.jpeg)
পরমা দেবজ্যোতি
শেষ আপডেট: 22 April 2025 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'শরীর যেন জানলা সেই জানলা জুড়ে আকাশ,
আকাশ থেকে বৃষ্টি... বৃষ্টিতে ডুবে যাই
উষ্ণ আবেশে ধন্য শুধু ভালবাসারই জন্য,
আমি নিজের কাছে অন্য হতে চাই।
আমি তোমায় ছুঁয়ে একলা হতে চাই...'
পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ক’দিন আগেই উঠে এসেছিল চর্চায়। যাত্রাপালাকে ছোট করার অভিযোগে যাত্রাশিল্পীরা গর্জে ওঠেন পরমার বিরুদ্ধে। চর্চায় উঠে এসেছিল পরমার ব্যক্তিগত জীবনের নানা কথাও। পরমার প্রথম স্বামী ছিলেন বিখ্যাত সংগীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র। কেন প্রথম সংসার ভেঙেছিল পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?
দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার বনেদী বাড়ির মেয়ে পরমা। বাংলা ব্যান্ডের পথিকৃৎ 'মহীনের ঘোড়াগুলি'র গৌতম চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পরমার গানের গুরু। গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একেবারে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল এই উঠতি গায়িকার।
অন্যদিকে দেবজ্যোতি মিশ্র তখন সলিল চৌধুরীর দলের সহকারী মিউজিশিয়ান। টেলিভিশন ধারাবাহিক থেকে নানা অনুষ্ঠানের টাইটেল সঙ তৈরি করতেন দেবজ্যোতি।
গানের সেই সূত্র ধরেই পরমা-দেবজ্যোতির পরিচয়। একসঙ্গে নানা যৌথ কাজে মন বিনিময় সুরকার-সঞ্চালিকা জুটির।
ইতিমধ্যে বিজ্ঞাপন জগতে ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে পরিচয় হয় দেবজ্যোতির। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে ঋতুপর্ণর খ্যাতি। ঋতুপর্ণর ছবিতেই দেবজ্যোতি পরপর সংগীত পরিচালনার সুযোগ পান। ভাগ্য বদলে যায় দেবজ্যোতির।
অন্যদিকে পরমার সঙ্গে দেবজ্যোতির প্রেম ততদিনে জমে ক্ষীর। দু’জনে বিয়ে সেরে ফেলেন চটজলদি। পরে পরমা বলেছিলেন, 'এই বিয়ে ছিল হঠকারী সিদ্ধান্ত! দেবজ্যোতি মিশ্রর সঙ্গে ঘর করা যায় না।'
যদিও পরমার ঘনিষ্ঠরা আজও বলেন, পরমার নাক উঁচু স্বভাব, নিজেকে উঁচুতলার মহিলা প্রমাণ করতে চাওয়াই নাকি দেবজ্যোতির সঙ্গে অশান্তির কারণ। পরমা প্রকাশ্যে দেখাতেন, ভূগোলে তিনি সোনার মেডেল পেয়েছেন। কিন্তু সেই তিনিই হাঁটতে চাননি উচ্চশিক্ষার পথে।
অন্যদিকে, খামখেয়ালি দেবজ্যোতি একেবারেই সংসারী ছিলেন না। এই সব কারণে পরমারও মন উঠছিল সংসার থেকে। তাই সুর বদলে গেল ঝগড়ার সুরে। এক পুত্র সন্তানও হয়েছিল তাঁদের।
ততদিনে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় 'রোজগেরে গিন্নি' রিয়্যালিটি শোয়ের সঞ্চালিকা হিসেবে সারা বাংলার ঘরে ঘরে চেনা মুখ হয়ে উঠেছেন। মানুষের ঘরেঘরে পৌঁছে গেলে খ্যাতি তুমুল বেড়ে যায় যে কোনও শিল্পীর। পরমার নামও অনেক বেশি হয়ে গেছিল দেবজ্যোতির তুলনায়।
তবে ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে পরমা আর দেবজ্যোতি দুজনেই আন্তর্জাতিক মানের কিছু কাজ করে ফেলেন। ঋতুপর্ণর 'নৌকাডুবি' থেকে 'খেলা' ছবিতে গান গেয়েছিলেন পরমা। রাইমা সেন থেকে মনীষা কৈরালার ঠোঁটে ঋতুপর্ণ রাখেন পরমার রবীন্দ্রসঙ্গীত। কোনও তথাকথিত রাবীন্দ্রিক শিল্পীকে না নিয়েই পরমার কণ্ঠ বেছে নেন ঋতুপর্ণ। ঋতুপর্ণর সব ছবিতেই নানা রকম কাজে যুক্ত থাকতেন এই দম্পতি।
শোনা যায়, মহিলাঘটিত কারণেও অনেক সময়ে জড়িয়ে যেত দেবজ্যোতির নাম। সঙ্গে ছিল পরমার নাক উঁচু কথাবার্তাও। শেষমেশ তীব্র অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে ছেলেকে নিয়ে সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন পরমা। কাগজে-কলমে ডিভোর্সও হয়ে যায়। মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয় দু’জনের।
ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ছেড়ে দেওয়া দেবজ্যোতি-পরমার দু’জনের কেরিয়ারেই বড় ক্ষতি। আর দেবজ্যোতির থেকে পরমা গানের জগতে যে সুযোগ পেতেন, তাও তিনি হারালেন।
পরবর্তীকালে দেবজ্যোতি-পরমা দু’জনেই আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। পরমার আরও একটি ছেলেও হয়। বর্তমানে পরমার বড় ছেলে প্যারিসে পড়তে গেছে।
পরমা-দেবজ্যোতির জুটি যদি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে স্থায়িত্ব পেত তবে তা বাংলা গানের জগৎকেই ধন্য করত। বর্তমানে গানের থেকে দূরে সরে শাড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে স্বতন্ত্র জীবন বেছে নিয়েছেন পরমা। তাতেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন মধ্য বসন্তের আনন্দ।