
শেষ আপডেট: 1 October 2021 04:45
সব্যসাচীর পোস্ট পড়ে রীতিমতো চোখে জল নেটিজেনদের। ঐন্দ্রিলার কষ্ট শুধু নয়, একই সঙ্গে এই পোস্ট দুরন্ত এক ভালবাসার কথাও বলে। যে ভালবাসার জোরে মারণ অসুখও বুঝি একটু ভয় পায়। সব্যসাচীর লেখার প্রতিটা ছত্রে স্পষ্ট, প্রিয়তম বান্ধবীকে সারিয়ে তুলতে মনপ্রাণ দিয়ে কতটা লড়াই করছেন তিনি।
সব্যসাচী লিখেছেন, "যা বুঝলাম, এই অসুখটার কোনো নিয়মবিচার নেই, ওষুধপত্র সবই আছে অথচ নেই, চিকিৎসার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ আছে কিন্তু আরোগ্যের নেই। কথা ছিল সেপ্টেম্বর অবধি চিকিৎসা চলবে, ক্রমে সেটা গুটিগুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ডিসেম্বরে। প্রতিবার যখন ডাক্তার বলেন চিকিৎসার সময় বাড়াতে, ওর মুখটা যন্ত্রনায় কুঁকড়ে যায়। প্রতিবার কেমো নেওয়ার পর কয়েক রাত অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করে।"
সব্যসাচী এতদিন ধরে কাছ থেকে দেখে, ক্যানসারের এই ঝড়ঝাপটা সামলে লিখেছেন, "ক্যানসার শুনলেই অধিকাংশ মানুষ দুভাবে রিঅ্যাক্ট করে। প্রথমটি হলো, ক্যান্সারের কোনও অ্যান্সার নেই। দ্বিতীয়টি হলো, আরে এটা কোনও ব্যাপারই না, এই তো আমার অমুকের হয়েছিল, কেমো চলাকালীন কাজকর্ম সবই করতো, এখন তো ঠিকই আছে। বাস্তবে দুটোর কোনোটাই সত্যি নয়। প্রতিটা মানুষের ক্ষেত্রে অসুখটা ভিন্ন জাতের এবং ভিন্ন মাপের। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তার মাত্রা নির্ভর করে। ২০১৫ তে যখন ঐন্দ্রিলার প্রথমবার ক্যান্সার ধরা পরে, প্রাথমিক বিপদ কেটে যাওয়ার পর, কেমো চলাকালীন ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতো, টিউশন যাওয়া থেকে শুরু করে স্কুটি চালানো, সবই করেছে, কিন্তু এই বার বিষয়টা একদমই উল্টো। মাঝেমধ্যে বিছানা থেকে নেমে বাথরুম যাওয়ারও জোর পায় না।"
ঐন্দ্রিলার পাশাপাশি নিজের কথাও খানিক লিখেছেন সব্যসাচী। সে কথা মজা করে লিখলেও, তাতেও মিশে আছে ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে লড়াইয়েরই কথা। তিনি লেখেন, "ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় অবধি আমি একটু আধটু গোলকিপিং করতাম।... দুই পক্ষেই এগারোজন করে খেলে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়, এগুলো দেখেই আমি অভ্যস্ত। কিন্তু এটা তো আর তা নয়, এ বড় অসম লড়াই। একটা তেকাঠি রক্ষা করতে পুরো দলটা কেবল লড়েই যায়, ডাক্তার, পরিবার, বন্ধু, সমাজ, সকলে। এরই ফাঁকে যে কত কাছের মানুষ অচেনা হয়ে যায়, আবার কত দূরের মানুষ নিঃস্বার্থে প্রার্থনা করে, তা হিসেবের বাইরে।"
সব্যসাচীর লেখা শেষ কটা লাইনে যেন উপচে পড়েছে হতাশা এবং একই সঙ্গে মনের জোর। তিনি লিখেছেন, "এই লড়াইয়ে কোনও নিয়ম নেই, সময়সীমা নেই, আক্রমণ নেই, কাউন্টার অ্যাটাক নেই, কেবল রক্ষণটুকু আছে। ... খেলার মাঠের বন্ধুরা কেউই আর সেইভাবে অবশিষ্ট নেই আমার জীবনে। মাঝেমাঝে ইচ্ছা হয় তাদের ডেকে এনে বলি, একবার দেখে যা হতচ্ছাড়াগুলো, জীবনের সেরা কিপিংটা আমি এখন করছি।"