
শেষ আপডেট: 27 January 2024 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ১৯৭৮। শ্যুটিং চলছে 'ফুল খিলে হ্যায় গুলশন-গুলশন'-এর। পরিচালক শিকন্দর খান্না মিঠুন চক্রবর্তীকে জিজ্ঞেস করলেন, গাড়ি চালাতে জানো? মাত্র পাঁচটা ছবির পর ঋষি কাপুরের মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন অভিনেতা। গাড়ি চালাতে জানেন না বললে যদি ছবির সুযোগ হাত থেকে চলে যায়! তাই মিথ্যেটাই বলে দিলেন 'ডিস্কো ডান্সার'। বললেন, উনি জানেন গাড়ি চালাতে।
কিন্তু মিথ্যে বললে যে তার মাশুলও গুনতে হয় তা অভিনেতা নিজেই বুঝলেন এবার। শুরু হল শ্যুটিং। অভিনেতাকে বলা হল গাড়ি ড্রাইভ করতে। তবে সেই দৃশ্যে সাধারণ ভাবে গাড়ি চালালে হবে না। চালাতে হবে স্পিডে। প্রথমে স্পিডে গাড়িটা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে, স্লো করতে হবে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে অভিনেতা ঋষি কাপুর ও মুকরি। গাড়িটা স্লো হলেই ওনারা উঠে আসবেন গাড়িতে।

দৃশ্যটিতে শোনার পর এক মুহূর্ত দেরি করেননি মিঠুন। সোজা গাড়িতে উঠে হুহু করে দ্রুত গতিতে চালিয়ে দেন গাড়িটি। আর তার পরক্ষণেই ব্রেক কষেন। সেই সময় ঋষি কাপুর গাড়িতে উঠতে যান। আর তখুনি আবার ব্রেক দেওয়ার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। ঋষি কাপুরের মাথাটা গিয়ে পড়ে গাড়ির বনেটের ওপর। মুহূর্তে রক্তারক্তি কাণ্ড! গলগল করে মাথা থেকে রক্ত বেরোতে থাকে। চতুর্দিকে হইচই পড়ে যায়! কারও বুঝতে আর বাকি থাকে না যে মিঠুন চক্রবর্তী আসলে গাড়ি চালাতে জানেন না।
ভীষণ লজ্জিত হয়ে বারবার ক্ষমা চান উনি সবার কাছে। স্বীকার করেন যে উনি জানেন না গাড়ি চালাতে। পরিচালকের কাছে দারুণ বকাও খান।
সিনেমার শুটিং চলাকালীন এমন বহু ঘটনা ঘটে, যা সারাজীবন মনে থেকে যায় অভিনেতা ও কলাকুশলীদের। এত বছর অভিনয় করে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নিজের নাম উজ্জ্বল করার পর ২০২৪ সালে মিঠুন চক্রবর্তীকে সম্মানিত করা হল পদ্মভূষণ পুরস্কারে।