
টিনু আনন্দ সত্যজিৎ রায়
শেষ আপডেট: 23 April 2025 16:31
চিত্রনাট্যকার,পরিচালক,অভিনেতা, কমেডিয়ান-- অনেকগুলো ভূমিকা তাঁর। কিন্তু অনেকেই জানেন না, তাঁর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আসা চলচ্চিত্রের ঈশ্বরের হাত ধরে। সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে সহকারী পরিচালক রূপে প্রথম কাজ শুরু করেন তিনি। তিনি টিনু আনন্দ। গুপী গাইন বাঘা বাইন, অরণ্যের দিনরাত্রি, প্রতিদ্বন্দ্বী, সীমাবদ্ধ এবং অশনি সংকেত ছবিতে সত্যজিতের সঙ্গে কাজ করেছেন টিনু। এর পরে পথ চলা একক পরিচালক রূপে। বলিউড শাহেনশা অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে চারটি ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। 'কালিয়া', 'শাহেনশা', 'ম্যায় আজাদ হু', 'মেজর সাব'। নিজেও অভিনেতা হিসেবে করেছেন অসংখ্য ছবি। দ্য নক্সালাইটস, কথা, কৌন জিতা কৌন হারা, দয়াবান, চমৎকার, দামিনী, দালাল, লাগা চুনরি মে দাগ, গজনি-র মতো অজস্র ছবি। কিন্তু পরিচালক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরুর পথটা শুধু অনন্য নয়, অনবদ্য সব অভিজ্ঞতায় ভরপুর। সেই সবটাই দ্য ওয়ালের একান্ত আড্ডায় ভাগ করে নিয়েছেন টিনু আনন্দ।

"আমার বাবা ইন্দর রাজ আনন্দ চিঠি পেয়েছিলেন মিস্টার রে-র থেকে। হ্যাঁ, সত্যজিৎ রায়ের থেকে। তাতে লেখা ছিল, 'আমি জানুয়ারি থেকে নতুন ছবি শুরু করছি 'গুপি গাইন বাঘা বাইন' আপনার ছেলেকে ট্রেন করতে চাই, ওঁকে ডিসেম্বর মাসে পাঠিয়ে দিন আমার কাছে কলকাতায়।' আমি তো বেরিয়ে পড়লাম কলকাতার উদ্দ্যেশে। আমার বাবা আমায় কেটে দিয়েছিল ট্রেনের থার্ড ক্লাস টিকিট। সবচেয়ে দীর্ঘ রেল যাত্রা সেদিন করেছিলাম আমি। দু'রাত্রি লেগেছিল বম্বে থেকে কলকাতা হাওড়া স্টেশন আসতে। বাবা বলেছিলেন তোমার লড়াই শুরু হল এখন থেকে।" কিন্তু হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে ঘটল অন্য ঘটনা। বাবা বলেছিলেন টিনুকে, কলকাতায় পৌঁছে ফোন করে খবর দিতে। টিনু টেলিফোন বুথ খুঁজে ফোন করতেই বাবা বললেন, এক্ষুনি ফিরে এসো বম্বে! কেন? কারণ জানালেন বাবা, "তুমি বেরোনোর পরেই সত্যজিৎ রায়ের আরেকখানি পত্র এল। তাতে তিনি লিখেছেন 'ইন্দর তোমার ছেলেকে কলকাতা পাঠিও না। আমি বলেছিলাম ওকে আমার সহকারী হিসেবে নেব, কিন্তু ছবির প্রোডিউসার বলেছেন সপ্তম সহকারী পরিচালকের খরচ তাঁরা বহন করতে অপারগ। তাই টিনুকে আমার পরের ছবির জন্য নেব। দুঃখিত'।"

টিনু বসে পড়লেন হাওড়া স্টেশনে। হৃদয় ভেঙে গেছে তাঁর। স্বপ্নেরা যেন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল! কিন্তু পরে ভাবলেন, কলকাতা এত কষ্ট করে এসেই গেছেন যখন, তখন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আলাপ করে তো আসাই যায়। মানিকদাকে ফোন করলেন টিনুজি, সত্যজিৎ রায় বললেন টিনুকে বাংলায়, "উরি বাব্বা তুমি এসে গেছো!" বাংলা বুঝতেন না টিনু। কিন্তু ওই কথাটা আজও মনে আছে তাঁর। দ্য ওয়াল আড্ডায় বলতে গিয়েও হেসে ফেললেন এক্সপ্রেশন-সহকারে। পরের দিন সকাল আটটায় সত্যজিৎ রায় আসতে বললেন টিনুকে বাড়িতে। দরজার বেল টিপতে দরজা খুললেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা সেই ছ'ফুটের বেশি লম্বা মানুষটি, সত্যজিৎ রায় নিজেই! টিনু মন্ত্রমুগ্ধ। কথা হল, চা খাওয়া হল, তার পরে যা হল তা অবিশ্বাস্য। টিনু আনন্দ বললেন, "মানিকদা টাইপ করা সাত আটটা কাগজ স্টেপল করে নিয়ে এসে আমায় দিলেন। বললেন "টিনু তুমি আজ আসবে জানার পরে আমি ভোর চারটেতে উঠে ইংরেজিতে টাইপ করেছি 'গুপী গাইন বাঘা বাইন'-এর স্টোরি। বাংলা থেকে ইংরেজিতে সারাংশ করে দিয়েছি, যাতে তুমি বুঝতে পারো ছবির গল্প।" টিনু বললেন, "তাহলে যে আমায় বম্বে ফিরে যেতে বলে বাবাকে চিঠি লিখেছেন!"

