মঞ্চের আলো নিভে গেলে অনেক শিল্পীই ফিরে যান সাধারণ জীবনে। কিন্তু জোজো মুখোপাধ্যায় যেন সেই মানুষ নন। তাঁর কণ্ঠ যেমন আলাদা, তেমনই তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর জীবনযাপন, তাঁর উপস্থিতি—সবকিছুতেই রয়েছে এক অনন্য ঝলক।

শেষ আপডেট: 17 February 2026 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঞ্চের আলো নিভে গেলে অনেক শিল্পীই ফিরে যান সাধারণ জীবনে। কিন্তু জোজো মুখোপাধ্যায় (Jojo Mukherjee)যেন সেই মানুষ নন। তাঁর কণ্ঠ যেমন আলাদা, তেমনই তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর জীবনযাপন, তাঁর উপস্থিতি—সবকিছুতেই রয়েছে এক অনন্য ঝলক। বহু মানুষ এখনও জানেন না তাঁর পদবি। অনেকেই জানেন না, তিনি দুই সন্তানের মা, বিবাহিত একজন নারী। অথচ মঞ্চে আজও তাঁকে সম্বোধন করা হয় ‘মিস জোজো’ বলে। যেন সময় তাঁর পরিচয় বদলাতে পারেনি। তাই তাঁকে ‘জোজো দ্য রকস্টার’ বললে কোনও অতিরঞ্জন হয় না—বরং সেটাই যেন তাঁর পরিচয়।
এই রকস্টারের জীবনে হিরের প্রতি এক অদ্ভুত টান রয়েছে। নিজেই স্বীকার করেন, তিনি হিরে ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসারই এক ঝলক সম্প্রতি ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভাইরাল ভিডিওতে। সেখানে জোজো নিজের চোখের চশমাটি দেখাচ্ছেন। প্রথম দেখায় সেটি সাধারণ চশমা মনে হলেও, তার ফ্রেমে বসানো রয়েছে হিরের সূক্ষ্ম কারুকাজ। আর সেই চশমার দাম শুনলে বিস্ময়ে থমকে যেতে হয়—প্রায় ১ লাখ টাকা। হালকা হেসে তিনি বলেন, “এই চশমাটা আমার থেকেও বেশি এক্সপেনসিভ।”
চশমার পর নজর যায় তাঁর হাতে। আঙুলে ঝলমল করছে একটি আংটি—৫.২ ক্যারেটের হিরে বসানো। তার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, তাঁর কানের দুলও কম নয়। যখন কিনেছিলেন, তখন তার দাম ছিল প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। যেন প্রতিটি অলংকার তাঁর জীবনের আলাদা গল্প বলে—সংগ্রামের, সাফল্যের, আর নিজের মতো করে বাঁচার গল্প।
তবে এই ঝলমলে ছবির পিছনে রয়েছে এক গভীর মানবিক গল্পও। এক সাক্ষাৎকারে জোজো ফিরে গিয়েছিলেন কোভিডের দিনগুলিতে। তাঁর কণ্ঠে তখন কোনও ঝলক ছিল না, ছিল এক অন্যরকম সত্যের ভার। তিনি বলেছিলেন, কোভিড অনেক কষ্ট এনেছে, অনেক প্রিয় মানুষকে কেড়ে নিয়েছে। চারপাশে তিনি দেখেছেন হতাশা, বিষণ্ণতা, মানুষের ভেঙে পড়া। কিন্তু সেই অন্ধকারের মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন এক নতুন আলো।
জোজোর কথায়, কোভিড তাঁর জীবনকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেই সময়েই তাঁর জীবনে আসে ‘আদি’। সেই আগমন যেন তাঁকে আবার মানুষ করে তোলে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি বরাবরই ওয়ার্কোহলিক ছিলেন। কাজই ছিল তাঁর সবকিছু। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মধ্যে তিনি যেন ধীরে ধীরে মেশিন হয়ে যাচ্ছিলেন। কোভিড তাঁকে থামতে বাধ্য করেছিল। আর সেই থামার মধ্যেই তিনি আবার নিজের হৃদস্পন্দন শুনতে পান। আবার অনুভব করেন, তিনি শুধু একজন শিল্পী নন—তিনি একজন মানুষ।