তিনদিন আগে অবধি নেপালের কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না ফুল মেম্বার দলের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলার। এখন সিরিজ জিতেছে, তাও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে।

নেপাল ক্রিকেট টিম
শেষ আপডেট: 30 September 2025 09:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারজার গ্যালারিতে এবার তেরঙ্গা নয়, নেচে উঠল লাল–নীল পতাকা। দর্শক আসনে ঢাকঢোল, স্লোগান, নাচগান। আর বাইশ গজে লেখা হল ইতিহাস। একদা টি-২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (West Indies) হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল নেপাল (Nepal)! তাও ২-০ ব্যবধানে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই। প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন ভরাডুবি কে কল্পনা করেছিল?
শুরুতেই ধাক্কা, শেষ পর্যন্ত ধস
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং এমনিতেই ভয় জাগায়। নামের পাশে রয়েছে দু’বারের টি-২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তকমা। কিন্তু এদিন গোটা দল ছন্নছাড়া। ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারেই কেবল ১৬ রান! একসময় স্কোরকার্ডে ২ উইকেটে ১৬ লেখা, ভাবাই যায় না! ওপেনার জুয়েল অ্যান্ড্রু (Jewel Andrew) মাত্র ২ রানে বোল্ড, কেইসি কার্টি (Keacy Carty) কভারে ক্যাচ তুলে ফিরলেন মাত্র ১ রানে।
এরপরও ভরসা ছিল জেসন হোল্ডারের (Jason Holder) উপর। ঝড় তুলবেন, আশা রেখেছিল অনেকে। কিন্তু সেই খোয়াবও ধুলোয় মিশল। ১৫ বলে ২১ রানের বেশি করতে পারলেন না জেসন। শেষমেশ ক্যাচ দিয়ে ফিরতেই শেষ আশাটুকুও উড়ে গেল। একে একে সাজঘরে বাকিরা। দল গুটিয়ে গেল মাত্র ৮৬ রানে। অর্থাৎ, ৯০ রানে পরাজয়ের হোঁচট খেল ক্যারিবিয়ানরা।
আদিল আলমের আগুনে স্পেল
নেপালের জয়ের নেপথ্যে ঝলমলে নাম—মহম্মদ আদিল আলম (Mohammad Aadil Alam)। তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা এই মিডিয়াম পেসার নিলেন ৪ উইকেট, মাত্র ২৪ রানে। প্রথমে স্লোয়ার আর ব্লকহোলের নিখুঁত মিশ্রণ, পরে ব্যাটসম্যানদের প্রলুব্ধ করে একের পর এক উইকেট। তাঁর দাপটেই চূর্ণবিচূর্ণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং অর্ডার।
#REREL
কেবল আলমই নন। কুশল ভুর্তেল (Kushal Bhurtel) নজর কাড়লেন ব্যাট–বল দু’হাতেই। বোলিংয়ে তিন উইকেট, সঙ্গে দুর্দান্ত জোড়া ক্যাচ। আর গুলসন ঝা-র (Gulsan Jha) ফিল্ডিং রীতিমতো নজিরবিহীন—দুইবার ডাইভিং ক্যাচে প্রতিপক্ষকে সাজঘরে পাঠালেন!
আসিফ–জোরার ঝলক
আসলে নেপালের জয়ের ভিত গড়ে দেয় ব্যাটিং। ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে ছিল ধীরস্থির খেলা, একটিও ছক্কা আসেনি। তবু আসিফ শেখ (Aasif Sheikh) আর সুনদীপ জোরা (Sundeep Jora) মন:সংযোগ হারাননি। পাওয়ারপ্লে শেষে ৭৪/৩। তারপরেই বদলে গেল খেলার চেহারা।
আসিফ থাকলেন অপরাজিত ৬৮ রানে। অন্যদিকে জোরা ঝড় তুললেন ৩৯ বলে ৬৩ করে। তাঁর ব্যাট থেকে এল পাঁচটি ছক্কা। দু’জনে মিলে গড়লেন ১০০ রানের জুটি। নেপালের ইনিংস শেষে স্কোরবোর্ডে ১৭৩/৬।
ক্যারিবিয়ান লজ্জা, নেপালের গৌরব
৮৩ অল আউট। সংখ্যাটা কেবল পরিসংখ্যান নয়, স্থায়ী কলঙ্কের দাগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-২০ আন্তর্জাতিক ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বনিম্ন রান। আর ৯০ রানে হারের রেকর্ড? অ্যাসোসিয়েট দেশ নেপালের কাছে—তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধানে পরাজয়ের তালিকায় চার নম্বরে।
নেপালের কাছে এ জয় মানে স্বপ্নপূরণ। সিরিজ দখলে রাখার তাৎপর্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামনেই রয়েছে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) কোয়ালিফায়ার। তার উপর এই সাফল্য এসেছে দলের সেরা স্পিনার সন্দীপ লামিচানে (Sandeep Lamichhane) ছাড়া। ফলে আসল পরীক্ষার আগে চনমনে গোটা শিবির।
ক্রিকেটের নতুন মানচিত্রে নেপাল
তিনদিন আগে অবধি নেপালের কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না ফুল মেম্বার দলের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলার। এখন সিরিজ জিতেছে, তাও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। শারজার মঞ্চে তারা উঠে এসেছে নতুন শক্তি হিসেবে। ক্রিকেট বিশ্বে ছোট দেশ হলেও এখন আর নেপালকে হেয় করার উপায় নেই।