মাত্র ১০ বছর বয়সে পণ্ডিত রবি শঙ্করের শিষ্য হওয়া থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি—ঋষভ ঋখীরাম শর্মার সেতারের জাদু ও জীবনের গল্প জানুন।

ঋষভ ঋখীরাম শর্মা
শেষ আপডেট: 22 August 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নতুন নক্ষত্র এবং সেতার বাদক ঋষভ ঋখীরাম শর্মা-র (Rishabh Rikhiram Sharma) জীবন যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে কিংবদন্তি পণ্ডিত রবি শঙ্কর-এর শেষ শিষ্য হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর সাফল্যের গল্প সত্যিই অভাবনীয়।
GQ-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ঋষভের জন্ম এক বিখ্যাত বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারক পরিবারে। তাঁর বাবা সঞ্জয় ঋখীরামকে বিশ্বমানের যন্ত্র প্রস্তুতকারক হিসেবে গণ্য করা হয়। ছেলেবেলায় গিটার বাজানোতে তাঁর আগ্রহ থাকলেও, সেতারের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল ভিন্ন। একবার বাবার সারাই করা একটি ভাঙা সেতার হাতে নিয়েই তিনি মুগ্ধ হন। ঋষভ বলেন, “আমি সেতারটি হাতে নিতেই মনে হল, এটি হ্যারি পটার-এর জাদুর কাঠির মতো আমাকেই বেছে নিয়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমি সারগাম এবং কিছু বলিউড গান বাজিয়ে ফেললাম।”
ঋষভ বলেন, তাঁর একটি পারফরম্যান্সের ভিডিও ইউটিউবে ভাইরাল হওয়ার পর সেটি পণ্ডিত রবি শঙ্করের নজরে আসে। কিংবদন্তী এই শিল্পী তার বাবাকে ফোন করে ঋষভকে তার কাছে নিয়ে যেতে বলেন। ঋষভ বলেন, “গুরুজি আমাকে বাজাতে বললেন। তিনি আমার বাজানো শুনে বললেন, এই ছেলেটির মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে, কিন্তু সঠিক পথপ্রদর্শনের দরকার। এরপর তিনি নিজে আমাকে রাগ তিলক কামোদ বাজিয়ে শোনালেন। সেই দিনই তিনি আমাকে তাঁর শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।”
করোনা মহামারীর সময় ঋষভের মাতামহের মৃত্যু হলে তিনি গভীর দুঃখ পান। সেই দুঃখ সামলাতে তিনি সেতারের আশ্রয় নেন। সেই সময় তিনি ইনস্টাগ্রাম এবং ক্লাবহাউজে অপরিচিতদের জন্য সেতার বাজানো শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে 'মেন্টাল হেলথের জন্য সেতার' (Sitar for Mental Health) নামের একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে। এটি ব্যক্তিগত থেরাপি থেকে শুরু হয়ে এখন মানসিক শান্তি এবং নিরাময়ের এক বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা তিন লক্ষের বেশি।
২০২১ সালে ঋষভ তাঁর ট্যুর শুরু করেন। ২০২২ সালে তিনিই প্রথম ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত হোয়াইট হাউজের দীপাবলি অনুষ্ঠানে এককভাবে পারফর্ম করেন। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাঁর খ্যাতি বহুগুণে বেড়েছে। তাঁর মিউজিক ভিডিওগুলো মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে, এবং তিনি একজন স্টাইল আইকনে পরিণত হন। এ বছর ভারতে তাঁর ১০টি শহরে শো করার কথা থাকলেও, বিপুল সংখ্যক দর্শক আসায় তার দলও অবাক হয়েছে।
ঋষভ শুধু সেতার বাজান না, তিনি দর্শকদের জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা তৈরি করেন। তিনি জানেন যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নতুনদের কাছে কঠিন হতে পারে, তাই তিনি পপ সংস্কৃতির উপাদান যোগ করেন। যেমন, 'গেম অফ থ্রোনস' বা 'কল হো না হো'-এর মতো জনপ্রিয় গানের সুর তিনি সেতারে বাজান। তাঁর আধুনিক পোশাক এবং অলংকার তাঁকে একজন রকার স্টাইল দিয়েছে।
২৬ বছর বয়সী এই শিল্পী এখন ইউরোপে তাঁর কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত। ২০২৬ সালে তিনি ভারতে ফিরবেন, যেখানে তিনি শ্রোতাদের জন্য এক ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। তার স্বপ্ন একটি মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা তৈরি করা, যা কোকো এবং মিডনাইট ইন প্যারিস-এর মতো হবে। তিনি জানান, তিনি বর্তমানে সিঙ্গেল এবং তাঁর সব মনোযোগ সংগীতের প্রতি। তিনি অজয়-অতুল এবং ট্রাভিস স্কট-এর মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।