তাই বলে রিজার্ভ লিস্টেও থাকবেন না? ধ্রুব জুরেল, যশস্বী জয়সওয়াল, রিয়ান পরাগরা তাঁকে টপকে জায়গা করে নেবেন? দু-দুটো আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পরপর দু’বছর নেতৃত্ব দিয়ে আইপিএল ফাইনালে তুলে যিনি একবার খেতাব জিতে নেন, ব্যাট হাতেও দাপট দেখান, তাঁকে এভাবে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে কোন যুক্তিতে?

শ্রেয়স আইয়ার
শেষ আপডেট: 19 August 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএলের শেষ প্রহরে একটা জাঁদরেল নাম পেয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার—‘সরপঞ্চ’! বলাই বাহুল্য, সমর্থকদের আদর আর অনুরাগের স্বীকৃতি। পাঞ্জাব কিংস, যারা ১৬ বছর ধরে প্লে-অফের স্বাদ পায়নি, তাদের ফাইনালে তুলেছিলেন। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সামনে দাঁড়িয়ে। একসূত্রে বেঁধেছিলেন গোটা টিমকে। যে কারণে দলের ‘মুখিয়া’র আবেগাপ্লুত সম্ভাষণ!
সেই সরপঞ্চকে ফের একবার ব্রাত্য রাখলেন জাতীয় দলের নির্বাচকরা। আজ মুম্বইয়ে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে টি-২০ টিমের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে পাশে বসিয়ে যখন গড়গড়িয়ে টিম লিস্ট পড়ে শোনালেন অজিত আগারকর, তখন প্রধান নির্বাচকের দেওয়া পনেরো জনের তালিকায় শ্রেয়স আইয়ার অনুপস্থিত!
আইপিএলে ১৭৫-এর স্ট্রাইক রেট নিয়ে ছ’শোর উপর রান তুলেছেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দলের অন্যতম কাণ্ডারী, টিমের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও বটে, তবু লাল বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড সিরিজে তিনি ব্রাত্য। এবার টি-২০ ফর্ম্যাটেও তাঁকে অবহেলা করা হল।
কারণ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কাটাছেঁড়া চলবেই। কিন্তু এসবের আড়ালে যে প্রশ্নের জবাব শ্রেয়স খুঁজতে চাইবেন, সেটা তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আদৌ সাতাশের বিশ্বকাপের জন্য তাঁর কথা ভাবা হচ্ছে? তিনি যাই করেন নিন না কেন, ঘরোয়া ক্রিকেট-আইপিএল মিলিয়ে যতই রান করুন না কেন, তাতে কি ডাল গলবে? আদৌ পারবেন নির্বাচকদের মনোরঞ্জন করতে? কী তাঁদের প্রত্যাশা—সেই প্রশ্নও কি আদৌ জানেন শ্রেয়স? উত্তর খোঁজা তো অনেক পরের কথা!
বিশ্লেষকরা যদিও বলবেন, শুভমান গিল আর শ্রেয়স আইয়ার যেহেতু স্বভাবধর্মে ও শৈলীতে একই গোত্রের ব্যাটার—দুজনেই নামেন তিনে, দুজনেই ডানহাতি, থিতু হতে সময় নেন, তারপর চালিয়ে খেলেন—ফলে টি-২০-র মতো ফর্ম্যাটে এমন ‘সাবেকি’ গোছের দুজন ব্যাটারকে দলে রাখাটা অর্থহীন! যেখানে আগ্রাসনই মূল মন্ত্র, সেখানে অভিষেক শর্মাই যে তুরুপের তাস—সেটা জোর গলায় বলার দরকার পড়ে না।
কিন্তু তাই বলে রিজার্ভ লিস্টেও থাকবেন না? ধ্রুব জুরেল, যশস্বী জয়সওয়াল, রিয়ান পরাগরা তাঁকে টপকে জায়গা করে নেবেন? দু-দুটো আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পরপর দু’বছর নেতৃত্ব দিয়ে আইপিএল ফাইনালে তুলে যিনি একবার খেতাব জিতে নেন, ব্যাট হাতেও দাপট দেখান, তাঁকে এভাবে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে কোন যুক্তিতে?
শ্রেয়সের কি আরও কিছু করা বাকি? উত্তর: না।
তাঁর এভাবে বাদ পড়া কি দুর্ভাগ্যের? উত্তর: অবশ্যই হ্যাঁ।
আমাদের কি নির্বাচকদের এই নিয়ে দোষ দেওয়া উচিত? উত্তর: পুরোপুরি না।
তাই বলে রিজার্ভেও না রাখার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায়? উত্তর: মোটেও না।
এই সমস্ত হ্যাঁ-না মিলিয়ে যেটা পড়ে থাকে সেটা শ্রেয়সের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভবিষ্যৎ! ছাব্বিশের টি-২০ বিশ্বকাপের সুর এতে খুঁজতে যাবেন না—দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন আগারকর। কিন্তু ঘরপোড়া গোরু শ্রেয়স তো প্রশ্নটা তুলবেনই! যিনি বিরাট কোহলি চোট পাওয়ার কারণে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা পাকা করেন, তাঁর সাদা বলের ক্রিকেটের ভাগ্যের একটা আবছা সংকেত হয়তো এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পাওয়া গেল। মুম্বইয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলেছিলেন। তবু ভারতীয় এ টিমে জায়গা পাননি। এবার এশিয়া কাপে খেলাও অধরা রয়ে গেল। যে ময়দানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান তুলেছেন, সেখানেই টি-২০ টুর্নামেন্ট খেলতে পারবেন না—এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে?
‘শ্রেয়সকে কার বদলে দলে নেব?’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন আগারকর। জবাবটা তাঁদের খোঁজার কথা। সমর্থকরা শুধু নীরব দর্শক মাত্র। যাঁরা শুধু এটুকু জানেন, সাদা বলের ক্রিকেটে এমন রত্ন, এমন প্রতিভাকে হেলায় হারানো যায় না! তিনি ‘সরপঞ্চ’। বঞ্চনার পথে যদি তাঁর প্রস্থানের চিত্রনাট্য লেখা হয়, সেটা ভারতীয় ক্রিকেটের দুর্ভাগ্য।