এই অনুষ্ঠানের আগে একটি প্রচার ভিডিওতে জারিন খানকে বলতে শোনা গিয়েছিল— 'নমস্তে, ম্যায় হুঁ জারিন খান। ম্যায় আ রহি হুঁ, আপকে শহর কলকাতা ৫ নভেম্বর কালীপুজো কি প্যান্ডালও মে।' তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ায় আয়োজকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
ফিনিক্স ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট নামে ইভেন্ট সংস্থার মালিক বিশাল গুপ্ত দাবি করেন, অভিনেত্রীর অনুপস্থিতির কারণে সংস্থার ৪২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরপর ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর নারকেলডাঙা থানায় জারিন খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, টাকা ফেরত চাইলে অভিনেত্রী আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে খুনের হুমকি দেন।
এর ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়, যার মধ্যে ছিল— প্রতারণা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, ভীতি প্রদর্শন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র।
২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর শিয়ালদহ আদালত থেকে জামিন পান জারিন খান। নিম্ন আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে অভিনেত্রী মামলাটি খারিজের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন। ইতিমধ্যে ২০২৩ সালে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিভাস রঞ্জন দে-র সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি জারিন খানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে দেন।
বিচারপতি বিভাস রঞ্জন দে পর্যবেক্ষণে জানান, প্রতিশ্রুতি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ একটি দেওয়ানি মামলা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। যেহেতু এই সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই ফৌজদারি মামলার প্রয়োজন নেই।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ছ'বছর পর মামলার নিষ্পত্তি ঘটল এবং বলিউড অভিনেত্রী জারিন খান আইনি জটিলতা থেকে স্বস্তি পেলেন।