প্রাচীন আয়ুর্বেদিক তেল নালপামারাদি এখন জেন জি-র স্কিন কেয়ারে নতুন ভরসা। কেরলের এই ভেষজ তেল কেন এত জনপ্রিয়, জানুন তার কারণ ও উপকারিতা।

কেরালা তেল
শেষ আপডেট: 19 March 2026 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাকৃতিক স্কিনকেয়ারের (skincare) দিকে ঝোঁক বাড়তেই ফের চর্চায় উঠে এসেছে আয়ুর্বেদিক (Ayurvedic) এক পুরনো তেল—নালপামারাদি তৈলম (Nalpamaradi Tailam)। ত্বক উজ্জ্বল করা থেকে ট্যান (tan) দূর করা—বহু গুণে ভরপুর এই তেল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) রীতিমতো ভাইরাল (viral)।
কেরলের (Kerala) ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে উঠে আসা নালপামারাদি তৈলম (Nalpamaradi Tailam) মূলত ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের রং উন্নত করা, সান ট্যান কমানো এবং স্কিন টেক্সচার (skin texture) ঠিক রাখতে এই তেলের ব্যবহার বহুদিনের। সাধারণত নারকেল তেল (coconut oil) বা তিলের তেল (sesame oil)-কে বেস (base) হিসেবে ব্যবহার করে এই তেল তৈরি হয়।
বর্তমানে ‘ন্যাচারাল বিউটি’ (natural beauty) এবং ‘ট্র্যাডিশনাল ওয়েলনেস’ (traditional wellness)—এই দুই ট্রেন্ডের মিশেল হিসেবেই নালপামারাদি তৈলম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। রাসায়নিকমুক্ত (chemical-free) পণ্য ব্যবহারের ঝোঁক বাড়ায় অনেকেই এই ধরনের ভেষজ (herbal) সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন।
এর জনপ্রিয়তার আরও একটি বড় কারণ—চোখে পড়ার মতো ফলাফল। বহু ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিফোর-আফটার’ (before-after) ছবি শেয়ার করে দাবি করছেন, নিয়মিত ব্যবহারে ট্যান কমে, ত্বক মসৃণ হয় এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। ইনফ্লুয়েন্সার (influencer) ও স্কিনকেয়ার অনুরাগীদের ইতিবাচক মতামতও নতুন প্রজন্মকে এই পণ্যের দিকে টানছে।
নালপামারাদি তৈলমের মূল উপাদান চার ধরনের ফিকাস (Ficus) গাছের ছাল—বট (banyan), অশ্বত্থ (peepal), যজ্ঞডুমুর (cluster fig) এবং ডুমুর (Indian fig)। এগুলি ত্বককে বিভিন্ন সমস্যা থেকে সারাতে এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকে হলুদ (turmeric), খাস (vetiver), আমলকি (amla)-সহ আরও নানা ভেষজ উপাদান, যা ত্বককে পুনরুজ্জীবিত (rejuvenate) করে।
এই তেলের ইতিহাসও বেশ পুরনো। প্রায় ৩,০০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে নালপামারাদি তৈলম (Nalpamaradi Tailam)। অতীতে পোড়া ক্ষত (burn wound) সারাতে এবং ত্বকের প্রদাহ (inflammation) কমাতে এটি ব্যবহৃত হত। এমনকি নবজাতকের (neonatal) ত্বক নরম রাখতে ধাত্রীরা (midwives) এই তেলের পাতলা সংস্করণ ব্যবহার করতেন।
বিশ্বযুদ্ধের (World Wars) সময় কেরল ও তামিলনাড়ুতে (Tamil Nadu) এই তেলের ব্যবহার নতুন করে জনপ্রিয় হয়। নারীরা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে এই তেল তৈরি করে সংরক্ষণ করতেন। সেই থেকেই ধীরে ধীরে এটি ঘরোয়া চিকিৎসার অংশ হয়ে ওঠে।
সময়ের সঙ্গে আয়ুর্বেদিক গ্রন্থ (Ayurvedic texts) ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এই তেল। এখন আধুনিক স্কিনকেয়ার রুটিনেও জায়গা করে নিয়েছে নালপামারাদি তৈলম—পুরনো বিশ্বাস আর নতুন ট্রেন্ডের মেলবন্ধনে।