রিয়েলিটি শো প্লেব্যাক সিঙ্গার তৈরি করতে পারে না—এমনটাই মনে করতেন আশা ভোঁসলে। কেন এমন বলেছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী?

আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 22:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯২ বছর বয়সে কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) চলে গেলেন। তাঁর মৃত্যুতে গানের জগতের একটা বড় যুগ শেষ হলো। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গান আর সুর নিয়ে মেতে ছিলেন। ২০২২ সালে কলকাতায় এসে তিনি রিয়েলিটি শো এবং সিনেমার গান (প্লেব্যাক) নিয়ে কিছু জরুরি কথা বলেছিলেন। আশাজির মতে, রিয়েলিটি শোগুলো নতুন গায়ক খুঁজে দিলেও সিনেমার জন্য আসল ‘প্লেব্যাক সিঙ্গার’ তৈরি করতে পারে না। তিনি মনে করতেন, রিয়েলিটি শো থেকে ভাল গায়ক পাওয়া যায় যারা স্টেজে অনুষ্ঠান করতে পারেন, কিন্তু সিনেমার প্লেব্যাক সিঙ্গার হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা এক সাধনার বিষয়।
মধুবালা থেকে শুরু করে আজকের করিনা কাপুর— কয়েক প্রজন্ম ধরে সব নায়িকাদের জন্যই তিনি গলা দিয়েছেন। ‘দম মারো দম’ বা ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো তাঁর হাজারো গান আজও মানুষের মুখে মুখে ঘোরে। এমনকি এই বয়সেও তিনি বিদেশের মাটিতে হাজার হাজার মানুষের সামনে লাইভ গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে রাখতেন।
আশাজির মতে, রিয়েলিটি শোগুলো নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে সাহায্য করলেও তারা সরাসরি ‘প্লেব্যাক’ শিল্পী তৈরি করতে পারে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই শোগুলো শিল্পীদের স্টেজ পারফর্ম করার জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম দিলেও সিনেমার প্লেব্যাক গায়কী সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। একজন প্লেব্যাক শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য প্রচুর সাধনার প্রয়োজন এবং তাঁদের চিন্তাভাবনা ও কাজের ধরন সাধারণ শিল্পীদের চেয়ে আলাদা হয়।
উল্লেখ্য, সেই সময় আশা ভোঁসলে কলকাতায় এসেছিলেন তাঁর নতুন বাংলা অ্যালবাম ‘পঞ্চম তুমি কোথায়’-এর উদ্বোধনে। প্রয়াত কিংবদন্তি সুরকার রাহুল দেব বর্মণের (পঞ্চম দা) গাওয়া আটটি গান নিজের কণ্ঠে দুর্গাপুজোর বিশেষ উপহার হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন তিনি।
সাদাকালো যুগের মধুবালা, হেলেন বা আশা পারেখ থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্মের ঊর্মিলা মাতন্ডকর বা করিনা কাপুর— সবার জন্যই কণ্ঠ দিয়েছেন এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী। ‘আইয়ে মেহেরবান’, ‘দম মারো দম’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ থেকে ‘য়াই রে য়াই রে’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান আজও মানুষের মুখে মুখে ঘোরে। এমনকি জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি গান গেয়ে গিয়েছেন।