মানিকদা বলেছিলেন "টিনু, আমি ভেবে দেখলাম প্রোডিউসারকে বলব আমাদের ইউনিটের সকলের জন্য রোজ একটা রুটি আর এক হাতা ভাত কম দিতে। তাহলে তোমার জায়গা ইউনিটে হয়ে যাবে। তুমি এত দূর থেকে এসেছো, কাজটা তুমি করবে।" টিনুর গলায় আজও কৃতজ্ঞতা। তিনি বললেন, "তাঁর স্নেহ, ভালবাসা আমি পেলাম সেই প্রথম দিনেই। একটা বম্বের ছেলে যে বাংলা ভাষা জানে না, বাংলা সংস্কৃতি জানে না, তাঁকে মানিকদা সুযোগ করে দিলেন। আজও আমার যখন মন খারাপ হয়, কিংবা একা বসে থাকি, এখন যেমন এই কোভিডের কারণে সোশ্যাল দূরত্বে বাঁধা পড়ে আছি, তখন ভাবি মানিকদার কথা। মনে বল পাই এই বয়সেও।"

এর পরে শ্যুটিংয়ের গল্প। টিনু বলে চলেন। "গুপী গাইন বাঘা বাইনের শ্যুটিংয়ের খানিকটা হয়েছিল রাজস্থানে। আমার প্রিয় জায়গা রাজস্থান, ওখানেই আমার স্কুলিং আজমীরের মেয়ো স্কুল এন্ড কলেজে। সব মহারাজাদের সন্তানরা ওই স্কুলে আমার সহপাঠী ছিল। জয়সলমীরের মহারাজার রাজকুমার পুত্র আমার সহপাঠী ছিলেন। গুপী গাইনের শ্যুটে দু'শোর বেশি উট নিয়ে শ্যুট ছিল। বাঙালি যে সহকারী পরিচালকরা ছিলেন, তাঁরা বাঙালি হওয়ায় তাঁদের হিন্দি অতটা ভাল ছিল না। তখন মাইকে করে হেঁকে হিন্দিতে শট পরিচালনা করার দায়িত্ব মানিকদা আমায় দিলেন। বললেন, "আমি যেমনটা তোমায় বলব, তুমি তেমনটাই মাইকে বলবে ওঁদের বোধগম্য ভাষায়।" আমিও তেমনই বলতে লাগলাম, শুনে শুনে। ওঁর কথা শুনে আমি হাঁকছি, "উট উঠাও! উট বিঠাও।" আমার কথা শুনেই হচ্ছে সব শ্যুট। আমি মানিকদার পাশে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দিচ্ছি! সে দিনই সাত নম্বর সহকারী থেকে আমি মানিকদার ডান হাত হয়ে গেলাম।"

টিনু পরিচালক হিসেবে কাজ শেখার কথা ভাবার পরে তিন জন পরিচালকের সহকারী হওয়ার বিকল্প ছিল তাঁর কাছে। তাঁর বাবা দিয়েছিলেন এই বিকল্পগুলি-- স্ট্যালিনি, রাজ কাপুর এবং সত্যজিৎ রায়। টিনু প্রথমে বেছেছিলেন স্ট্যালিনি। কারণ ইতালি যাওয়ার সুযোগ। ইতালির সুন্দরী মেয়েরা। ইতালিয়ান খাবারও। কিন্তু স্ট্যালিনি ইতালিয়ান ভাষা শিখতে বলেন, ৯ মাস ধরে। তার পরে ফিল্ম ওয়ার্কশপে জয়েন করতে বলেন। টিনুর অত ধৈর্য্য ছিল না তখন। দেখুন টিনুর সেই আড্ডা, লাইভ। https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/262066948331092/?v=262066948331092 রাজ কাপুর ছিলেন টিনুদের পারিবারিক বন্ধু। তাঁর বাবা রাজ কাপুরের তিনটে ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন। সঙ্গম তো সুপার ডুপার হিট। কিন্তু পরিবারের চেনাশোনা লোকের মধ্যে কাজ করতে চাননি টিনু। তাই বেছে নিয়েছিলেম সত্যজিৎ রায়কেই। রাজ কাপুরের মেয়ের বিয়েতে মাণিকদা আর মঙ্কুদি এসছিলেন বম্বেতে। তখনই টিনুর বাবা ছেলের কথা মানিকদাকে বলেন। আরও একটা মজার গল্প টিনু আনন্দ বললেন। "বাবা বলেছিলেন 'তুমি এভারেজ স্টুডেন্ট। তিন বছরের ক্যাটারিং কোর্স করে নাও। আমি তোমায় মাদ্রাজ বিচে হোটেল কাম রেস্টুরেন্ট খুলে দেব।' আমি ভাবলাম খাবার দেওয়া তো বেয়ারার কাজ। আমার বাবা আসলে চাইতেন না, আমি বা আমার ভাই ফিল্ম জগতে আসি। কিন্তু আমার অবসর সময় কাটত ফিল্ম দেখেই। আমি বাবার কথা রাখতে কেটারিং ইনস্টিউটের খাবার নিতে আসার একটা গাড়িতে উঠে জেভিয়ার্সের ক্যান্টিনে চলে যেতাম। ফিরতাম আবার সেই ক্যাটারিংয়ের গাড়িতে। যাতে বাবা ভাবেন, ওঁর পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করেই ফিরলাম। একদিন ক্যাটারিং ইনস্টিউটের প্রিন্সিপাল কল করলেন আমার বাবাকে, দেখা করতে চান। বাবা সেজেগুজে গেলেন, ভাবলেন ছেলে স্কলারশিপ পেয়েছে। প্রিন্সিপাল বললেন 'কেন আপনার টাকা ও ছেলের সময় নষ্ট করছেন এখানে?' আমার বাবা কিংকর্তব্যবিমুঢ়। প্রিন্সিপাল বলেছিলেন "আপনার ছেলের কলেজে উপস্থিতি রেট ০.৯৯ শতাংশ।" বাবা সব শুনে বাড়ি ফিরলেন সন্ধে ছ'টায়। আমি রাতে বাড়ি ফিরলে ডাকলেন। বললেন কোথা থেকে এলে। আমি বলেছিলাম ক্যাটারিং কলেজ। একস্ট্রা ক্লাস করাচ্ছিল টেবিল সাজানোর। বাবা মারলেন এক চড়। আমি বলেই দিলাম ক্যাটারিং আমার ভালো লাগে না, আমি ভালবাসি ছবি। ফিল্ম। বাবা আর বাধা দেননি। এভাবেই ফিল্মে এলাম ক্যাটারিং ছেড়ে।"
টিনু আনন্দের ফিল্ম শিক্ষায় সত্যজিৎ রায় যেমন আছেন, তেমনই আছেন বীরু দেবগণ। সত্যজিতের কাছে তাঁর পরিচালক জীবনের হাতেখড়ি হলেও, টিনু আনন্দের ছবির ঘরানা সত্যজিৎ ঘরানার নয়। অনেক বেশি বাণিজ্যিক। টিনু বললেন, "আমার প্রথম নিজের ছবি শশী কাপুর আর ঋষি কাপুরের মতো দুই স্টারকে নিয়ে 'দুনিয়া মেরি জব ম্যায়'। কিন্তু ছবির সেটে শশী ন'টার আগেই শ্যুট করে বেরিয়ে যেতে চাইত আর ঋষির শর্ত ছিল সকাল দশটার আগে আসবেই না। আমি কীভাবে একসঙ্গে দু'জনের দৃশ্য শ্যুট করব! মানিকদার সঙ্গে কাজ করার সময়ে দেখতাম, ঘড়ি ধরে সৌমিত্র চ্যাটার্জী, উত্তম কুমার, শর্মিলা ঠাকুররা উপস্থিত থাকতেন। আমায় শশী-ঋষির কাণ্ডতে প্রায় শক্ড হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হল। তখন এলেন বীরু দেবগণ। উনি এসে বললেন আরে একজন অভিনেতা না এলে ওখানে ডামি ডুপ্লিকেট ব্যবহার কর।' আমি অবাক! ওই টেকনিক শেখালেন বীরু দেবগণ।" 'কালিয়া' শ্যুটে অমিতাভ আর আমজাদ খানের শট ছিল। আমজাদ জানুয়ারিতে শট দেন আর অমিতাভ মার্চ-এপ্রিলে। ছবি দেখে অমিতাভ অবাক। এ কীভাবে সম্ভব! আমি বলেছিলাম এটাই আমাদের এডিটিং ম্যাজিক। তবে ফ্রেম তৈরি করতে মানিকদাকেই অনুসরণ করে চলেছি।"
