.jpg)
শেষ আপডেট: 22 January 2025 18:59
বাঙালি নাকি কাঁকড়ার জাত! এই প্রবাদ বহুল প্রচলিত। অর্থাৎ স্বজাতির কেউ উপরে উঠছে দেখলেই কাঁকড়ার মরণ কামড় দিতে শুরু করে সে, সত্যিই কি তাই? মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের মনে হয়েছিল এমনটাই। জয়া বচ্চনের তরফে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে তা খুব একটা সুখকর নয়। জানিয়েছিলেন কলকাঠি নেড়ে জয়া নাকি কার্যত মুখের ভাত কাড়েন তাঁর। কী ঘটে গুলজার পরিচালিত 'কোশিস'-এর সেটে?
ওই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন জয়া। তবে জানেন কি, জয়া নয়,বরং ওই ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের। তিন দিন শুটিংও হয়ে যায়। তবে হঠাৎই একদিন বাদ দিয়ে দেওয়া হয় মৌসুমীকে। সেই বাদ দেওয়ার নেপথ্যে হাত ছিল জয়ারই, এমনটা আজও মনে করেন মৌসুমী।
কেন? মৌসুমীর দাবি, যে তিনি দিন শুটিং করছিলেন রোজ দেখতেন জয়ার সেক্রেটারি রাত অবধি গুলজারের অফিসে এসে বসে আছেন। কেন, কী কারণে, তা বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎই একদিন গুলজার এসে তাঁকে বলেন, "আগামীকাল থেকে একটু বেশি রাত পর্যন্ত শুট করতে হবে।”
তা সম্ভব ছিল না মৌসুমীর পক্ষে। সে সময় সদ্য মা হয়েছেন তিনি। কোলের সন্তানকে সামলে শুটিং করতে আসছিলেন, এই ঢের! সেখানে রাত! অভিনেত্রী সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যস, ঘটে যায় বিপত্তি। ব্যাপারটা ভালভাবে নেননি গুলজার। সকলের সামনেই মৌসুমীকে জানিয়ে দেন, বহু নায়িকা লাইন দিয়ে আছে এই চরিত্রের জন্য। ওদিকে বরাবরই স্পষ্টভাষী মৌসুমী। তিনিও মুখের উপর বলে দেন, " তাহলে ওদেরকেই নিন।”
এর পরেই ঘটে সেই ঘটনা। মৌসুমী আউট, ইন জয়া। ওই ছবির জন্যই আবার জাতীয় পুরস্কারও পান জয়া। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য পুরস্কার পান গুলজার। বছর পেরিয়েছে। বয়েছে সময়। তবে সেই খারাপ লাগা আজও কমেনি মৌসুমীর। কিছু দিন আগে পাপারাৎজির সামনেই বলেছেন, "আমি জয়ার মতো নেই। ওর থেকে ভাল মানুষ।" জয়া যদিও এ নিয়ে আজীবন বহন করেছেন এক অদ্ভুত নীরবতা। ক্যামেরা দেখলেই রেগে যান তিনি, বিতর্ক থেকেও তাঁর অবস্থান শতদূরে।