ভারত-বাংলাদেশ-আইসিসির ত্রিমুখী টানাটানির মধ্যে আজমলের মন্তব্য। যা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্ষমতা, রাজনীতি আর নিরাপত্তা–বিতর্ক কতটা গভীরে ঢুকে পড়েছে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা কতটা স্বাধীন? সেই পুরনো প্রশ্নই নতুন করে উসকে দিলেন প্রাক্তন পাকিস্তান স্পিনার সইদ আজমল (Saeed Ajmal)। করাচিতে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (International Cricket Council) নিশানা করে আজমলের দাবি, সংস্থা আপাতত ভারতের প্রভাবাধীন—এমন অবস্থায় এর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে।
‘নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না আইসিসি’
আজমলের অভিযোগের মূল সুর একটাই—বিশ্ব ক্রিকেটে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট। তাঁর বক্তব্য, দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী বোর্ড ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (Board of Control for Cricket in India) চাপে আইসিসি আর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। ‘যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের উপর নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না পারে, তাহলে এই সংস্থার থাকা–না থাকা একই কথা!’ সাফ মন্তব্য আজমলের৷
প্রাক্তন স্পিনারের আরও দাবি, শুধু তিনি নন—অনেক টেস্ট–খেলুড়ে দেশের বোর্ডও নাকি একই মত পোষণ করে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছে না। আজমলের মতে, ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থে নিরপেক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে আইসিসি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আইসিসির শীর্ষপদে রয়েছেন প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি জয় শাহ (Jay Shah), যিনি ২০২৪ সালের শেষদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঠিক আগে, দায়িত্ব নেন।
পাকিস্তানে না খেলা নিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
আজমলের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের পাকিস্তান সফর না করা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (Champions Trophy 2025) নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকার করে ভারত। বিশ্ব টুর্নামেন্ট হওয়ায় আইসিসি ভারতের আবেদন মেনে নেয়। ফলে ভারত তাদের সব ম্যাচ খেলে দুবাইয়ে। বাকি দলগুলিকে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে যাতায়াত করতে হয়।
এই সিদ্ধান্তকেই ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আজমল। তাঁর কথায়, ‘পাকিস্তানে না খেলার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। কিন্তু আইসিসি কিছুই করতে পারেনি, কারণ এখন সংস্থাটা ভারতনিয়ন্ত্রিত।’
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও গ্লোবাল টুর্নামেন্ট তারা ভারতে খেলবে না। যেমন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) পাকিস্তান তাদের ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়।
বাংলাদেশের অনুরোধ, আইসিসির নতুন পরীক্ষা
এই টানাপড়েনের মাঝেই আরেক জটিলতা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board) নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং আইসিসির কাছে ভেন্যু বদলের আবেদন জানিয়েছে। বিকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত শ্রীলঙ্কার নাম৷ যদিও সূত্রের খবর, আইসিসি এই অনুরোধ মানতে নারাজ। এখনও পর্যন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।
ভারত-বাংলাদেশ-আইসিসির ত্রিমুখী টানাটানির মধ্যে আজমলের মন্তব্য। যা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্ষমতা, রাজনীতি আর নিরাপত্তা–বিতর্ক কতটা গভীরে ঢুকে পড়েছে। প্রশ্ন একটাই—আইসিসি কি আদৌ এই চাপ সামলে সত্যিকারের ‘বিশ্ব সংস্থা’ হয়ে থাকতে পারবে?