আসলে কেউই খারাপ ক্রিকেটার নন। শুধু বেস প্রাইস, রোল ও ঝুঁকির ভারসাম্যে পিছিয়ে যাচ্ছেন। নিলামের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার পরই বোঝা যাবে—২ কোটি ক্যাটাগরি কাদের বাঁচায়, আর কতজনকে হাতুড়ি ওঠার আগেই ছেঁটে ফেলে।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 2 December 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাগজে কলমে ২ কোটি টাকার বেস প্রাইস দেখলে মনে হয় ঝকঝকে সুযোগ। কিন্তু বাস্তবে? আইপিএল ২০২৬–এর মিনি অকশনের (IPL 2026 Auction) আগে এই ক্যাটাগরিই কিন্তু অনেক তারকার দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। মোট ৭৭টি ফাঁকা জায়গা। তার মধ্যে বিদেশিদের জন্য মাত্র ৩১টি স্লট। স্বাভাবিকভাবে ২ কোটি বেস প্রাইসের লম্বা তালিকার অনেকটাই নড়বড়ে। ৫ ডিসেম্বরের আগে সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন শর্টলিস্ট জমা দেবে, তখন অনেকের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
এই ক্যাটাগরিতে ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green), লিয়াম লিভিংস্টোন (Liam Livingstone), ওয়ানিন্দু হসরঙ্গা (Wanindu Hasaranga), মাতিশা পাথিরানা (Matheesha Pathirana) বা ডেভন কনওয়ের (Devon Conway) মতো ‘হেভিওয়েট’থাকলেও সমস্যা অন্যত্র। কারও রোল স্পষ্ট নয়, কারও সাম্প্রতিক আইপিএল রেকর্ড দুর্বল, আবার কেউ আঘাত-প্রবণ। নিলামের কঠিন বাস্তব—২ কোটি ট্যাগ মানেই আপনি ‘জরুরি’—এমনটা মোটেও সত্য নয়!
কেন ২ কোটি ক্যাটাগরি ‘মাইনফিল্ড’?
আসলে এই ট্যাগ একদিকে আত্মবিশ্বাস জোগায়, আবার অন্যদিকে বাজার ছোট করে দেয়। এখন দলগুলো রোল-ভিত্তিক স্কাউটিংয়ে চলে। অল্প দামে নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী ক্রিকেটার পেয়ে গেলে, ২ কোটি বেস প্রাইসের প্লেয়ারদের এড়িয়ে যায়। এমন বিদেশি ক্রিকেটারকে নিতে গেলে দরকার তিনটি জিনিস—পুরো সিজন পাওয়া, বহুমুখী প্রতিভা আর ধারাবাহিক ফর্ম।
যে কারণে জাঁতাকলে জশ ইংলিস (Josh Inglis)। পাঞ্জাব কিংসের হয়ে গত মরসুমে দারুণ খেললেও এ বছর ব্যক্তিগত কারণে তিনি মাত্র ২৫ শতাংশ ম্যাচ খেলবেন—আইপিএল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তা জানিয়েও দিয়েছে। বিদেশি উইকেটকিপার–ব্যাটারের ক্ষেত্রে এ এক ভয়ানক অসুবিধা। তার ওপরে ২ কোটি বেস প্রাইস—খরিদ্দার পাওয়াই কঠিন।
একই সমস্যা পেসার অ্যাডাম মিলনে (Adam Milne) বা টাইমাল মিলসের (Tymal Mills)। যেহেতু তাঁরা চোট-প্রবণ এবং কম দামে ফিট, তরুণ বিকল্প সহজলভ্য, সেই কারণে তাঁদের ফিরেও দেখবে না বেশিরভাগ দল। ফিঙ্গার–স্পিনিং অলরাউন্ডার অ্যাশটন আগার (Ashton Agar), লিয়াম ডসন (Liam Dawson) বা আকিল হোসেন (Akeal Hosein)—সবাই ভাল ক্রিকেটার। কিন্তু ভারতের মাটিতে যে কোনও দলে দেশি স্পিনারের ভরা প্যাকেজ! ফলে বিদেশি স্পিনারকে ২ কোটি দিয়ে নেওয়াটা বিলাসিতা… প্রয়োজনীয়তা নয়।
‘ডেঞ্জার জোনে’ কারা?
অকশন ডায়নামিক্স মাথায় রেখে দেখা যাচ্ছে, কিছু নাম সবচেয়ে ঝুঁকিতে—টম ব্যান্টন (Tom Banton), জেমি স্মিথ (Jamie Smith), শাই হোপ (Shai Hope)—টপ-অর্ডার/রাইট-হ্যান্ড কিপার-ব্যাটারের বাজার এতটাই ভিড়ে ঠাসা, যে বিদেশিদের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ নেই। ড্যান লরেন্স (Dan Lawrence)—ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পার্টটাইম অফস্পিন করে দিতে পারেন। কিন্তু ২ কোটি বেস প্রাইসে তেমন জরুরি নন। ঠিক তেমনই জ্যাকব ডাফি (Jacob Duffy), ম্যাট হেনরি (Matt Henry)—অসাধারণ আন্তর্জাতিক পেসার, কিন্তু টি-২০ ব্র্যান্ড ভ্যালু আইপিএলে কম। ডেভিড উইজে (David Wiese)—ফিনিশিং রোল জানেন, বয়স বেশি। সবাই যে এখন ভবিষ্যৎমুখী স্কোয়াড গড়তেই আগ্রহী! আবার উইল ও’রুক (Will O’Rourke)—চোট থেকে ফেরা তরুণ পেসার। তাঁকেও ২ কোটি দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইবে না কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি।
আসলে এরা কেউই খারাপ ক্রিকেটার নন। শুধু বেস প্রাইস, রোল ও ঝুঁকির ভারসাম্যে পিছিয়ে যাচ্ছেন। নিলামের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার পরই বোঝা যাবে—২ কোটি ক্যাটাগরি কাদের বাঁচায়, আর কতজনকে হাতুড়ি ওঠার আগেই ছেঁটে ফেলে।