
ওয়েট ট্রেনিং
শেষ আপডেট: 31 March 2025 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল শরীরসচেতন (fitness freak) কমবেশি সবাই। ডায়েট হোক বা জিম (gym), অনেকে আবার দু’টোকে একসঙ্গে ব্যালেন্স করে চলেছেন। প্রতিটা এক্সারসাইজের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে তার কিছু না কিছু সুফল। পালাটিস (pilates) যেমন সুঠাম শরীর দেয়, যোগাসনে আসে নমনীয়তা। অনেক সময় শোনা যায় মহিলারা ওয়েট ট্রেনিং (weight train) করলে নাকি চেহারা পুরুষালি হয়ে ওঠে। তাই অনেকে পিছিয়ে যান এই এক্সারসাইজ থেকে। কিন্তু আদতে, এসব একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা।
সম্প্রতি, স্কোয়াট আপ সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা মৈত্রী বোদা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মহিলাদের ওজন চাগানো (weight train) নিয়ে বেশ কিছু ভুলভাল তথ্য (myth) ভেসে বেড়ায়। কিন্তু এখানে বলে রাখা দরকার নিয়ম মেনে যদি মহিলারা ওয়েট ট্রেনিং করে থাকেন, এর অনেক সুফল রয়েছে।
মৈত্রীর মতে, মহিলাদের ওয়েট ট্রেনিং নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে ভ্রান্ত ধারণা ঘুরে বেড়ায়, সেগুলো আগে মন থেকে সরিয়ে দেওয়া দরকার।
১) ওয়েট চাগালে চেহারা ভারী হয়ে যায়-
ছেলেদের মতো মেয়েদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের (testosteron) আধিক্য থাকে না। এই হরমোনই পুরুষালি ধরনে মাংসপেশি গঠনেই নেপথ্যে। তাই এটা একদমই ভুল ধারণা। বরং স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করলে ফ্যাট ঝরে শরীর সুগঠিত হয়।
২) ওজন তোলার থেকে কার্ডিও (cardio) বেশি কাজ দেয়-
কার্ডিওতে ক্যালোরি ঝরে, স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ে মাংসপেশির গঠন ভাল থাকে, মেটাবলিজম বাড়ায়। ফলে স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের সঙ্গে কার্ডিও যোগ করে একসঙ্গে একটা রুটিন বানালে তা বেশি কাজে দেয় মহিলাদের শারীরিক গঠনে।
৩) এতে চোট পাওয়ার আশঙ্কা থাকে-
সঠিক নিয়ম মেনে আর পরামর্শ মেনে চললে মহিলাদের জন্য ওয়েট ট্রেনিংয়ের মতো ভাল এক্সারসাইজ কিছু হতে পারে না। বরং শরীরের সহনশক্তি এবং নমনীয়তা বাড়ে, চোটের কোনও ভয় থাকে না।
পাশাপাশি, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম মেনে ওজন তুললে হাড় মজবুত হয়, জয়েন্টের চিড় খাওয়া থেকে রক্ষা করে।
কীভাবে শুরু করা যেতে পারে ওজন তোলার এই এক্সারসাইজ?
১) প্রথমে কম ওজন দিয়ে শুরু করুন, অভ্যাসে আসুন। ধরন ঠিক করুন, সঠিক পরামর্শ মেনে এগোন। পড়ে ধীরে ধীরে ওজন বাড়াতে পারেন, অবশ্যই শরীরের ক্ষমতা বুঝে।
২) মাংসপেশির ওপর চাপ পড়বে, তাই সঠিক পুষ্টির সমতা বজায় রাখুন। শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ দিন। খাবারের তালিকায় ব্যালেন্স আনুন।
৩) শরীরকে মাঝে মধ্যে বিশ্রাম দিন। কোন দিন ওয়েট ট্রেনিং করবেন, মাঝে কবে বিশ্রাম নেবেন, সেই রুটিন নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলুন। এতে মাংসপেশির গঠনে সুফল পাওয়া যায়।