ক্রিকেটের বাইরে অন্য খেলাতেও ফিটনেস টেস্ট সাধারণত নির্দিষ্ট কেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হয়। ফুটবল, রাগবি বা হকি—যেখানে নিয়ম এক, সেখানে ভারতীয় ক্রিকেটে ভৌগোলিক নমনীয়তা কতটা গ্রহণযোগ্য?

বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 3 September 2025 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে ফিটনেস এখন ধর্মের মতো। বিশেষত, গৌতম গম্ভীরের জমানায় খেলোয়াড়দের শারীরিক কসরতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সহজতর ‘ইয়ো ইয়ো টেস্টে’ (Yo-Yo Test) যবনিকা টেনে আনা হয়েছে কঠিনতর ‘ব্রঙ্কো টেস্ট’ (Bronco Test)। নিয়ম একটাই—বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (COE) হাজির হয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। রোহিত থেকে বুমরাহ, গিল থেকে সিরাজ—সবার ক্ষেত্রেই এক বিধি অক্ষরে অক্ষরে মানা হয়েছে।
কিন্তু এক ব্যতিক্রম একজন। বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। আর তাঁকে নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক ঘনিয়ে উঠেছে। লন্ডনে (London) সপরিবারে রয়েছেন, অনেক দিন হল। ঠিক তখনই পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি বিদেশে বসে বাধ্যতামূলক ফিটনেস টেস্ট দিলেন। বিসিসিআইয়ের অনুমতিতে। আর এখানেই দানা বেঁধেছে প্রশ্ন—নিয়ম সবার জন্য আদৌ সমান? নাকি সিনিয়রের জন্য ‘বিশেষ ছাড়পত্র’ গোছের কোনও বর্গ খুলে গেল?
‘দৈনিক জাগরণে’র প্রতিবেদন মতে, কোহলি আগেভাগে অনুমতি চান। বোর্ড তাতে সায়-ও দেয়। এক সিনিয়র আধিকারিকও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘কোহলি নিশ্চয়ই আগাম অনুমতি নিয়েছিলেন!’ কিন্তু আড়ালে নীরব প্রশ্ন খোঁচা মারছে—এমন ব্যতিক্রম যখন সম্ভব, তখন অন্য ক্রিকেটাররাও কি ভবিষ্যতে একই দাবি তুলতে পারেন না?
এর আগে অগস্টের ২৯ তারিখ বেঙ্গালুরুর মাঠে হাজির ছিলেন রোহিত শর্মা, জসপ্রীত বুমরাহ, শুভমান গিল, মহম্মদ সিরাজ, হার্দিক পাণ্ডিয়া, কুলদীপ যাদব, মহম্মদ শামি, সঞ্জু স্যামসন, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, অভিষেক শর্মা, ঋষভ সিংহ। বেশিরভাগই ন্যূনতম মানদণ্ড ছুঁয়েছেন। কেউ কেউ চোট বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে আংশিক পরীক্ষা দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে বসবেন কেএল রাহুল, রবীন্দ্র জাদেজা, ঋষভ পন্থ, নীতিশ রেড্ডির মতো ক্রিকেটাররা।
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানানোর পর বিরাট কোহলি এই মুহূর্তে ওয়ান ডে খেলছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আসন্ন সিরিজে তাঁর নাম পাকা। কিন্তু ফিটনেস টেস্ট বিদেশে দেওয়ার অনুমতি আদৌ নিয়মসঙ্গত কি না, সেই নিয়েই সংশয়। বোর্ড বলছে—এটা নিছকই ব্যতিক্রম। কিন্তু সমালোচকরা মনে করছেন, এর মধ্যেই বিসিসিআইয়ের নিয়ন্ত্রণগত ফাঁক স্পষ্ট।
ক্রিকেটের বাইরে অন্য খেলাতেও ফিটনেস টেস্ট সাধারণত নির্দিষ্ট কেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হয়। ফুটবল, রাগবি বা হকি—যেখানে নিয়ম এক, সেখানে ভারতীয় ক্রিকেটে ভৌগোলিক নমনীয়তা কতটা গ্রহণযোগ্য? বোর্ড এতদিন জোর দিয়ে আসছিল, ফিটনেস টেস্ট বাধ্যতামূলক ও অভিন্ন। এখন হঠাৎ ব্যতিক্রম নজির তৈরি করলে ভবিষ্যতে নীতি প্রণয়ন কি আদৌ কঠোর থাকবে?
ইয়ো-ইয়ো টেস্ট থেকে শুরু করে নিয়মিত মূল্যায়ন—ফিটনেস নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের ভাবমূর্তি বেশ উজ্জ্বল। এখন সিনিয়রদের জন্য ভিন্ন নিয়ম চালু হলে তা জুনিয়রদের অসন্তুষ্ট ও অসহিষ্ণু করতে পারে। ধরতে পারে খেলোয়াড়–বোর্ড সম্পর্কে ফাটলও।