বিদায়ের মুহূর্তটা কখনও সহজ হয় না, বিশেষ করে যখন সেই বিদায় সন্তানের সঙ্গে। বিমানবন্দরের ভিড়, নিয়ম মেনে এগোনো চেক-ইন থেকে ইমিগ্রেশন— সব কিছুর মধ্যেও একটুখানি সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন তিনি।

শেষ আপডেট: 13 April 2026 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদায়ের মুহূর্তটা কখনও সহজ হয় না, বিশেষ করে যখন সেই বিদায় সন্তানের সঙ্গে। বিমানবন্দরের ভিড়, নিয়ম মেনে এগোনো চেক-ইন থেকে ইমিগ্রেশন— সব কিছুর মধ্যেও একটুখানি সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন তিনি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মেয়ের দিকে তাকানো, ছোট্ট করে হাত নেড়ে বিদায়, আর ইশারায় বলা— ‘মাম্মা ফোন করছি’— এই সামান্য সময়টুকুর জন্যই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন একজন মা। পরিচিত অভিনেত্রী স্বস্তিকা (Swastika Mukherjee)-র ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর মেয়ে অন্বেষা মুখোপাধ্যায় আবার বিদেশে ফিরে যেতেই সেই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
স্বস্তিকা লিখেছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ করে ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগে ওই কয়েক সেকেন্ডের জন্য আরেকবার দেখার অপেক্ষা করেন তিনি। মেয়ের কাছ থেকে একটা ছোট্ট ইশারা বা হাত নাড়া— সেটুকুই যেন ভরসা। সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে কিনা, সেই খবর পাওয়ার অপেক্ষাও থেকে যায়।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে এখন একাই বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘোরে, ছোট শহর ছেড়ে বড় শহরে নিজের জায়গা তৈরি করেছে। তবুও বাবা-মায়ের কাছে সন্তান সবসময় ছোটই থাকে। মেয়ে বাড়ি আসার আনন্দ যেমন তীব্র, তেমনই ‘আবার কবে আসবে’— এই অনিশ্চয়তার অপেক্ষাও কম কষ্টের নয়।
নিজের শৈশবের কথাও মনে করেছেন তিনি। দেরি করে বাড়ি ফিরলে তাঁর মা বলতেন, ‘নিজে মা হলে বুঝবি।’ তখন সেই কথা গুরুত্ব না দিলেও এখন তার অর্থ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এখন তিনি নিজেই প্লেন উড়ার আগে পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন। বারবার খোঁজ নেন— ঠিকমতো উঠেছে কিনা, বসেছে কিনা, ব্যাগপত্র সব আছে কিনা, ট্রানজিটে নামলে জানাবে কিনা, ল্যান্ড করার পর খবর দেবে কিনা। তিনি নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন, এত কিছু জেনে আসলে কীই বা করা সম্ভব? তবুও বাবা-মায়েরা এই খোঁজ নেন, কারণ তাঁদের কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মেয়ের ডাকনাম ‘মানি’। স্বস্তিকার কথায়, মেয়ে কাছে থাকলে সময় খুব দ্রুত কেটে যায়, আর দূরে চলে গেলে সময় যেন থেমে যায়। তবুও তাঁর প্রার্থনা একটাই— মেয়ে যেন ভালো থাকে, দূরে থাকলেও ভালো থাকে। কারণ বাবা-মা যতদিন আছেন, ততদিন এই খোঁজ নেওয়া আর যত্ন নেওয়ার সম্পর্কটাও বেঁচে থাকে।
ব্যক্তিগত জীবনেও দীর্ঘ লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন স্বস্তিকা। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে, অল্প সময়ের মধ্যেই মা হওয়া, তারপর ভেঙে যাওয়া দাম্পত্য— একরত্তি মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে ফিরে নতুন করে শুরু করেছিলেন জীবন। প্রায় ২৫ বছর কেটে গেলেও তাঁর ডিভোর্স মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রমিত সেন মেয়ের জীবনে কোনওদিন উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যদিকে, স্বস্তিকা একাই মেয়েকে বড় করেছেন।
বর্তমানে অন্বেষা, Cardiff University থেকে সাইকোলজিতে স্নাতকোত্তর করে লন্ডনেকর্মরত। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আগ্রহ রয়েছে অনেকের। একসময় শ্লোক চন্দনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকলেও দূরত্বের কারণে তা ভেঙে যায়। বর্তমানে লন্ডনের এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন তিনি, এবং ২০২৫ সাল থেকে নিয়মিত তাঁদের একসঙ্গে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন।
পোস্টের শেষে স্বস্তিকা লিখেছেন, মা অপেক্ষা করে। যতদিন মা-বাবা আছেন, ততদিনই এই খোঁজ নেওয়ার মানুষ থাকে। তারপর কী থাকে— সেই প্রশ্নটাই তিনি তুলে রেখেছেন।