বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina, former Prime Minister of Bangladesh) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতা বিরোধী মামলার শুনানি চলছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 3 August 2025 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina, former Prime Minister of Bangladesh) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতা বিরোধী মামলার শুনানি চলছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (Bangladesh International Crimes Tribunal at Dhaka)। গত বছর জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের আত্মীয়দের কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে রবিবার। রবিবারই সূচনা হল সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব।
এই কারণে রবিবার ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইনজীবী তথা অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জামান Md Asaduzzaman, Atorney General of Bangladesh)। সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি পয়লা দিনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ সাজা (highest punishment) দাবি করেন। হাসিনা ও তাঁর সময়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে যে সব মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলির বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই ট্রাইব্যনালের আইনে সর্বোচ্চ সাজার বিধান রয়েছে মৃত্যুদণ্ড। বাংলাদেশে এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ফাঁসি দিয়ে।
এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের অনেকেই হাসিনার ফাঁসি দাবি করেছেন। তবে তা আদালতের বাইরে, রাজনৈতিক দাবি। সরকারের প্রধান আইনজীবীর মামলার শুনানি শুরুর দিনে সর্বোচ্চ সাজা দাবি বিচারের ন্যায্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় নিয়ম হল, অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হলে তারপর সাজা নিয়ে আইনি লড়াই চলে। বাংলাদেশের বিচার অঙ্গনে ইউনুস সরকারের ভূমিকা নিয়ে আগেই অভিযোগ উঠেছে। রবিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের সূচনা বক্তব্য হাসিনার মামলাকে লঘু করে দিল বলে মনে করছেন আইনজীবীদের অনেকেই।
শুধু মৃত্যদণ্ড দাবি করাই নয়, অ্যাটর্নি জেনারেল রবিবার রীতিমতো রাজনৈতিক বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বিশ্বের এক নম্বর স্বৈরাচারী। স্বৈরাচারীদের কোনও সংগঠন তৈরি করা হলে হাসিনা হবেন সভাপতি। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী ব্যবস্থা নিয়ে কেউ পিএইচডি করলে হাসিনা হতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ, উপযুক্ত গাইড।
শুনানিতে সূচনা বক্তব্য শেষে তিনি বলেন, আমরা কোনও ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে কালিমা মুক্ত করতে কাজ করছি্। পূর্ব ঘোষণামতো রবিবার ট্রাইব্যুনালের শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। একাধিক বেসরকারি টিভিও লাইভ সম্প্রচার করে।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা হবে। উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বিচারে।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন। হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশেই আন্দোলন দমনে পুলিশ গুলি চালায় বলে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দিতে দাবি করেছেন সাবেক পুলিশ প্রধান।