অভিনেতা হিসেবে 'নির্বান' ছবি দিয়ে শুরু করলেন অভিনয় জীবন। সেই ছবি রিলিজ করল না। নাসিরুদ্দিন, সারিকা, অমল পালেকর আর টিনু ছিলেন। কিন্তু সারিকার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায়, তা পরে কাজে লাগল টিনুর। সারিকা কমল হাসানকে বিয়ে করলেন। এর পরে পুষ্পক ছবির জন্য অমরেশ পুরীকে ভাবা হলেও তিনি ডেট দিতে পারছেন না ব্যস্ততার কারণে। কমল হাসান সহ-পরিচালক, ওই রোলে কাকে নেবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তখন সারিকা কমল হাসানকে টিনুর ছবি দেখালেন। টিনু তখন পরিচালক বলেই পরিচিত। অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে শাহেনশা ছবি করছেন। অমিতজিও সাহায্য করলেন। টিনুকে একদিন কাজ অফ রেখে পুষ্পকের শ্যুটে যেতে বললেন। কিন্তু পুষ্পকের শ্যুটে কমল দিলেন টিনুকে আরও একটি ছবি, তরুণ পরিচালক মণিরত্নমের 'নায়াকন'। কমল বললেন "এই ছবি করলে তুমি এত জনপ্রিয়তা পাবে যে মাদ্রাজ শহরে তোমায় বোরখা পরে হাঁটতে হবে।" তাই হল। 'নায়াকন' ছবিটি 'পুষ্পক'-এর আগেই রিলিজ করল। এবং দক্ষিনী ছবিতে দর্শকের উন্মাদনা কী, তা টিনু বুঝলেন প্রথম অভিনেতা হিসেবেই। টিনু আনন্দ, আরডি বর্মন, আশা, কিশোর, অমিতাভ, আমজাদ একসঙ্গে সুপার ডুপার হিট ফিল্ম ছিল 'কালিয়া'। এই ছবির শ্যুট কিছু করা হয়েছিল কাশ্মীরে। মিউজিক করবেন আরডি। তিনি তখন একটু অসুস্থ। আশাজি ফোন করলেন টিনুকে 'আমরা শ্যুটের কয়েক দিন আগে কি আসতে পারি না। পঞ্চমের একটা চেঞ্জও হয়ে যাবে।' টিনু এক কথায় রাজি। চলে এলেন আরডি-আশা।

শ্যুটের ফাঁকে একদিন আশাজি বললেন 'আজ পূর্ণিমার রাতে ডাল লেকের শিকারায় আমাদের পার্টি হবে টিনুর জন্য।' আশাজি নিজে হাতে সব পদ রান্না করলেন। হাজির ছিলেন টিনুর পিতা ইন্দর সাবও। অনেকগুলো শিকারা মিলিয়ে পার্টি। পূর্ণিমার রাত। ইন্দর সাব তাঁর আশা তাইকে বললেন এই রাতে আপনার গান হবে না? অমন রাত, ডাল লেক, শিকারা, খানাপিনা সেই সঙ্গে আশা ভোঁসলের সঙ্গে গান শুরু করলেন পঞ্চম। সে এক অর্নিবচনীয় মুহূর্ত, যা আজও স্মরণীয় টিনুর মনে। তবে 'কালিয়া'র গান অত হিট করলেও আরডি পরে টিনুকে বলেছিলেন "আমি আমার বেস্টটা দিতে পারিনি। তোমার পরের ছবিতে দেব।" পরে আর আরডির কাজ করা হয়নি টিনুর ছবিতে। মারা যান তিনি টিনু আনন্দের সঙ্গে আজও জড়িয়ে আছে কলকাতা, বালিগঞ্জ ধাবা। একটা ছবির শ্যুট করতে এসে কলকাতায় সেটের খাবার না খেয়ে বালিগঞ্জ ধাবায় চলে যান প্রিয় মাংসের তরকা খেতে। দোকানের মালিক তাঁকে চিনতে পেরে