ভিড় নয়, বরং মানসিক শান্তি আর অভিজ্ঞতার খোঁজে ভারতীয় পর্যটকদের নতুন পছন্দ এই জায়গাগুলি।
.jpeg.webp)
অসমের জোরহাট
শেষ আপডেট: 20 December 2025 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেনা পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে ভারতীয় পর্যটকরা এখন খুঁজছেন আত্মার আরাম—সংস্কৃতি, প্রকৃতি আর ইতিহাসে ভরপুর এমন কিছু গন্তব্য, যা এখনও মূল স্রোতের বাইরে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে হাজার হাজার ডেটা পয়েন্ট খতিয়ে দেখে উঠে এসেছে এই নতুন ট্রাভেল ট্রেন্ড (Travel trend 2026)। দেখা যাচ্ছে, ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের নানা ‘আন্ডাররেটেড’ শহর দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভারতীয় ভ্রমণপিপাসুদের কাছে (Best Places to go in 2026)।
সবচেয়ে চমকপ্রদ উত্থান অসমের জোরহাটের ( Jorhat – Best travel destination 2026)। এই শহরের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে প্রায় ৪৯৩ শতাংশ। চা-বাগান, সমৃদ্ধ অসমীয়া সংস্কৃতি আর মাজুলি দ্বীপের নিকটবর্তী অবস্থান—সব মিলিয়ে জোরহাট হয়ে উঠছে ‘সোলফুল গেটঅ্যাওয়ে’-এর নতুন ঠিকানা।

জোরহাট
ভারতের বাইরে নজর কাড়ছে শ্রীলঙ্কার জাফনা (Jafna) (+৩২৫%)। তামিল সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক মন্দির আর শান্ত লেগুনে ঘেরা এই শহর এখন সরাসরি ফ্লাইটের সুবাদে ভারতীয় পর্যটকদের কাছে আরও সহজলভ্য। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মাস্কাট (Muscat +২১১%) তার আরব ঐতিহ্য, দুর্গ, মসজিদ আর সমুদ্রতীরবর্তী সৌন্দর্যে আকর্ষণ বাড়াচ্ছে।

জাফনা
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের তালিকায় দ্রুত ওপরে উঠছে নিউজিল্যান্ডের কুইনস্টাউন (Queenstown +১৫১%)—লেক ওয়াকাটিপু, পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য আর রোমাঞ্চকর অ্যাক্টিভিটির জন্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই (Chian Rai +১৩৩%) তার হোয়াইট টেম্পল, ব্লু টেম্পল আর পাহাড়ি শান্ত পরিবেশে নজর কেড়েছে।

