাঁদের তুলনায় সকালের শরীরচর্চাকারীদের মধ্যে:
কেন সকাল ৭টাই ‘সুইট স্পট’ বা উপযুক্ত সময়?
ডা. প্রশান্ত রাওয়ের মতে, আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ মেনে চলে। সকালের দিকে ব্যায়াম করলে শরীরের হরমোন নিঃসরণ এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি সবচেয়ে ভাল কাজ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে তিনটি প্রধান কারণ থাকতে পারে:
১. সার্কাডিয়ান রিদম: সকালে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ে যা শরীরকে সক্রিয় হতে সাহায্য করে। এই সময় ব্যায়াম করলে মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া সবচেয়ে ভাল হয়।
২. ফাস্টিং স্টেট: সারারাত না খেয়ে থাকার পর সকালে ব্যায়াম করলে শরীর জমানো কার্বোহাইড্রেটের বদলে সরাসরি ফ্যাট বা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি সংগ্রহ করে। ফলে ওজন দ্রুত কমে।
৩. ধারাবাহিকতা: বিকেলে বা রাতে কাজের চাপে ব্যায়াম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সকালে ব্যক্তিগত বা পেশাগত কাজের চাপ কম থাকায় নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা সহজ হয়।
মার্কিন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. চেং-হান চেন-এর কথায়, “এই গবেষণা প্রমাণ করেছে যে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, টাইমিং-এর ওপর জোর দেওয়াও জরুরি।” অন্যদিকে কার্ডিওলজিস্ট ডা. ব্রেট এ সিলোভি জানিয়েছেন, আমেরিকায় মৃত্যুর প্রধান কারণ হল কার্ডিওভাসকুলার রোগ। স্ট্রেস, অনিয়মিত খাওয়া এবং শরীরচর্চার অভাব এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা কিডনির অসুখ থেকে বাঁচতে হলে ঘড়ির কাঁটা মেনে সকাল ৭টাতেই ওয়ার্কআউট শুরু করা উচিত।
সেদিক থেকে দেখতে গেলে উন্নতশীল দেশগুলিতেও বর্তমানে অল্পবয়সে হার্টের অসুখ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়েছে। এছাড়াও শিশু থেকে বয়স্ক সকলেই ওবেসিটিতে আক্রান্ত। তাই সঠিক সময়ে শরীরচর্চা করা খুবই জরুরি। কারণ একথাও অনেকেই বলেন, এক্সারসাইজ করেও মেদ ধরছে না। আগে জানতে হবে কখন এক্সারসাইজ করলে কাজ হবে সেটা। তাই সাবধান হওয়া জরুরি।
গবেষকদের মতে, সকালে অন্তত ২০-৩০ মিনিট ঘাম ঝরানো মানেই দীর্ঘায়ু হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তাই আলসেমি ছেড়ে কাল থেকেই কি অ্যালার্মটা সকাল ৭টায় দিয়ে রাখবেন?
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.