অবাক হয়ে বলেন, "আপনি সেই টিনু আনন্দ! আমার দোকানে এসছেন! আপনি বসুন ১৫ মিনিটে বানিয়ে দিচ্ছি।" তারই মধ্যে এসে পড়েন মালিকের ছেলে। তিনি এসে টিনুজিকে বলেন "আপনার ছবি দেখে বাবা রোজ বলেন, 'এই টিনু আনন্দ যখন সদ্য তরুণ তখন প্রায়ই আমার ধাবায় এসে মাংসের তড়কা খেত। আজ সে কোথায়। আমি ভাবতাম বাবা বানিয়ে বলেন এসব। কিন্তু আজ সত্যি দেখছি আপনি সেই চেয়ারেই বসে তড়কা খেতে এসেছেন!' ... ছেলেটির চোখে জল।

লকডাউনের পর থেকেই দ্য ওয়াল তার ফেসবুক পেজে আয়োজন করেছে একটি বিশেষ বিভাগের, 'দ্য ওয়াল আড্ডা'। চিকিৎসক থেকে অভিনেতা, গায়ক থেকে অর্থনীতিবিদ-- বিভিন্ন জগতের বিভিন্ন মানুষ প্রতিদিন লাইভ ভিডিওয় শেয়ার করছেন তাঁদের নানা অভিজ্ঞতা, গল্প, গান। রূপসা দাশগুপ্ত রে-র পরিচালনায় সপ্তাহে তিন দিন সন্ধেয় ঘণ্টা খানেকের জন্য জমে ওঠে দ্য ওয়াল ফেসবুক পেজ। সেখানে অভিনেতা ও পরিচালক টিনু আনন্দের মতোই উপস্থিত হয়েছেন গায়ক রূপঙ্কর বাগচি, সঙ্গীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী, চিকিৎসক পরাগবরণ পাল, অর্থনীতিবিদ হায়দর খানের মতো ব্যক্তিত্বরা। কোনও দিন যেমন গানের আসর বসিয়েছেন কোনও গায়ক, কোনও দিন তেমনই সুস্থতা ও সাবধানতা নিয়ে আলোচনা করেছেন কোনও চিকিৎসক। কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর ও নানা মতামত নিয়ে হাজির হয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরাও। মান্না দের জন্মদিনে যেমন দ্য ওয়ালের ফেসবুক পেজে এসে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে লাইভ অনুষ্ঠান করেছেন মান্না দের ভাইপো সুদেব দে। তেমনই কিশোরকণ্ঠী গৌতম ঘোষ বহুদিন পরে আত্মপ্রকাশ করেছেন দ্য ওয়ালের লাইভ আড্ডায়। গান গেয়েছেন রূপঙ্কর বাগচি, আড্ডা দিয়েছেন শান্তনু মৈত্র। আবার মনোবিদ শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী ভরসা দিয়েছেন মানুষকে। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতা। ড্রামস বাজিয়েছেন শিবমণি। সম্প্রতি তেমনই এসেছিলেন টিনু আনন্দ। তাঁর অনবদ্য অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ দর্শক-পাঠকরা। এত অজানা গল্পের সম্ভার তিনি ভাগ করে নিয়েছেন দর্শকদের সঙ্গে, যার তুলনা হয় না। অভিনেতা বা পরিচালক হিসেবে তাঁকে অনেকেই চেনেন। কিন্তু কলকাতার বুকে সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে যে এই মানুষটির প্রথম কাজ শুরু, সে শুরুর সঙ্গে যে আরও কত আনকোরা অভিজ্ঞতারা জড়িয়ে, তা যেন অনুগামীদের জন্য উপহার। এই লাইভ আড্ডাগুলি সবই পাবেন দ্য ওয়ালের ফেসবুক পেজে।