আজ তিপান্নতে পা রাখলেন বলিউডের ‘থিঙ্কিং অ্যাক্টর’ রণবীর শোরে। চকচকে আড়ম্বরের ভিড়ে তিনি বরাবরই ছিলেন ব্যতিক্রমী—সোজাসাপ্টা, বুদ্ধিদীপ্ত, আবার কখনও তীব্র রসিকতায় ভরপুর। জীবনের পথচলা যেন ঠিক সিনেমার মতোই—কখনও হাসি, কখনও ব্যথা, কখনও গভীর ভাবনার ছায়া।

শেষ আপডেট: 18 August 2025 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ তিপান্নতে পা রাখলেন বলিউডের ‘থিঙ্কিং অ্যাক্টর’ রণবীর শোরে। চকচকে আড়ম্বরের ভিড়ে তিনি বরাবরই ছিলেন ব্যতিক্রমী—সোজাসাপ্টা, বুদ্ধিদীপ্ত, আবার কখনও তীব্র রসিকতায় ভরপুর। জীবনের পথচলা যেন ঠিক সিনেমার মতোই—কখনও হাসি, কখনও ব্যথা, কখনও গভীর ভাবনার ছায়া।
পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্ম রণবীরের। ছোটবেলাতেই নাটকের প্রতি টান তাঁকে নিয়ে যায় রুপোলী পর্দার পথে। ২০০২ সালে ‘এক ছোট্টি সি লাভ স্টোরি’ দিয়ে শুরু হয় চলচ্চিত্র জীবন। ‘জিসম’–এ বিষাদের আবহে ভাসানো তাঁর চরিত্র কিংবা ‘লক্ষ্য’তে তারসেম সিং-এর রঙিন উপস্থিতি, একে একে দর্শকের মনে গেঁথে গিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত উত্থান ঘটে ২০০৬ সালে ‘খোসলা কা ঘোঁসলা’–র বন্টির চরিত্রে। সেই চওড়া হাসি, অদ্ভুত সরলতা আর নিখুঁত টাইমিং তাকে পৌঁছে দেয় অন্য উচ্চতায়। পরের বছর ‘ভেজা ফ্রাই’–তে রঞ্জিত ঠাকুরের ভূমিকায় তার কমিক টাচ প্রমাণ করে, তিনি অভিনয়ের নির্ভরযোগ্য মুখ।
সলমন খানের সঙ্গে ‘টাইগার-৩’, অক্ষয়ের সঙ্গে ‘সিং ইজ কিং’, কিংবা ‘এক থা টাইগার’— বড় তারকাদের ভিড়েও রণবীর সবসময় নিজের আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন। ‘কড়ভি হাওয়া’, ‘ব্লু মাউন্টেনস’ বা ‘সোঞ্চিরিয়া’–র মতো ছবিতে তার গভীর অভিনয় শুধু প্রশংসাই কুড়োয়নি, তাঁকে নিয়ে গেছে আরও গম্ভীর আলোচনায়।
কিন্তু রণবীর শোরের গল্প কেবল পর্দার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও যেন সমান আলোচিত। একসময় অভিনেত্রী পূজা ভাটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে চর্চা চলেছে। পরে কঙ্কনা সেন শর্মার সঙ্গে বিয়ে, পুত্র হরুণের জন্ম, আবার বিচ্ছেদ—সবটাই যেন এক সিনেমার কাহিনি। তবু আজও কঙ্কনার সঙ্গে তিনি সমান মর্যাদায় সন্তানকে মানুষ করছেন। এই পরিণত সম্পর্ক, এই সম্মান—রণবীরকে আরও মানবিক করে তোলে।

পর্দার বাইরেও তার অকপট সত্তা বারবার উঠে এসেছে। ‘বিগ বস’–এ অংশ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—শুধু জনপ্রিয়তার জন্য নয়, সত্যিকারের নিজেকে নিয়ে বাঁচাটাই আসল। সামাজিক মাধ্যমে তার স্পষ্টভাষিতা অনেককে ক্ষুব্ধ করেছে, আবার অনেকের কাছে তিনি হয়েছেন সততার প্রতীক। শিল্পজগত, রাজনীতি কিংবা সাধারণ জীবন—কোনও প্রসঙ্গেই নিজের মত বলতে পিছপা হন না তিনি।
রণবীর শোরে আজও সহজে কোনও খাঁচায় বন্দি হন না। তিনি একাধারে ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রের সেরা মুখ, এক অকপট রিয়েলিটি শো প্রতিযোগী, আবার একজন বাবা, যিনি ছেলের সঙ্গে জীবনের সেরা সময়গুলো ভাগ করে নেন। শোরে এমন এক অভিনেতা, যিনি কখনও গ্ল্যামারের ঝলকানিতে মিশে যাননি।

বরং নিজের স্বকীয়তায়, সততা আর গভীর মানবিকতায় তিনি তৈরি করেছেন এক আলাদা আসন। জীবনের ঝড়ঝাপটায় ক্ষতবিক্ষত হয়েও তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, একদম অকপট, একদম নিজের মতো। আর হয়তো সেখানেই তার আসল সাফল্য।