নিউজিল্যান্ডের কুইনস্টাউন
ভারতের মধ্যেই আধ্যাত্মিক টানে ফের জনপ্রিয় হচ্ছে বারাণসী (Varanasi +১২০%)। গঙ্গার ঘাট, প্রাচীন রীতি-অনুষ্ঠান আর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে ঘিরে এই শহরের প্রতি আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে।
এশিয়ার অন্য প্রান্তে ম্যানিলা (Manila +১০৮%) ও হো চি মিন সিটি ( Ho Chi Minh City+৯৮%) আধুনিক শহরজীবন, ইতিহাস আর স্ট্রিট ফুডের মেলবন্ধনে ভারতীয় পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। ইউরোপের দিক থেকে জর্জিয়ার তিবিলিসি (Tiblisi+১০৫%) তার পুরনো শহরের গলি, সালফার বাথ আর সমসাময়িক আর্ট-সংস্কৃতির জন্য উঠে এসেছে ট্রেন্ডিং তালিকায়।
দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইস (Port Luis+৯৩%)ও রঙিন বাজার, উপনিবেশিক স্থাপত্য আর সমুদ্রবন্দরের সৌন্দর্যে জায়গা করে নিয়েছে এই তালিকায়।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—ভারতীয় ভ্রমণপিপাসুরা এখন শুধু ছবি তোলার জায়গা নয়, বরং অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি আর মানসিক প্রশান্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের দিকে এগোতে এগোতে, এই ‘অচেনা’ শহরগুলিই হতে পারে নতুন প্রজন্মের ট্রাভেল ম্যাপের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম।
ফিনল্যান্ড থেকে ফিলাডেলফিয়া - বিবিসি কী বলছে? (Where to go in 2026)
বড়দিন পেরোলেই শীতের মনখারাপ, ছোট দিন আর লম্বা রাত—এই সময়টাই যেন আগামী বছরের ভ্রমণের প্ল্যান করার আদর্শ মুহূর্ত। সেই ভাবনাতেই ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের সেরা ২০টি ভ্রমণগন্তব্যের তালিকা প্রকাশ করল BBC Travel। ঘন জঙ্গল, প্রাচীন রোমান ধ্বংসাবশেষ, পলিনেশীয় সৈকত থেকে শুরু করে বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণ—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতার এক বৈচিত্র্যময় মানচিত্র তুলে ধরেছে এই তালিকা।
তালিকায় রয়েছে পরিচিত কিছু নামও। যেমন আবু ধাবি—সংস্কৃতি আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে শহরটি আগামী বছর আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে চলেছে। জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম এবং শীঘ্রই উদ্বোধন হতে চলা গুগেনহাইম মিউজিয়াম শহরটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
অস্ট্রেলিয়ার উলুরু-তেও থাকছে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। এখানে পর্যটকরা অংশ নিতে পারবেন পাঁচ দিনের ট্রেকিংয়ে, যেখানে এতদিন অনাবিষ্কৃত বালিয়াড়ি আর স্পিনিফেক্স সমভূমি প্রথমবারের মতো খুলে যাবে ভ্রমণপিপাসুদের সামনে।
তালিকার আর এক বড় চমক কোস্টা রিকার ওসা পেনিনসুলা। চলতি বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ‘আন্ডাররেটেড’ গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত এই অঞ্চলকে বিবিসি বলছে—‘ওয়াইল্ডনেস আর ওয়েলনেসের বিরল মেলবন্ধন’। হাওলার বাঁদরের ডাক আর ট্রপিক্যাল পাখির কোলাহলে ঘুম ভাঙা, করকোভাদো ন্যাশনাল পার্কের অসাধারণ জীববৈচিত্র্য, সার্ফিং আর যোগা রিট্রিট—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ। সান হোসে থেকে নতুন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হওয়ায় এই দুর্গম এলাকাও এবার আরও সহজে পৌঁছনো যাবে।
ইউরোপের দিকে তাকালে নজর কাড়ছে ফিনল্যান্ডের ওউলু। স্লোভাকিয়ার ত্রেনচিনের সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৬ সালের ইউরোপিয়ান ক্যাপিটাল অব কালচার নির্বাচিত হয়েছে এই শহর। সারা বছর ধরে চলবে পারফরম্যান্স, আর্ট এক্সিবিশন, ইনস্টলেশন। খাবারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ‘আর্কটিক ফুড ল্যাব’, যেখানে নর্ডিক স্বাদের বিশেষ ডিনার আর টেস্টিংয়ের আয়োজন। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট ক্লক’ প্রকল্পে শিল্পী ও বিজ্ঞানীদের যৌথ উদ্যোগে শহরজুড়ে তৈরি হবে জলবায়ু ও সময় নিয়ে ভাবনাচিন্তার শিল্পকর্ম।
আমেরিকায় ওরেগন কোস্ট জায়গা করে নিয়েছে তার নাটকীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য, তিমি দেখার সুযোগ আর ঐতিহাসিক বাতিঘরের জন্য। একই সঙ্গে ফিলাডেলফিয়া উঠে এসেছে তালিকায় ক্রীড়া আয়োজন আর শহরের ২৫০ বছর পূর্তির উদ্যাপনকে ঘিরে।
এ ছাড়াও রয়েছে কেনিয়ার সামবুরু, যেখানে ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি সাফারির অভিজ্ঞতা মিলবে; এবং ইউরোপের মন্টেনেগ্রো, যার অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের সমুদ্রদৃশ্য নজরকাড়া।
বিবিসির মতে ২০২৬ সালের সেরা ২০ ভ্রমণগন্তব্য (Best travel destination 2026 BBC Travel)
আবু ধাবি
আলজেরিয়া
কলচাগুয়া ভ্যালি, চিলি
কুক আইল্যান্ডস
কোস্টা রিকা
হেব্রিডস, স্কটল্যান্ড
ইশিকাওয়া, জাপান
কোমোডো আইল্যান্ডস, ইন্দোনেশিয়া
লোরেতো, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সুর, মেক্সিকো
মন্টেনেগ্রো
ওরেগন কোস্ট, যুক্তরাষ্ট্র
ওউলু, ফিনল্যান্ড
ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
নম পেন, কম্বোডিয়া
গুইমারায়েস, পর্তুগাল
সামবুরু, কেনিয়া
সান্তো ডোমিঙ্গো, ডোমিনিকান রিপাবলিক
স্লোকান ভ্যালি, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, কানাডা
উলুরু, অস্ট্রেলিয়া
উরুগুয়ে
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই তালিকা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—ভ্রমণ মানে আর শুধু ছুটি কাটানো নয়, বরং প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করাই এখন নতুন প্রজন্মের আসল লক্ষ্য।