নীচে ছড়িয়ে আছে নিথর শরীর, আর তার উপর দাঁড়িয়ে এক মানুষ—চোখে কোনও দ্বিধা নেই, মুখে কোনও অনুতাপ নেই। যেন এই নীরবতা, এই ধ্বংসস্তূপই তার স্বাভাবিক পরিবেশ।

শেষ আপডেট: 23 February 2026 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নীচে ছড়িয়ে আছে নিথর শরীর, আর তার উপর দাঁড়িয়ে এক মানুষ—চোখে কোনও দ্বিধা নেই, মুখে কোনও অনুতাপ নেই। যেন এই নীরবতা, এই ধ্বংসস্তূপই তার স্বাভাবিক পরিবেশ। (akshay oberoi, toxic)
‘টক্সিক’-এর নতুন পোস্টারে এইভাবেই প্রথমবার সামনে এল অক্ষয় ওবেরয়ের চরিত্র ‘টনি’। সেই এক ঝলকেই বোঝা যায়, এটি কেবল একটি নতুন লুক নয়—এটি এক অচেনা, তীব্র এবং অস্বস্তিকর মানসিকতার দরজা, যা দর্শকদের নিয়ে যাবে এক অন্ধকার জগতের গভীরে।
এই পোস্টারে অক্ষয়কে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে—একটি রেট্রো অনুপ্রাণিত অবতার, যেখানে অতীতের নান্দনিকতা আর বর্তমানের নিষ্ঠুরতা মিশে গেছে একসঙ্গে। তাঁর দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, প্রায় বিদ্ধ করার মতো; তাঁর উপস্থিতি দৃঢ়, যেন কোনও অদৃশ্য ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু তিনি নিজেই। এই ভঙ্গিমা, এই রুক্ষ সাজসজ্জা এবং কর্তৃত্ব স্পষ্ট করে দেয়—‘টনি’ কোনও প্রচলিত নায়ক নন, আবার সরল খলনায়কও নন। তিনি সেই অস্পষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দা, যেখানে নৈতিকতা আর অমানবিকতার সীমারেখা ক্রমাগত ঝাপসা হয়ে যায়। এই চরিত্রের প্রতিটি স্তর যেন লুকিয়ে রাখে সহিংসতা, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা এবং এক জটিল অন্তর্দ্বন্দ্বের ছাপ।
‘টক্সিক’ নিজেই তৈরি হচ্ছে একটি নির্ভীক, হার্ড-কোর অ্যাকশন চলচ্চিত্র হিসেবে, যেখানে আপসের কোনও জায়গা নেই। অক্ষয়ের এই নাটকীয় রূপান্তর যেন সেই বিশালতা এবং তীব্রতার প্রথম সংকেত। পোস্টারের প্রতিটি উপাদান—তার নির্মম বাস্তবতা, তার গাঢ় ছায়া, তার নিঃসংকোচ অন্ধকার—সব মিলিয়ে স্পষ্ট করে দেয়, এই গল্প কোনও সহজ যাত্রা নয়। এখানে প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে বিপদ, প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে রয়েছে অজানা গভীরতা।

এই চেহারা এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থের পিছনে রয়েছে পরিচালক গীতু মোহন্দাস-এর সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি শুধু একটি চরিত্র নির্মাণ করেননি, তিনি সৃষ্টি করেছেন এক আবহ—যেখানে বাহ্যিক রূপ আর অভ্যন্তরীণ মনস্তত্ত্ব একে অপরকে সম্পূর্ণ করে। এই সৃষ্টির বিস্তৃত কল্পনায় শক্তি জুগিয়েছেন যশ, যার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এই জগতকে দিয়েছে আরও গভীরতা, আরও জটিলতা।
অক্ষয় ওবেরয়ের পাশাপাশি এই ছবিতে রয়েছে এক অনসম্বল কাস্ট—কিয়ারা আদবানি, নয়নতারা, তারা সুতারিয়া এবং হুমা কুরেশি। তাঁদের প্রত্যেকের উপস্থিতি এই গল্পে নতুন আবেগ, নতুন সংঘাত এবং নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই আশা করা যায়। সব মিলিয়ে ‘টক্সিক’ ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক বিশাল পর্দার অভিজ্ঞতা হিসেবে—যেখানে প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি মুহূর্ত দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে। বিশ্বজুড়ে দর্শকদের প্রতীক্ষা আরও ঘনীভূত করে, ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে ১৯ মার্চ, গুড়ি পড়ওয়া এবং ঈদের উৎসবমুখর সপ্তাহান্তে।