
শেষ আপডেট: 12 January 2024 16:54
নাহি সূর্য নাহি জ্যোতিঃ নাহি শশাঙ্ক সুন্দর।
ভাসে ব্যোমে ছায়া-সম ছবি বিশ্ব-চরাচর॥
অস্ফুট মন আকাশে, জগত সংসার ভাসে,
ওঠে ভাসে ডুবে পুনঃ অহং-স্রোতে নিরন্তর॥
যুগনায়ক তিনি। আজ তাঁর আবির্ভাব দিবস। তিনি স্বামী বিবেকানন্দ। কখনও তিনি আমাদের প্রাণসখা কখনও বা প্রাণের দেবতা। বিবেকানন্দর জন্মদিনটি যুব দিবস। আজকের এই পুণ্যদিনে দ্য ওয়ালে গল্প করতে এলেন স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ। জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'যুগনায়ক স্বামী বিবেকানন্দ'র নায়ক অধিরাজ গঙ্গোপাধ্যায়। তরুণ অভিনেতাকে প্রশ্ন করলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অধিরাজ, তুমি তো টিভি-র জনপ্রিয় মুখ। 'সৌদামিনীর সংসার' ,'লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার' ধারাবাহিকে দর্শক তোমাকে পছন্দ করেছেন। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দর মতো আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
যখন আমি 'সৌদামিনী' করতাম আমার তখনকার কম দাড়িওয়ালা একটা ছবি আমাদের 'যুগনায়ক স্বামী বিবেকানন্দ'র পরিচালক সুশান্তদা দেখেছিলেন। ছবিটা দেখে ওঁর মনে হয়েছিল স্বামীজির সঙ্গে আমার লুকটা মেলে। তারপর আমাকে পাগড়ি গেরুয়া বসন পরে লুক টেস্ট দিতে হয়েছিল। শুনেছিলাম আগেও অনেকে অডিশন দিয়েছিল।
তবে মনে হয় স্বামীজির আশীর্বাদে আমি তাঁর চরিত্র করার সুযোগ পেয়েছি। প্রথমে প্রচন্ড চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল। যাঁর চরিত্র আমি করছি সবাই জানেন সেই মানুষটা যুগনায়ক। অন্যান্য চরিত্রগুলো আমি আমার মতো করে তৈরি করেছি। কিন্তু বিবেকানন্দকে তো আমি তৈরি করতে পারব না। বিবেকানন্দ যেমন আমাকে সেটাই করতে হবে। বিবেকানন্দ হয়ে উঠতে অনেক মানুষ সাহায্য করেছেন আমায়। পরিচালক রাজা আঙ্কেল (সুশান্ত বোস) আমাকে স্বামীজির জীবনের অনেক গল্প শুনিয়েছিলেন। সেগুলো আত্মস্থ করে আমি স্বামীজি হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। সহ অভিনেতা সুমনদা (সুমন কুণ্ডু) আমাকে খুব সাহায্য করেছেন। সুমনদা আগে একটা সিরিয়ালে রামকৃষ্ণদেবের চরিত্র করেছিলেন।এখানেও তাই করেছেন। উনি আমাকে স্বামীজির অনেক বই কিনে পড়তে দিয়েছিলেন।
আগেও একবার আকাশ আটেই দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় স্বামী বিবেকানন্দ করে ভীষণ জনপ্রিয় হন। সেটার জন্য চাপ ছিল?
দুজন মানুষ আলাদা। তাঁদের ব্যক্তিত্ব আলাদা। আমি নরেন হয়েছি ঊনিশ বছর বয়সে। দেবাঞ্জনদা আমার থেকে অনেকটা বড়। বেশ বড় বয়সেই উনি বিবেকানন্দ করেন। আমি ওঁর অভিনয় দেখে ঋদ্ধ হয়েছি। তবে ওঁর সঙ্গে কখনও কথা হয়নি আমার। আগের সব বিবেকানন্দ সম্পর্কিত ছবি আমি দেখেছি। সর্বদমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দি ছবি 'স্বামী বিবেকানন্দ' দেখেছিলাম।
আজ স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিন। স্বামীজির আদর্শ তোমার জীবনে কতখানি মেনে চল?
স্বামীজির আদর্শ মেনেই জীবনের পথে চলতে চাই। নিজের কথা সবসময় না ভেবে আশপাশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। স্বামীজি বলতেন, 'নিজের বাবা মাকে ঈশ্বর মানো, তাঁদের সেবা করো। তাহলেই সঠিক পথের সন্ধান পাবে।' আমি এটাই মেনে চলতে চাই।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নরেনের গায়ে পা দিচ্ছেন, তোমায় দীক্ষা দিচ্ছেন এইসব দৃশ্যগুলো কীভাবে করতে?
