
শেষ আপডেট: 14 April 2023 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর বাঙালির পার্বণ মানে পেটপুজো হবে না, তা হতেই পারে না। সামনেই পয়লা বৈশাখ (Poyla Baisakh)। তাই নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়েও বাঙালির তোড়জোর কম নয়। অন্যান্য দিন বিলেতি কায়দায় চপসি আর স্টেক খেলেও, এই দিন যে পাতে বাঙালি খাবার চাই-ই চাই। এপার-ওপার দুই বাংলার খাবার হলে ষোলকলা পূর্ণ হয় সেখানেই।
এ বছর পয়লা বৈশাখ গরমেই কাটবে। প্রচণ্ড দাবদাহ, রোদের তেজ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিচ্ছে। এই সময় হাল্কা ঘরোয়া রান্নাই পছন্দ করছেন সকলে। পয়লা বৈশাখের ভূরিভোজও হবে আবার কম মশলায় হাল্কা ঘরোয়া রান্নার স্বাদও থাকবে। সেই আশা পূর্ণ করছে ক্লাব ভারডে (Club Verde)। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল দুপুরে স্পেশাল বুফে মেনু থাকছে ক্লাব ভারডে-তে। প্রতিটা রান্নাই বাঙালি হেঁশেলের আমেজে ভরপুর। মা-ঠাকুমাদের হাতের অনেক হারিয়ে যাওয়া পদও থাকবে মেনুতে। যেমন-ধনেপাতা বাটা, কুমড়ো ভাপা দুই বাংলারই রসনা তৃপ্ত করবে।

যেখানকার মেনুতে যত ঘরোয়া পদ বেশি, সেই রেস্তোরাঁর এখন ততই কদর। উৎসব-পার্বণে মণ্ডা-মিঠাইকে বলে বলে গোল দিচ্ছে পটল-বেগুন, শাক-চচ্চড়ি। মেনুতে তাই গুরুত্ব পাচ্ছে, শুক্তোনী, ছানার পাতুরি, মোচা দিয়ে ধোঁকার ডালনা। উত্তর কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা যাঁদের তাঁদের খাবার ধরন একটু অন্যরকম। ডাল-পোস্ত সেখানে চাই-ই চাই। আবার ঠাকুরবাড়ির রান্নার হরেক পদও পছন্দ করে ভোজনরসিক বাঙালি। তাই বাংলা নববর্ষে যদি পাতে পড়ে গরম গরম লুচি বা খাস্তা পরোটা, অথবা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি স্পেশাল পোলাও--তাহলে তো জমে ক্ষীর।

বাঙালি এমনিও উৎসব-পার্বণে গরম লুচি খেতে পছন্দ করে। ধবধবে সাদা বা হাল্কা ঘি-য়ে রঙের ফোলা লুচির পেট ফাঁপালে যখন একরাশ গরম ধোঁয়া বেরিয়ে আসে তখন আর ঘ্রাণ যে কী রকম হয় তা বলে বোঝানো যাবে না। ছোলার ডাল বা পুর ভরা আলুর দমে লুচি মাখিয়ে মুখে পুরলে চোখ যেন পরম তৃপ্তিতে বন্ধ হয়ে আসে। আর লুচির পরেই যদি থাকে সুগন্ধি পোলাও, সঙ্গে ছানার পাতুরি তাহলে বোধহয় স্বর্গসুখ পাওয়া যায়। বাঙালির পোলাও আবার মাছ-মাংস ছাড়া জমে না। মুরগির রেজালা বা ময়মনসিংহের মটন ভুনা পোলাওয়ের সঙ্গে বেশ যাবে। ক্লাব ভারডে বাঙালির প্রতিটা পছন্দ বেছে বেছে মেনুতে রেখেছে।
জেনে নিন মেনু

যেহেতু গরম পড়েছে তাই সূচনাটা ঠান্ডা দিয়েই রেখেছে ক্লাব ভারডে। আপ্যায়ন শুরু ঘরোয়া মেজাজের আম পোড়ার শরবত দিয়ে। সঙ্গে থাকছে বেলের পানা। একটু ধাতস্থ হয়ে খানিক জিরিয়ে খিদেটা চাগার দিতে আপনি খেতে পারেন বেগুনি, চিকেন কাটলেট বা কুচো চিংড়ি আর মাছের চপ।
মেন কোর্সে কব্জি ডুবিয়ে লুচি, পোলাও খাওয়ার আগে মাখা, ভাপা আর পোড়ার সেকশনটাও ঘুরে দেখে নিন। কুমড়ো ভাপা, বেগুন পোড়া, টম্যাটো পোড়ার চাটনি, ধনে পাতা বাটা, পাঁপড় ভাজা, আলু কাবলি মাখা, ছোলা মাখা, দই ফুচকা, লঙ্কা-কাসুন্দি সবই পাবেন।

রান্নার হাতযশ আর আতিথেয়তা দুই মুগ্ধ করবে। সেই সঙ্গে ক্লাব ভারডের সাজানো সুন্দর পরিবেশ মনকে তৃপ্তি দেবে।
তাপমাত্রা যতই বাড়ুক, নতুন বছর শুরু হোক মিষ্টি মেজাজেই! মন যদি চায় শেষপাতে সাবেক রসগোল্লা, তবে ক্লাব ভারডে নিরাশ করবে না। সুখাদ্য সহযোগে বৈশাখী আড্ডা আর ভূরিভোজ শেষে মিষ্টিমুখ করা যায় বাঙালি পায়েস এবং ফিউশন মেজাজের ডেজার্টে।
তাপমাত্রার পারদ যতই চড়ুক, গরম যতই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরুক, বাঙালির পয়লা বৈশাখ কিন্তু উৎসবের মেজাজেই কাটবে। খানাপিনার কমতি হবে না। জমবে আড্ডাও। প্রিয় মানুষের হাত ধরে বা পরিবার নিয়ে যদি নববর্ষ সেলিব্রেশনের মুড থাকে, তাহলে ক্লাব ভারডে ঘুরে আসতে পারেন। বুফে মেনু একজনের জন্য খরচ পড়ে ১১০০ টাকা। টেবিল বুক করার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে--9832021865, 9933025319, 9903337825।
দোকানের শরবতের মতোই রঙিন ছোটবেলার পয়লা বৈশাখ, এখন তাতে মিশে বাবার চলে যাওয়ার বেদনা