প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর তোপে দিশেহারা লখনউ! ভাল শুরুর পরেও মিডল অর্ডারের ধসে ১৬৪ রানেই থামল পন্থ-ব্রিগেড। গুজরাট টাইটান্সের পরিকল্পিত বোলিংয়ের সামনে লখনউয়ের ব্যাটিং বিপর্যয়ের বিস্তারিত রিপোর্ট পড়ুন।

প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ
শেষ আপডেট: 12 April 2026 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুতে গতি, মাঝে ভরসা, শেষে ধস। লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) ইনিংস যেন তিনটে আলাদা আলাদা গল্প। উপসংহার যদিও একটাই—একরাশ হতাশা। ঘরের মাঠে ২০ ওভারে ১৬৪/৮। নিঃসন্দেহে অনেকটা কম। আর এই স্কোরের পেছনে বড় কারণ—গুজরাতের জার্সিতে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর (Prasidh Krishna) দুরন্ত স্পেল।
ব্যাট করতে নেমে গোড়ায় খারাপ খেলেনি লখনউ। মিচেল মার্শ (Mitchell Marsh) আর এডেন মার্করাম (Aiden Markram) দ্রুত রান তুলছিলেন। প্রথম চার ওভারে ৪৫। ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) নামার পর আক্রমণের তেজ আরও বাড়ে। কিন্তু সমস্যা শুরুও এখানেই। সেট হওয়ার পরে কেউ-ই সেভাবে বড় ইনিংস খেলতে পারলেন না। মার্শ আউট ১১ রানে। পন্থ ১৮। ভাল শুরুর অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগানো গেল না।
খেলার আসল মোড় ঘোরে মিডল ওভারে। নায়ক প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (Prasidh Krishna)। একের পর এক আঘাত হানেন তিনি। প্রথমে মার্করাম—৩০ রানে আউট। তারপর আয়ুষ বাদোনি (Ayush Badoni) ও নিকোলাস পুরান (Nicholas Pooran)। শেষে নাইট-বধের নায়ক মুকুল চৌধুরি (Mukul Choudhary)। চারটি উইকেট। সবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। বাউন্সার, লেংথ—সব মিলিয়ে ব্যাটারদের দিশেহারা করে দেন প্রসিদ্ধ। একসময় ৬০/২ থেকে হঠাৎ ১০৯/৫—এই ধাক্কা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লখনউ।
মাঝে কামব্যাকের চেষ্টা চালান পুরান, সামাদরা। নিকোলাস পুরান করেন ১৯। অব্দুল সামাদ (Abdul Samad) ১৮। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। শেষদিকে সামান্য লড়াই মহম্মদ সামি (Mohammed Shami) আর জর্জ লিন্ডের (George Linde) দৌলতে। কিছু রান ওঠে। শেষ ওভারে আসে ১৫। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে।
গুজরাত টাইটান্সের (Gujarat Titans) এই ম্যাচে বোলিংয়ে ছিল অনেক বেশি গোছানো। মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj) শুরুতেই চাপ তৈরি করেন। কাগিসো রাবাডা (Kagiso Rabada) ব্রেকথ্রু এনে দেন। অশোক শর্মা (Ashok Sharma) গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তোলেন। কিন্তু আসল পার্থক্য গড়ে দেন প্রসিদ্ধ। তাঁর স্পেলই গতি বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ড বলছে—১৬৪/৮। এই পিচে লড়াই করার মতো রান, কিন্তু ম্যাচ জেতার মতো? প্রশ্ন থাকছেই।