খুবই কঠিন ছিল এই দৃশ্য। আমাদের ফ্লোরের মধ্যেই একটা মন্দির আছে। যেটাকে দক্ষিণেশ্বরের মন্দির দেখানো হয়। সেটার পাশের ঘরটাই ঠাকুরের ঘর। সত্যি কথা বলতে যখন এই সিনটা হচ্ছিল, প্রথমে আমার অভিনয় ঠিক হচ্ছিল না। ডিরেক্টর সবসময় বলতেন, সিনটা ভাল করতে গেলে মনের ভিতর থেকে বিষয়টা অনুভব করতে হবে।একসময় দেখলাম নিজে থেকেই হয়ে গেল সিনটা। আমাকে কোনও কষ্ট করতে হল না। যেন স্বামীজিই করিয়ে নিলেন। ঐ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমি ঠাকুরকে ঠাকুর রামকৃষ্ণই দেখছিলাম।
এরকম আরও একটা ঘটনা বলি, ঠাকুর যখন চলে যাচ্ছেন তখন তাঁর যে চিতা জ্বালানো হচ্ছিল সেইসময় আগুনের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। কোনও গ্রাফিক্স নয়, সত্যিই আগুন জ্বালানো হয়েছিল। সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল আমার শরীর জ্বলে যাবে। এর মধ্যেই আমাকে রিআকশন দিতে হবে। আমি চরিত্রটায় এতটা নিমগ্ন ছিলাম যে কষ্টটাকে কষ্ট বলে মনে হয়নি।
স্বামীজির চরিত্র করে বেলুড় মঠের মহারাজদের আশীর্বাদ পেয়েছ?
বেলুড় মঠে আমি একদিন গিয়েছিলাম ঠাকুরের মন্দির, স্বামীজির ঘরের চারপাশে ঘুরছিলাম। তবে মহারাজদের সঙ্গে দেখা হয়নি। আমার এক আত্মীয় রামকৃষ্ণ মিশনে বেলুড় মঠে দীক্ষিত। ওঁর কাছে মহারাজরা আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন। বেলুড়ে যখন ঘুরছিলাম তখন অনেক দর্শক আমায় চিনতে পেরে বলেছেন, আমার অভিনয় দেখে তাঁদের চোখে জল আসে। এগুলো তো জীবনের বড় প্রাপ্তি। আবার আমার প্রজন্মের অনেকেই এই সিরিয়াল দেখে। কারণ স্বামীজি সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য পায়।
বিবেকানন্দর চরিত্র করার সময় নিরামিষ খেতে?
নাহ না। বিবেকানন্দ সারা জীবন আমিষ খেয়েছেন। মৃত্যুর আগের দিনও স্বামীজি আমিষ পদ খেয়েছিলেন। আমি আমিষ খেয়েই বিবেকানন্দের চরিত্রে অভিনয় করেছি।
বিবেকানন্দ হয়ে উঠতে তোমায় কতটা পড়াশোনা করতে হয়েছে?
অনেকটাই করতে হয়েছে। অনেক মন্ত্র শিখে আত্মস্থ করতে হয়েছে। বিবেকানন্দর গাওযা অনেক গানের কথার অর্থ আমি জানতে পেরেছি বুঝতে পেরেছি।
বাস্তব জীবনে অধিরাজ কী পড়াশোনা করে?
আমি মিডিয়া সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। শ্যুটিং চলাকালীন পড়াশোনার সময় পেতাম না। রাত জেগে আমায় পড়াশোনা করতে হয়েছে।
এরকম আইকনিক চরিত্র করলে টাইপকাস্ট হওয়ার ভয় থেকে যায়। তোমার কাছে কেমন অফার আসছে আগামী কাজের?
আমি আগামী দিনে সবরকম চরিত্র করতে চাই। আমার মনে হয় না টাইপকাস্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আগামী দিনে বিবেকানন্দর পর কোন চরিত্রে আমরা দেখতে পাব অধিরাজকে?
আমার স্টার জলসায় একটা নতুন সিরিয়াল আসছে। 'যুগনায়ক স্বামী বিবেকানন্দ'র পর সেটাই হবে আমার নতুন রূপে দর্শকের কাছে আসা।এটা পজিটিভ ক্যারেক্টার। কিন্তু সেটাকে প্রথমে ভিলেন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তবে আগামী দিনে আমি ডিরেক্টর হতে চাই। এটা আমার ছোটবেলার ইচ্ছে।
বিবেকানন্দ তো সন্ন্যাসী ছিলেন। কিন্তু অধিরাজের তো অনেক মহিলা ফ্যান। অধিরাজ কতটা প্রেমে বিশ্বাসী?
(হাসতে হাসতে) আমি এখনও সিঙ্গল।