কেরিয়ারে যতবার স্কোয়াড সদস্য হয়ে বিদেশ সফরে গিয়েছেন, ততবার অধিনায়ক ও কোচের কুর্সিতে নতুন নতুন মুখ দেখেছেন। শুরুটা হয়েছিল রোহিত শর্মাকে দিয়ে। আপাতত থিঙ্ক ট্যাঙ্কের শীর্ষে গৌতম গম্ভীর।

অভিমন্যু ঈশ্বরন
শেষ আপডেট: 8 August 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলোর নীচে অন্ধকারের মতোই ইংল্যান্ড সিরিজের (England Series) দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য অনেক কঠিন প্রশ্ন সামনে দাঁড় করিয়েছে। যার মধ্যে একটি প্রথম একাদশ বাছাই নিয়ে। দলে স্থিতাবস্থা আসেনি। ওয়ান ডাউনে কে, ছয়ে-ই বা কে নামবে, বুমরাহর পাকাপাকি বিকল্প কে হতে পারেন?—এই নিয়ে এখনও চর্চা চলছে।
এসবের মধ্যে কাঁটা হয়ে বিঁধছে অভিমন্যু ঈশ্বরনকে (Abhimanyu Easwaran) ফের একবার সু্যোগ না দেওয়ার বিতর্ক। জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পর মোট ৯৬১ দিন কেটেছে। কিন্তু একটি ম্যাচেও টিম ইন্ডিয়ার (Team India) ব্যাগি ব্লু টুপি মাথায় দেওয়ার সু্যোগ পাননি অভিমন্যু। তাঁকে টপকে কারা কারা সুযোগ পেয়েছেন সেই তালিকা ক্রমশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।ঘরোয়া ক্রিকেট হোক চায় প্রস্তুতি ম্যাচ—সবেতেই রান কুড়নো সত্ত্বেও জাতীয় দলের বন্ধ দরজার তালা কিছুতেই খুলতে পারছেন না প্রতিভাবান ব্যাটার। এটা নেহাতই দুর্ভাগ্য? নাকি তিনি পরিকল্পিত বঞ্চনার শিকার? ইংল্যান্ড সিরিজশেষে প্রশ্নটা ফের মাথাচাড়া দিয়েছে।
অনেকের মতোই জবাব জানা নেই ঈশ্বরনের বাবা রঙ্গনাথন পরমেশ্বরন ঈশ্বরনের (Ranganathan Parameshwaran Easwaran)। শুধু এটুকু বুঝেছেন, ছেলে আরও একবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিতে না পেরে বিরক্ত এবং কিছুটা হলেও ক্রুদ্ধ। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ও সু্যোগ না পেয়ে হতাশ। যখন ফোন করলাম অভিমন্যু বলল, ‘বাবা, আমি এখনও জায়গা করে নিতে পারলাম না!’
যদিও অবসাদ দু’দিনের। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে ঘরোয়া মরশুমের প্রস্তুতি ছকে ফেলেছেন ঈশ্বরন। রঙ্গনাথনের বাবার কথায়, ‘ও প্রথমে বেঙ্গালুরু উড়ে যাবে দলীপ ট্রফির প্রস্তুতির জন্য। ১০-১২ দিন থাকবে। তারপর কিছুদিনের জন্য দেরাদুনে আসবে। ফের ফিরে যাবে। এই মুহূর্তে খুব বিচলিত ও। কিন্তু আমায় জানিয়েছে, যে স্বপ্ন গত ২৩ বছর ধরে বুনেছি, সেটা একটা কি দুটো ম্যাচে সু্যোগের অভাবে ভেঙেচুরে যেতে পারে না।’
এই পরিস্থিতিতে কতটা পাশে রয়েছে দল? কী বক্তব্য টিম ম্যানেজমেন্টের? রঙ্গনাথনের জবাব, ‘গৌতম গম্ভীর ওকে বলেছেন, ‘তুমি ঠিক কাজ করছ। নিজের প্রাপ্য সুযোগ ও টানা সু্যোগ পাবে। আমি তোমায় একটা কি দুটো ম্যাচের পর বাদ দেব না!’’
ন্যায্য সু্যোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গম্ভীর। কিন্তু তা মিলবে কবে? এই ক’বছরে অভিমন্যু বহুবার দলের সঙ্গে বিদেশে সফরে গিয়েছেন। নাম উঠেছে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে। কিন্তু প্রথম একাদশের ক্যাপ মাথায় পরার সুযোগ পাননি। প্রথমবার ডাক পাওয়ার পর তাঁকে ডিঙিয়ে যাঁরা দলে নাম লিখিয়েছেন, তাঁরা হলেন: কেএস ভরত, সূর্যকুমার যাদব, যশস্বী জয়সওয়াল, ঈশান কিষান, মুকেশ কুমার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, রজত পাটিদার, সরফরাজ খান, ধ্রুব জুরেল, আকাশ দীপ, দেবদত্ত পাড়িক্কল, নীতীশকুমার রেড্ডি, হর্ষিত রানা, সাই সুদর্শন ও অংশুল কম্বোজ। এঁদের সকলেই কি ধারেভারে, যোগ্যতায়-গুণমানে অভিমন্যুর চাইতে এগিয়ে? কীসের ভিত্তিতে এত খেলোয়াড়ের ভিড়ে নাম তুলতে ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি? করুণ নায়ার বাদ পড়ার পর যদি একই সিরিজে ফের কামব্যাক করতে পারেন, তাহলে অভিমন্যুকে খেলানো হচ্ছে না কেন? প্রশ্ন অনেক। জবাব অধরা।
এতকিছুর মধ্যে যেটা সবচাইতে বিস্ময়কর, তা হচ্ছে, কেরিয়ারে যতবার স্কোয়াড সদস্য হয়ে বিদেশ সফরে গিয়েছেন, ততবার অধিনায়ক ও কোচের কুর্সিতে নতুন নতুন মুখ দেখেছেন। শুরুটা হয়েছিল রোহিত শর্মাকে দিয়ে। আপাতত থিঙ্ক ট্যাঙ্কের শীর্ষে গৌতম গম্ভীর। কিন্তু কুর্সি বদলালেও ভাগ্যের ফের কাটেনি। জোটেনি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ানোর সুযোগ। একবারও না!
গত বছর বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি এবং এ বছর অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি। দু-দুটো হাইভোল্টেজ টুর্নামেন্টে দলে থেকেও শিকে ছেঁড়েনি অভিমন্যুর। এটা কি নিছক মন্দভাগ্য? ব্যতিক্রমী দুর্দশা? নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?
জবাব না হোক, জবাবের একটা সংকেত আগামী সিরিজে মিললেও মিলতে পারে।