বিগত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে—বছরের বিশেষ কিছু উৎসব, বিশেষ দিনে ছবির মুক্তি নিয়ে একরকম হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রত্যেক প্রযোজনা সংস্থাই চায়, সেই দিনগুলোয় দর্শককে টেনে আনতে সিনেমা হলে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা অনেক সময়েই রূপ নেয় সংঘর্ষে। তাই এবার এক নতুন সমাধান সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা হয়েছে।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 29 October 2025 18:17
বাংলা সিনেমার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন এক পুজো এসেছিল, যা আজও কেউ ভুলতে পারে না। ২০২৫-এর সেই উৎসব মরসুম—চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে ছিল আনন্দের, অথচ ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে যেন কোথাও জমে গিয়েছিল এক গাঢ় বিষণ্ণতা। একসঙ্গে চারটি বড় ছবির মুক্তি, তার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাছেঁড়া, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, এবং তিক্ততার বিষ ছড়িয়ে পড়েছিল চলচ্চিত্র জগতে। দর্শক তখন বিভ্রান্ত, হতবাক; শিল্পীরা আহত। “বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ানো”র যে আবেগ এত বছর ধরে গড়ে উঠেছিল, তা যেন এক নিমেষে ঝাপসা হয়ে গেল। তবে সময় যেমন থেমে থাকে না, বাংলা সিনেমাও জানে—ঝড় পেরিয়ে আবার দাঁড়াতে হয়। তাই এবার ঠিক হয়েছে, নতুন করে তৈরি হবে সহমতির এক পথ। এবার শুধু ছবি মুক্তির তারিখ নয়, নতুন করে ভাবা হবে ‘ঐক্য’ নিয়েও।
বিগত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে—বছরের বিশেষ কিছু উৎসব, বিশেষ দিনে ছবির মুক্তি নিয়ে একরকম হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রত্যেক প্রযোজনা সংস্থাই চায়, সেই দিনগুলোয় দর্শককে টেনে আনতে সিনেমা হলে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা অনেক সময়েই রূপ নেয় সংঘর্ষে। তাই এবার এক নতুন সমাধান সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা হয়েছে। ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ স্ক্রিনিং কমিটি বসে তৈরি করেছেন এক ঐক্যমত। তাঁদের ভাবনায় এসেছে এক অভিনব সিদ্ধান্ত—গোটা বছরে ১১টি বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করা হবে বাংলা ছবির মুক্তির জন্য। এই বিশেষ দিনগুলির তালিকায় রয়েছে—২৩ জানুয়ারি (নেতাজি জয়ন্তী), সরস্বতী পুজো, পয়লা বৈশাখ, মে মাসের দুটি পর্যায় (১-১৫ মে ও ১৫-৩১ মে, অর্থাৎ গরমের ছুটি), পবিত্র ইদ, স্বাধীনতা দিবস, দুর্গা পুজো, কালীপুজো (দিওয়ালি) এবং বড়দিন অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর।
ইতিমধ্যেই জানা যাচ্ছে, নন্দিতা শিবপ্রসাদ ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘উইন্ডোজ’ আগামী বছরে তিনটি ছবি আনতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারটিতে। ঠিক তেমনই, ‘প্রজাপতি ২’-এর প্রযোজকও প্রথমে একটি ছবি করার পরিকল্পনা করেছিলেন, পরে আলোচনায় ঠিক হয়েছে—তিনি আসছেন দুটি ছবির সঙ্গে। ফেডারেশন সূত্রে খবর, এই ভাবনাটির মূলে রয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস নিজে। তাঁর প্রস্তাবেই বিষয়টি আলোচনায় আসে, এবং উপস্থিত সকলে তাতে সম্মতি জানান। দ্য ওয়ালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে, তাঁর স্বভাবসিদ্ধ হাসিতে স্বরূপবাবু বলেন—“এখনই এই বিষয়ে কথা বলার সময় আসেনি। ঠিক সময়ে সবটা জানানো হবে।”
বাংলা ছবির পৃথিবীতে এই নতুন চিন্তা হয়তো একটুখানি আশার আলো ছড়াচ্ছে। প্রতিযোগিতা থাক, কিন্তু তা যেন থাকে সম্মানের সীমায়—এই তো চাই। উৎসব হোক সবার, সাফল্যের ভাগ হোক সমান। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—এই নতুন নিয়ম কি সত্যিই বদলাতে পারবে ইন্ডাস্ট্রির চিরচেনা মানসিকতা? নাকি উৎসবের আলোয় আবারও কোথাও এক টুকরো ছায়া লুকিয়ে থাকবে?