নতুন বছরের শুরুতেই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবরটি দিয়েছিলেন তিনি। ১১ জানুয়ারি সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি।

শেষ আপডেট: 11 February 2026 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের শুরুতেই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবরটি দিয়েছিলেন তিনি। ১১ জানুয়ারি সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি। গান, মঞ্চ, রাজনীতি—সবকিছুর মাঝেও যে তাঁর জীবন নীরবে নতুন সুরে বাঁধা পড়ছে, সে খবর তখনই জানিয়েছিলেন অনুরাগীদের। আর এবার, সেই আনন্দের আরেকটি অধ্যায় খুলে গেল সোশ্যাল মিডিয়ায়। (Aditi Munsi, newborn)
সম্প্রতি অদিতি নিজের প্রোফাইলে সন্তানের প্রথম ছবি শেয়ার করেছেন। তবে সে ছবি পুরো নয়, আড়ালেই রয়ে গেল মুখ। ফ্রেমে ধরা পড়েছে এক জোড়া ক্ষুদে পা। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে অদিতি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর হাতের মাঝে নিরাপদে রাখা তাদের সন্তানের ছোট্ট দু’টি পা। বাবা-মায়ের আঙুলে জড়িয়ে আছে নতুন জীবনের স্পর্শ। আরেকটি ছবিতে শুধু অদিতির হাত, তার উপর আলতো করে রাখা ছেলের পা—মায়ের স্পর্শে যেন আশ্বাসের নরম প্রতিশ্রুতি।
ছেলের পায়ের ছবি প্রকাশ্যে এলেও আপাতত মুখ দেখানোর ইচ্ছে নেই অদিতির। সন্তানের নামও এখনও জানানো হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, হয়তো অন্নপ্রাশনের দিনেই প্রথমবার সবার সামনে আসবে খুদের মুখ। ততদিন পর্যন্ত এই রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে কৌতূহল।
অদিতির পোস্ট ঘিরে নেটপাড়ায় ভালোবাসার বন্যা। শুভেচ্ছা, আশীর্বাদ আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে কমেন্ট বক্স। অনুরাগীরা যেমন আনন্দে আপ্লুত, তেমনই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সেই ছোট্ট পৃথিবীটিকে এক ঝলক দেখার জন্য।
জি বাংলার মঞ্চ থেকেই পরিচিতি পেয়েছিলেন অদিতি। তাঁর মিষ্টি হাসি আর স্বতঃস্ফূর্ত গানে খুব সহজেই মন জয় করেছিলেন দর্শকদের। পরে তিনি রাজনীতির ময়দানেও পা রাখেন। বর্তমানে তিনি রাজারহাট গোপালপুরের বিধায়ক। সংগীত আর রাজনীতি—দু’টি ভিন্ন জগত সমান দক্ষতায় সামলেছেন তিনি।
২০১৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের পৌরপিতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন অদিতি। সেই থেকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের দুই মঞ্চেই পাশাপাশি হেঁটেছেন তাঁরা। বিয়ের সাত বছর পর এবার তাঁদের জীবনে এল নতুন অধ্যায়—মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের সূচনা।
অদিতিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল জি বাংলা সোনার চ্যানেলের একটি গানের অনুষ্ঠানে বিচারকের আসনে। গত কয়েক মাস তিনি ছিলেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আলো-ঝলমলে স্টুডিওর বাইরে, ক্যামেরার আড়ালে তিনি তখন তৈরি হচ্ছিলেন জীবনের সবচেয়ে বড় ভূমিকায়।
একজন শিল্পী, একজন জনপ্রতিনিধি, একজন স্ত্রী—এই পরিচয়ের সঙ্গে এখন জুড়েছে ‘মা’। ছোট্ট দু’টি পা যেন তাঁর জীবনের ছন্দ নতুন করে লিখে দিল। তবে সেই ছোট্ট মুখটি কবে সামনে আসবে? অন্নপ্রাশনের দিন কি খুলবে সেই প্রতীক্ষার পর্দা? আপাতত অপেক্ষাই সঙ্গী। কারণ কখনও কখনও সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো একটু দেরিতেই পূর্ণতা পায়।